০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০৯:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রয়টার্সকে তারেক রহমান- জাতীয় সরকার নয় বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করবে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বিএনপির ইশতেহার, মুক্তিযুদ্ধ-জুলাই চেতনায় দেশ গড়াসহ যুগোপযগী সহ নানা প্রতিশ্রুতি ওয়ারেন্ট ছাড়া বাড়িতে প্রবেশের গোপন নীতি আইসের উবার ও লিফট চালকদের অধিকার রক্ষায় ডিঅ্যাকটিভেশন বিল পাস ৩ লাখ অভিবাসী শিশুর খোঁজে ফেডারেল অভিযান, ১.৪৫ লাখ শনাক্ত ৭৫ দেশের অভিবাসনে নিষেধাজ্ঞা : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা গুলিতে আহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক, পুলিশের বক্তব্যে পরিবারের আপত্তি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরে আইসকে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ‘নিরাপত্তা সতর্কতা’ জারি


বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০২-২০২৬
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কী কী করবে, সেই ফর্দ জাতির সামনে তুলে ধরেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এ নির্বাচনি ইশতেহার সাজানো হয়েছে।


তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে’ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ‘জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠন করবে। ‘দুর্নীতি, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।



তিনি বলেন, “আপনাদের সামনে আমি এতক্ষণ পর্যন্ত যত প্ল্যান, প্রোগ্রাম, কর্মসূচি, পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি, তার কোনোকিছুই করা সম্ভব হবে না যদি না আমরা তিনটি বিষয়ের উপরে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিই।


“আমি ব্যক্তিগতভাবে, একজন মানুষ হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মনে করি— দুর্নীতি, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা, আমরা যদি এই তিনটির ব্যাপারে, যারাই সরকার গঠন করবেন, আমরা যদি এই তিনটির ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তাহলে আমরা আমাদের কোনো পরিকল্পনাকেই সফল করে গড়ে তুলতে পারব না।”


শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে কোরাআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়।



অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।


এরপরপর নির্বাচনি ইশতেহার উপস্থাপন করতে স্টেজে আসেন তারেক রহমান। ৪৪ পৃষ্ঠার এই ইশতেহার বাংলা ও ইংরেজি কপি অতিথিদের সরবারহ করা হয়।


তারেক বলেন, “এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।”


ইশতেহারের মুখবন্ধে বলা হয়, “বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন, ভালো নয়, অধিকার বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা–এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।


“জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, সেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষ্যমের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে–সবার আগে বাংলাদেশ।”




৯ বিষয়ে অগ্রাধিকার


>> প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।


>> কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে 'কৃষক কার্ড'-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষী, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।


>> দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।


>> আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং 'মিড-ডে মিল' চালু করা হবে।


>> তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।


>> ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।


>> পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।


>> ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।


>> ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং 'মেড ইন বাংলাদেশ' পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।




ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমরা যখন প্রথম দেশের মানুষের সামনে ৩১ দফা, ২০২৩ সালে ২৭ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। তখন ৩১ দফা বা জুলাই সনদের বিষয়টি তখন ছিল না। যেহেতু এটি আমাদের জাতির জন্য সবকিছু মিলে একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয় সেজন্য এটিকে আমরা সামনে নিয়ে এসেছি।


“কাজেই আমাদের জাতি গঠন এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে যদি আমাদের শক্তিশালী করতে হয়, আমরা বিশ্বাস করি যে ৩১ দফা এবং জুলাই সনদে যেটি আছে, সেটিকে অবশ্যই আমরা বাস্তবায়ন করব।”


বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি চাই না। দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষ এই কথা বলবে। সেজন্যই আমরা এটিকে গুরুত্ব আরোপ করেছি এবং এই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি যদি না চাই, অবশ্যই আমাদেরকে ডেমোক্রেটিক প্রসেস বা গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।


“একটি বিষয় আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে, সেটা হচ্ছে জবাবদিহিতা বা অ্যাকাউন্টেবিলিটি। আমাদের সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যেকটি স্তরে, সরকার পরিচালনার প্রত্যেকটি স্তরে ধীরে ধীরে আমাদেরকে অ্যাকাউন্টেবিলিটি বা জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অর্থাৎ যারা যে দায়িত্বে থাকবেন, তাদেরকে অবশ্যই জনগণের কাছে কোনো না কোনোভাবে তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”


তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য থাকবে ‘যে কোনো মূল্যে’ সুশাসন নিশ্চিত করা।


“এর ভিতরে অবশ্যই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ন্যায়পাল নিয়োগ করা। যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সুশাসনকে নিশ্চিত করার একধাপ এগিয়ে যাব।”


সংবিধান সংস্কার


# তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি সংযোজন করেছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের সময়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি সরিয়ে দেওয়া হয়।


“ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা সংবিধান সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এই রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে আমরা সংবিধানে এটিকে পুনঃস্থাপন করতে চাই।”


# তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে নিয়ম করবে, যাতে একজন ব্যক্তি দশ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে না পারেন।


# সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ‘দুয়েকটি বিষয় ছাড়া’ ফ্লোর ক্রসিংয়ের সুযোগ উন্মুক্ত করে দিতে চায় বিএনপি।


# সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন করে রাজনীতিবিদদের বাইরেও অন্যান্য শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে চায় বিএনপি।


# রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়টিও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিএনপি নিশ্চিত করতে চয়।





আরো যা যা প্রতিশ্রুতি


>> ‘ফ্যাসিবাদ ও তাঁবেদারিত্বের’ পুনরাবৃত্তি দমন


>> বৈষম্য দূর করে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা


>> বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটানো


>> গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণার্থে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠা


>> শহীদদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ, শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা


>> বৈষ্যম দূর করে ‘মেরিটোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা


>> জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ


>> রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়ে নীতিমালা তৈরি


>> মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা


>> বিচার বিভাগের স্বাধীরনতা নিশ্চিত করা, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ধারাবাহিকতা রক্ষা


>> ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন


>> স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পেশাদারত্ব বৃদ্ধি ও দলীয়করণ রোধ


>> পুলিশ কমিশন ও সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, স্বতন্ত্র তদন্ত সার্ভিস চালু


>> নারীর ক্ষমতা বাড়ানো


>> পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন


>> বেসরকারি ব্যক্তিদের জন্য পেনশন ফান্ড গঠন


>> পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকার ভাতা চালু করা


>> ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ


>> শিশুশ্রম পুরোপুরি বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা


>> নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন ও সঞ্চালনের সক্ষমতা বৃদ্ধি


>> ২০৩০ সালের মধ্যে ২০% বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন


>> প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০% হ্রাস, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদন


>> বিনিয়োগ জিডিপির ২.৫ শতাংশে উন্নীত করা


>> পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন


>> উচ্চবিত্তদের করজালে আনা, প্রশাসন সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব ১০% বাড়ানো


>> সবার জন্য নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান


>> রেল পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ


>> আঞ্চলিক সুষম উন্নয়ন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্ততাদের সহায়তা দেওয়া


>> রেলওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে রাজধানীর আশপাশে স্যাটেলাইট শহর তৈরি করে রাজধানীর ওপর চাপ কমানো


>> ইকো ট্যুরিজমের বিকাশ, কক্সবাজার ছাড়াও সুন্দরবন, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা


>> তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান


>> গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন





‘প্রতিশোধ নয়’


তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে বিএনপির কর্মী সমর্থকসহ বহু মানুষ ‘গুম খুন এবং অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার’ হয়েছে।


“এখানে আমন্ত্রিত সকল অতিথির সামনে আমরা বলতে চাই, অবশ্যই আমরা চাই না যে বিভীষিকার ভিতর দিয়ে বিএনপি গিয়েছে, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে হোক। কারণ এই ঘটনার যদি পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে কোনভাবেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব না।


“আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আমাদের নেতাকর্মীরা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, সহায় সম্পত্তি হারিয়েছে। কিন্তু প্রতিশোধ কখনো শান্তি এনে দিতে পারে না, প্রতিশোধ কখনোই ভালো কিছু এনে দিতে পারে না। সেজন্যেই আমরা মনে করি, সর্বস্তরে যত দ্রুত সম্ভব আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এই দেশ এবং জাতিকে রক্ষা করতে পারে।”


সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার


প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তৃতার একেবারে শেষে তারেক রহমান বলেন, “আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমার দলের পক্ষ হয়ে আমি আপনাদেরকে এতটুকু বলতে চাই যে—আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইনশাআল্লাহ সরকার গঠনে সক্ষম হলে, আমাদের সর্বাধিক আর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে এই তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করা— দুর্নীতি, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা। যে কোনো মূল্যে আমরা এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।”


সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।


শফিক রেহমান, মতিউর রহমান, মতিউর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।


শরিক দলের নেতাদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রব ইউসুফীসহ সিনিয়র নেতারা ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাসমুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লা্হ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, গোলাম আকবর খন্দকার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, নজমুল হক নান্নু, নাজিম উদ্দিন আলম, সুজা উদ্দিন, এস এম ফজলুল হক, বিজন কান্তি সরকার, আমিনুর রশিদ ইয়াছিন ছিলেন।


এছাড়া অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আনম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরাও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান; এটাই তার প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা।


পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনিই প্রতিটি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।


২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি ছিলেন। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।

শেয়ার করুন