গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাফেলোতে নিউইয়র্ক স্টেটে অপরাধ হ্রাস ও জননিরাপত্তা বিষয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলেন গভর্নর হোচুল
নিউইয়র্ক স্টেটে বন্দুক সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় জননিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কবাসী। নিউইয়র্ক স্টেট থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক স্টেটের গান ইনভল্ভড ভায়োলেন্স এলিমিনেশন (জিভ) কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে বন্দুক হামলার ঘটনা, আহতের সংখ্যা এবং বন্দুক সহিংসতাজনিত মৃত্যুর হার সহ সবকিছুই রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গভর্নর হোচুল ২০২১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বন্দুক সহিংসতা মোট ৬১ শতাংশ কমেছে।
২০২৫ সালের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জিভ কর্মসূচির আওতায় থাকা ২৮টি আইনশৃঙ্খলা সংস্থার এলাকায় মোট ৪৯১টি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কেউ আহত হয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম। একই সময়ে বন্দুক হামলায় আহত ব্যক্তির সংখ্যা ২২ শতাংশ কমে ৭২৩ থেকে ৫৬৬-এ নেমে এসেছে। বন্দুক সহিংসতাজনিত মৃত্যুও ২৩ শতাংশ কমে ১১৬ থেকে ৮৯-এ দাঁড়িয়েছে, যা রাজ্যব্যাপী একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গভর্নর হোচুল এই রেকর্ড-নিম্ন পরিসংখ্যানের ঘোষণা দেন বাফেলো সিটি হলে, যেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাফেলো শহর জিভ কর্মসূচির আওতায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনকারী এলাকাগুলোর একটি। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাফেলোতে আহতসহ বন্দুক হামলার ঘটনা ১৯ শতাংশ কমেছে, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির সংখ্যা কমেছে ২৩ শতাংশ এবং বন্দুক সহিংসতায় মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ২৬ শতাংশ।
এছাড়াও অলবানি, রচেস্টার এবং সিরাকিউজ শহরেও বন্দুক সহিংসতার সূচকগুলোতে দ্বি-অঙ্কের হারে হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। এই শহরগুলোর ধারাবাহিক উন্নতি রাজ্যজুড়ে বন্দুক সহিংসতা কমানোর সামগ্রিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক সিটির বাইরেও ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট -এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরজুড়ে বন্দুক হামলার ঘটনা ২৪ শতাংশ কমেছে, গুলিবিদ্ধ ভুক্তভোগীর সংখ্যা কমেছে ২২ শতাংশ এবং বন্দুক সহিংসতাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি নির্দেশ করে।
নিউইয়র্ক সিটির বাইরে থাকা এলাকাগুলোতেও সামগ্রিক অপরাধের হার কমেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে সূচক অপরাধ ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। সূচক অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি ও গুরুতর হামলার মতো সহিংস অপরাধ, পাশাপাশি চুরি, বাসাবাড়িতে চুরি এবং মোটরযান চুরির মতো সম্পত্তিগত অপরাধ। বাফেলো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে শহরটিতে সূচক অপরাধ ১২ শতাংশ কমেছে।
গভর্নর হোচুলের প্রশাসন জননিরাপত্তা জোরদারে ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। তার ২০২৬ সালের স্টেট অব দ্য স্টেট প্রস্তাবের অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো কিছু আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য অবৈধ ‘হোমগ্রোন গান’ বা নিজস্বভাবে তৈরি বন্দুকের বিস্তার রোধ করা। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ থ্রিডি-প্রিন্টেড আগ্নেয়াস্ত্র এবং ডিআইওয়াই মেশিন গান দমনে কঠোর ব্যবস্থা।
বর্তমানে জিভ কর্মসূচির আওতায় রাজ্য সরকার বছরে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিচ্ছে। এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য সরঞ্জাম, অতিরিক্ত ওভারটাইম, জনবল নিয়োগ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তায়। জিভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ২৮টি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং তাদের অংশীদার জেলা অ্যাটর্নি অফিস, প্রোবেশন বিভাগ ও শেরিফ অফিসগুলো নিউইয়র্ক সিটির বাইরে সংঘটিত প্রায় ৯০ শতাংশ বন্দুক-সম্পর্কিত সহিংস অপরাধ এবং ৮৫ শতাংশ সামগ্রিক সহিংস অপরাধ মোকাবিলার দায়িত্ব পালন করছে।
নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেস স্টেটের অপরাধবিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সংস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বীকৃতি কর্মসূচি তদারকি, ব্রেথালাইজার ও গতি নির্ণয় যন্ত্রের মান নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ, অনুদান ব্যবস্থাপনা এবং যুব বিচার নীতিমালা সমন্বয়ের কাজ করছে।
গভর্নর ক্যাথি হোচুল বলেন, এই পরিসংখ্যানগুলো শুধু সংখ্যা নয়, এগুলো নিউইয়র্কের পরিবার ও কমিউনিটির জন্য বাস্তব অগ্রগতির প্রতিফলন। মানুষ যেখানে বাস করে, কাজ করে এবং সন্তান লালন-পালন করে, সেখানে তারা নিরাপদ বোধ করার অধিকার রাখে। জননিরাপত্তা আমার প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং আমরা সেই সব কৌশল ও অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব, যা বাস্তব ফলাফল দিচ্ছে।
নিউইয়র্ক স্টেটে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, তথ্যভিত্তিক পুলিশিং, কমিউনিটি অংশীদারিত্ব এবং কঠোর বন্দুক আইন।এই সবকিছুর সম্মিলিত ফল হিসেবেই নিউইয়র্ক রাজ্যে বন্দুক সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। গভর্নর হোচুলের প্রশাসন বলছে, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে এবং আরো নিরাপদ নিউইয়র্ক গড়ে তুলতে তারা ভবিষ্যতেও একইভাবে কাজ করে যাবে।