দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ভয়াবহ মাত্রায় কমছে। গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ২৭৫০ মিলিযন ঘনফুট থেকে কমে এখন ১৭৫০মিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিদিন কমছে গ্যাস উৎপাদন। এমতাবস্থায় দুটি ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে গড়ে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে আর এলএনজি সরবরাহ করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। ৭ টি গ্যাস ভিত্তিক সার কারখানার মাত্র দুটি চালু রাখা, সিএনজিতে গ্যাস রেশনিং করেও শিল্প কারখানা সমূহকে চাহিদা মোট গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
গ্যাস অভাবে ৫০% গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অলস বসে আছে। আর ইরান -যুক্তরাষ্ট্র- ইস্রায়েল যুদ্ধের প্রভাবে উচ্চ মূল্যে এলএনজি কিনতে বাধ্য হয়ে বাড়ছে পেট্রোবাংলার দেনার দায়। গ্যাস সরবরাহ চেন এখন ৩০% আমদানি নির্ভর। আর এই নির্ভরতার কারণে প্রতি ঘনফুট গ্যাস প্রায় ৩১,৬৫ টাকায় কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে ২৩.৬৩ টাকায়। পেট্রোবাংলা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন গ্যাস অনুসন্ধান এবং উন্নয়ন কার্যক্রম থেকেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে ২০৩০ নাগাদ ৭০% এলএনজি আমদানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হতে পারে।
২০২৪-২৫ সরকারকে ১৪,৬০০ কোটি টাকা সাবসিডি দিতে হয়েছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে ঘাটতি ছিল ১৬,৫০০০ কোটি টাকা। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পেট্রোবাংলা বিদ্যুৎ এবং সিএনজিতে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার প্রস্তাব প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো তাদের পরিচালনাগত ক্ষতি পোষানোর জন্য বিতরণ মার্জিন বাড়ানোর প্রস্তাব প্রস্তুত করছে।
বাড়তি মূল্য দিয়েও গ্রাহকরা মানসম্মত গ্যাস পাওয়ার কোন নিশ্চয়তা নাই। এমনি পরিস্থিতিতে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরের মুখ থুবড়ে পড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোন নিশ্চয় নাই। বর্তমানে চালু থাকা শিল্প কারকারখানা চালু রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
নতুন সরকার যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় লাগসই ব্যবস্থা গ্রহণে বার্থ হলে বিব্রত হবে সন্দেহ নেই। আমি এই অবস্থায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিকল্প দেখি না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প জ্বালানি কয়লা, পারমাণবিক বিদ্যুৎ, নবায়ণযোগ্য জ্বালানির অবদান বৃদ্ধি, গ্যাস চুরি অপচয় শুণ্যের কোঠায় নিয়ে আসা আর অবিলম্বে দেশের কয়লা উত্তোলনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া কোন বিকল্প নেই এখন আর।