০৯ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ০১:৪৮:৫৪ পূর্বাহ্ন


বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সভায় তথ্য
গায়েবি মিডিয়ার ভুতুড়ে বিল
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০১-২০২৬
গায়েবি মিডিয়ার ভুতুড়ে বিল


প্রবাসে মাদার সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি। বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কার্যকরি কমিটির সাধারণ সভা গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সভাটি উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সভায় বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ এবং আজীবন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে যারা নভেম্বরের মধ্যে সদস্য পদ নবায়ন করেছিলেন তারাই অংশগ্রহণ করেন। সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। সাধারণ সভার নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী তার রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। তার পরপরই কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমি আয়-ব্যয়ের হিসাবে উপস্থাপন করেন।

সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী তার রিপোর্টে কৌশলে বিগত কমিটির এমন কিছু বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন, যা নিয়ে বর্তমান কমিটি এবং বিগত কমিটির সদস্যদের মধ্যে সাধারণ সভায় তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্কে বলতে গেলে পুরো সময়ই শেষ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করা। কিন্তু সময়ের অভাবে তা করা হয়নি। আর যারা গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে দুটো গ্রুপ ছিল। একটি গ্রুপ ছিল বর্তমান কমিটির পক্ষে আরেক গ্রুপ ছিল বিগত কমিটির পক্ষে। সবাই দোষ চাপানো এবং দায়মুক্তির রাজনীতি করেছেন।

কোষাধ্যক্ষের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কমিটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত এবং প্রচারিত ২২টি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। তারা নিজেরাই বিভিন্ন মিডিয়ার বিজ্ঞাপনের রেপ ঠিক করেছেন। প্রশ্ন হলো, নিউইয়র্ক থেকে কি ২২টি মিডিয়া প্রকাশিত বা প্রচারিত হয়? কোন মাপকাঠিতে এসব মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো? আবার প্রিন্ট মিডিয়া যা বিল পায় তার চেয়ে কীভাবে অন লাইন মিডিয়া বেশি বিল পায়? অন্যান্য বার এটা দেখা যেত না, কারণ মিডিয়ার বিল একত্রে দেখানো হতো। এবারই প্রথম মিডিয়ার বিল প্রতিষ্ঠানের নামে নামে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে বিল দেওয়া কারণে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। বেশ কিছু গায়েবি মিডিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, ভুয়া বিল লক্ষ করা গিয়েছে। আবার ব্যক্তিগতভাবেও কাউকে কাউকে বিল দেওয়া হয়েছে। সাবেক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তাদের আমলেও এই ধরনের বিল ছিল। বাংলাদেশ সোসাইটির একজন কর্মকর্তাই সেই বিল নিয়ে থাকেন। যাদের নামে নিয়ে যান তারা পান কি না, তার খবর সোসাইটির কর্মকর্তাদের কাছে নেই। বা যেন প্রতিষ্ঠানের নামে বিল নেওয়া হচ্ছে- সেই নামে কোন মিডিয়া আছে কি না তারও খবর নেওয়ার চেষ্টা করেন না কর্মকর্তারা। অনেকটা সরকারি মাল দরিয়ামে ঢাল। বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি জানান, তাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেভাবে বলেন বা তারা যা অনুমোদন করেন সেই বিলই তিনি দিয়ে থাকেন। তার বাইরে তিনি কিছু করেন না।

কোষাধ্যক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এবার বাংলাদেশি সোসাইটির বেশি বিল দেওয়া হয়েছে একটি অনলাইন নিউজ মিডিয়াকে। এটাকে নিউজ মিডয়া না বলে ফেসবুক লাইভ বলা অনেক শ্রেয়। হাতে একটি ফোন, নামে একটি মিডিয়া। ফোনটি দিয়ে ফেইসবুকে লাইভ দিয়েই কিস্তিমাত। ঠিকানার মত পুরো পত্রিকাও তার চেয়ে কম বিল পায়। জনপ্রিয় আজকাল, বাঙালি-সবাই সে ফেসবুক লাইভের চেয়ে কম বিল পেয়ে থাকে। তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সোসাইটির যতগুলো বিজ্ঞাপন চাপ হয়েছে, তার মধ্যে চারটি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো মিডিয়ার ২ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আবার স্বজনপ্রীতির বিলও লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশ সোসাইটি সাধারণত বাংলাদেশে কোনো টিভি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেয় না। কিন্তু এবার দেখা গেল মাই টিভিকে বিল দেওয়া হয়েছে। তাও এককালীন ৫০০ ডলার। নাম অনুযায়ী অনলাইনে চার্জ করে মিডিয়ার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, সেসব গায়েবি মিডিয়ার ভুতুড়ে বিলে দেখা গেছে, দ্যুতিময় ইনক ও জিরোনি বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ইনব। দ্যুতিময় ইনকের বিল দেওয়া হয়েছে-চার বারে ৫৫০ ডলার। জিরোনি বিজনেস ডেভেলপমেন্টকে চারবারে বিল দেওয়া হয়েছে ৭৫০ ডলার। আর যেসব বিল দেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-ঠিকানা চারবারে ৭০০ ডলার, আজকাল দুই বিলে ৪০০ ডলার, বাঙালি দুই বিলে ৪০০ ডলার, দেশ দুই বিলে ৩০০ ডলার। সাপ্তাহিক বাংলাদেশ চার বিলে ৬৫০ ডলার, বর্ণমালা (অনলাইন) ২ বিলে ৩০০ ডালার, ইউএস নিউজ মিডিয়া চারবারে ১০০০ ডলার (সর্বোচ্চ)। বিডিইয়র্ক (অনলাইন) ৫০০ ডলার। এনওয়াই কাগজ (অনলাইন) দুই বিলে ৩০০ ডলার। নিউইয়র্ক সময় চার বিলে ৬০০ ডলার (অনলাইন), বাংলা পত্রিকা চার বিলে ৭০০ ডলার। সাদাকালে এক বিলে ১৫০ ডলার, প্রথম আলো দুই বিলে ৪০০ ডলার, বাংলাদেশ প্রতিদিন দুই বিলে ৩০০ ডলার, সাপ্তাহিক প্রবাস তিন বিলে ৪৫০ ডলার, জন্মভূমি চার বিলে ৬০০ ডলার, পরিচায় তিন বিলে ৪৫০ ডলার, বাংলা ভিশন ৪০০ ডলার।

শেয়ার করুন