অধ্যাপক জন এল. এস্পোসিতো
ইসলাম ও মুসলিম খ্রিস্টান সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা ও বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবশালী মার্কিন পণ্ডিত অধ্যাপক জন এল. এস্পোসিতো আর নেই। গত ১৫ জুলাই হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর জটিলতায় ৮৬ বছর বয়সে গত ৫ আগস্ট তিনি মারা যান। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের একাডেমিক জীবনে এস্পোসিতো পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম অধ্যয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা, নেতিবাচক স্টেরিওটাইপ এবং সাংস্কৃতিক পূর্বধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি মুসলিমদের নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝার ওপর জোর দেন।
১৯৪০ সালে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণকারী এস্পোসিতো টেম্পল ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামিক স্টাডিজে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন খ্যাতনামা ইসলামি চিন্তাবিদ ইসমাইল রাজি আল ফারুকি। প্রায় দুই দশক কলেজ অব দ্য হলি ক্রসে শিক্ষকতা করার পর ১৯৯৩ সালে তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন।
জর্জটাউনে এস্পোসিতো সেন্টার ফর মুসলিম ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিং প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৫ সালে বড় ধরনের অর্থায়নের পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল সেন্টার ফর মুসলিম ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিং রাখা হয়। তার নেতৃত্বে কেন্দ্রটি ইসলাম, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং মুসলিম সমাজ ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
ইসলামবিদ্যার পাশাপাশি ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও এস্পোসিতোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি জর্জটাউনের ব্রিজ ইনিশিয়েটিভ প্রতিষ্ঠা করেন। এ গবেষণা উদ্যোগ ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিমবিরোধী পক্ষপাতের বিস্তার, কারণ ও প্রভাব নথিভুক্ত করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
এস্পোসিতো ৪৫টিরও বেশি বই লিখেছেন, সহলেখক ছিলেন অথবা সম্পাদনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ইসলাম: দ্য স্ট্রেইট পাথ, দ্য ইসলামিক থ্রেট : মিথ অর রিয়েলিটি? এবং ইব্রাহিম কালিনের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা ইসলামোফোবিয়া : দ্য চ্যালেঞ্জ অব প্লুরালিজম ইন দ্য টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি। তিনি দ্য অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব ইসলাম, দ্য অক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব দ্য মডার্ন ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এবং ‘দ্য অক্সফোর্ড হিস্ট্রি অব ইসলাম’সহ গুরুত্বপূর্ণ অক্সফোর্ড রেফারেন্স গ্রন্থের সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেন।
শুধু একাডেমিক অঙ্গনেই নয়, সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও নীতিনির্ধারকদের কাছেও এস্পোসিতোর গবেষণা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আমেরিকান একাডেমি অব রিলিজিয়ন, মিডল ইস্ট স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা এবং আমেরিকান কাউন্সিল ফর দ্য স্টাডি অব ইসলামিক সোসাইটিজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।