২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিবোমা হামলা : গ্রেফতার ভিনসেন্ট ল্যাং নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সায়েদ নিউইয়র্কে ২.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি, পর্যটন ও ব্যবসায় বড় সাফল্য টেক্সাসে মুসলিম শিক্ষাবিদের মামলা গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসিএলইউর প্রতিবেদনে গ্রিনকার্ড মূল্যায়নে মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্প ও আবাসন সহায়তা বিবেচনায় নেবে ট্রাম্প প্রশাসন


ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৭-২০২৬
ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ব্রঙ্কসের ১৭২তম স্ট্রিটের একটি অংশের নামকরণ করা হয়েছে নিহত এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলামের নামে


কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গ করা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে ব্রঙ্কসে তার নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই এক আবেগঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৭২তম স্ট্রিটের একটি অংশের নতুন নামকরণ করা হয় ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’। সড়কটি বিচ অ্যাভিনিউ মোড়ে অবস্থিত, যেখানে দিদারুল ইসলাম তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।

২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে বন্দুকধারীর হামলায় দিদারুল ইসলামসহ চারজন নিহত হন। পুলিশ জানায়, সে সময় তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দায়িত্বে বা অফ-ডিউটি সিকিউরিটি অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাইফেল হাতে হামলাকারী ভবনের লবিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে হামলাকারী নিজেই আত্মহত্যা করে।মাত্র ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশি অভিবাসী এবং তিন সন্তানের জনক। তার মৃত্যুর পর এনওয়াইপিডি তাকে মরণোত্তর পদোন্নতি দিয়ে ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে উন্নীত করে।

অনুষ্ঠানে এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, এ সড়কটি এখন এমন একজন মানুষের নাম বহন করবে, যিনি নিউইয়র্ককে নিজের বাড়ি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং এ শহরকে রক্ষা করতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

দিদারুল ইসলামের কমান্ডিং অফিসার মুহাম্মদ আশরাফ বলেন, তিনি ছিলেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যাকে প্রত্যেক কমান্ডিং অফিসার নিজের দলে চাইবেন। নতুন সদস্যদের পথ দেখাতেন, প্রতিবেশীদের সাহায্যে এগিয়ে যেতেন এবং দায়িত্ব পালনে কখনো পিছপা হতেন না। দিদারের কাছে পুলিশি পেশা শুধু একটি চাকরি ছিল না বরং এটি ছিল তার জীবনের আহ্বান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দিদারুল ইসলামের ভগ্নিপতি জামিলুর রহমান বলেন, গত এক বছর ধরে পরিবারটি শোক বয়ে বেড়ালেও সবাই তার হাসিমুখ, ইতিবাচক মনোভাব ও মানুষের প্রতি সহমর্মিতার স্মৃতি বুকে ধারণ করে আছেন। তিনি বলেন, আমরা চাই নিউইয়র্ক সিটির মানুষও তাকে সেভাবেই স্মরণ করুক একজন সহায়ক, হাসিখুশি ও মানবিক মানুষ হিসেবে।

দিদারুল ইসলামের মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী জামিলা ইসলাম অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পর তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় ১১ মাস। পরিবারের সদস্যরা জানান, এখনো সন্তানরা বাবার শূন্যতা গভীরভাবে অনুভব করে। বিশেষ করে ছোট সন্তানটি প্রায়ই জানতে চায়, বাবা কবে বাড়ি ফিরবেন? পরিবার জানিয়েছে, দিদারুল ইসলামের বড় ছেলে আহিয়ান, যার বয়স এখন আট বছর, বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে পুলিশ কর্মকর্তা অথবা সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়।বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে দিদারুল ইসলাম সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার নামে সড়কের নামকরণকে নিউইয়র্ক সিটির পক্ষ থেকে এক বীর জনসেবকের প্রতি স্থায়ী শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন