৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ০৮:০০:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাসসের নবনিযুক্ত এমডি ও প্রধান সম্পাদককে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবর্ধনা বাসস'র এমডি ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পেলেন কাদের গনি চৌধুরী কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৯২, নিখোঁজ প্রায় ১,৪০০ আফগান-আমেরিকান হিসেবে প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসে আইশা ওয়াহাব আমেরিকানদের গৃহস্থালি ঋণ ১৮.৮ ট্রিলিয়ন, ক্রেডিট কার্ড ১.২৬ ট্রিলিয়ন ওহাইওতে মসজিদে সাত বছরে তৃতীয় হামলা জনপ্রিয় হচ্ছে তিন বছরের কলেজ ডিগ্রি, তবে আছে বিতর্ক মুসলিম নারীকর্মীর বৈষম্যের অভিযোগে ওক পার্ক সিটির বিরুদ্ধে মামলা সশস্ত্র ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি মহসিন রানা নিহত


এআইপ্যাক সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে মিশিগানে চমক দেখালেন ড. আবদুল এল-সায়েদ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০৮-২০২৬
এআইপ্যাক সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে মিশিগানে  চমক দেখালেন ড. আবদুল এল-সায়েদ




 


যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্র‍্যাটিক সিনেট প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছেন প্রগতিশীল ডেমোক্র‍্যাট নেতা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল এল-সায়েদ। চার মেয়াদের কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে তিনি দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই বিজয়কে ডেমোক্র‍্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব এবং ইসরায়েলপন্থী লবি আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপ্যাক)-এর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


প্রাথমিক ভোট গণনায় এল-সায়েদ এগিয়ে থাকলেও শেষ দিকে ব্যবধান দ্রুত কমে আসে। ভোট গণনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় ফল ঘোষণায় কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব হয়। ফল নিশ্চিত হওয়ার আগে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এল-সায়েদ বলেন, মিশিগানে ভোট গণনায় সময় লাগে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিপুল অর্থ ব্যয় ও সংগঠিত রাজনৈতিক প্রচারণার মুখেও তাঁর প্রচারণা সফল হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে পরাজিত করতে বিভিন্ন  গোষ্ঠী প্রায় ৭ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।


নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল ডেমোক্র‍্যাটিক পার্টির বড় একটি অংশের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার, সিনেট ডেমোক্র‍্যাটিক নেতা চাক শুমার, সাবেক সিনেটর ডেবি স্ট্যাবেনাও এবং বিদায়ী সিনেটর গ্যারি পিটার্সসহ দলের প্রভাবশালী নেতারা হেইলি স্টিভেন্সকে সমর্থন করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, সুইং স্টেট হিসেবে পরিচিত মিশিগানে সাধারণ নির্বাচনে জয়ের জন্য মধ্যপন্থী প্রার্থী বেশি কার্যকর হতে পারেন।


অন্যদিকে, এল-সায়েদের প্রচারণা গড়ে ওঠে প্রগতিশীল অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতির ওপর। তাঁর নির্বাচনী স্লোগান ছিলÑরাজনীতি থেকে অর্থ বের করুন, মানুষের পকেটে অর্থ দিন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করুন। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, মেডিকেয়ার ফর অল চালু, করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানো, ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।


পররাষ্ট্রনীতিতেও এল-সায়েদ স্পষ্ট অবস্থান নেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, বিদেশে যুদ্ধের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা উচিত। তবে প্রচারণায় তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁর মূল অগ্রাধিকার হলো মিশিগানের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।


এআইপ্যাক ও অন্যান্য ইসরায়েলপন্থী সংগঠন এল-সায়েদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। নির্বাচনের পর এক বিবৃতিতে এআইপ্যাক জানায়, সাধারণ নির্বাচনেও তারা রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন করবেন এবং এল-সায়েদের ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান ভোটারদের সামনে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে সংগঠনটি দাবি করে, চলতি নির্বাচনী মৌসুমে তাদের সমর্থিত অধিকাংশ প্রার্থীই বিজয়ী হয়েছেন।


এল-সায়েদের বিজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে আক্রমণ করে কমিউনিস্ট বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর ইসরায়েল-সংক্রান্ত অবস্থানের সমালোচনা করেন।


প্রগতিশীল ডেমোক্র‍্যাট নেতা ও সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স অবশ্য এল-সায়েদের জয়কে সাম্প্রতিক মার্কিন রাজনীতির সবচেয়ে অসাধারণ বিজয়গুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রায় নয় গুণ কম অর্থ ব্যয় করে, দলীয় প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা এবং শক্তিশালী লবিং গোষ্ঠীর প্রচারণা মোকাবিলা করে অঙ্গরাজ্যজুড়ে নির্বাচনে জয় পাওয়া একটি বিরল ঘটনা।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এল-সায়েদের বিজয় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুধু বিপুল অর্থ ব্যয় বা দলীয় শীর্ষ নেতাদের সমর্থন এখন আর ডেমোক্র‍্যাটিক প্রাইমারিতে জয় নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, আরব-আমেরিকান, মুসলিম-আমেরিকান এবং প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে গাজা যুদ্ধ, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তাঁর অবস্থান উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে।



আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে এল-সায়েদ মুখোমুখি হবেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের। রিপাবলিকানদের পাশাপাশি এআইপ্যাকও ওই নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে। ফলে মিশিগানের এই লড়াই শুধু একটি সিনেট আসনের নির্বাচন নয়; এটি ডেমোক্র‍্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ আদর্শিক দিকনির্দেশনা, প্রগতিশীল রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনে অর্থশক্তির প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে।  

শেয়ার করুন