১০ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ০৭:০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাকিব প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- ‘আর কোনো সুযোগ নেই’ ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি এআইপ্যাক সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে মিশিগানে চমক দেখালেন ড. আবদুল এল-সায়েদ ‘দেশের গ্রেট প্লেয়ার সিমপ্যাথি ছিল,আসলে সে খুনীর প্রমাণিত দোসর, ফ্যাসিস্ট’ মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ায় ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে মামলা ২৫ হাজার ডলার লুটের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে হাসপাতালে ১, গ্রেফতার ১ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান নিউইয়র্কে আইসের মুখোশ নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ


এশিয়াকাপে আফগানদের হত্যাযজ্ঞ
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০৮-২০২২
এশিয়াকাপে আফগানদের হত্যাযজ্ঞ আফগানিস্তানের টি-২০ স্কোয়াড/ছবি সংগৃহীত


প্রথমে করনার অভিঘাত, তারপর শ্রীলংকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা। এশিয়াকাপটা সেই শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা থাকলেও সেটা শিফট হয়ে এখন দুবাইয়ে।  কাল সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হয় ১৫ তম এশিয়া কাপ টুর্নামেন্ট। যার উদ্ধোধনী ম্যাচে নির্মম হত্যাযজ্ঞ নিষ্ঠুর ভাবে চালিয়েছে আফগানিস্তান। টস জয় করে শ্রীলংকাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে ১০৫ রানের মামুলি সংগ্রহে বেঁধে ফেলে।


এরপর অনেকটা হেসে খেলেই আফগানরা ( ১০৬/২ করে) হত্যা করেছে অসহায় লংকানদের। ম্যাচে কখনো মনেই হয়নি ৫ বারের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে খেলেছে আফগানরা। দলটি সবুজ ঘাসের প্রাচুর্যে ঢাকা উইকেটে টস জয় করা থেকেই শরীরী ভাষায় জয়ের নেশায় ছিল  উন্মুখ। ক্ষুরধার বোলিং আর তুখোড় ফিল্ডিংয়ে ছিল জয়ের নেশা। আর তাই ওদের নিরঙ্কুশ জয়ে বিষয়টি হয় নি। তিন দলের মৃত্যুকূপ থেকে ওরা  এখন সেরা হয়ে বিসনেস রাউন্ডের প্রধান দাবিদার। 

টি- ২০ ফরম্যাটে খেলা ৬ জাতির এবারের এশিয়া কাপ বিশ্বকাপের ড্রেস রিসার্সেল বলা যায়। দুই গ্রুপে বিভক্ত ৬ দল থেকে ৪ টি খেলবে নক আউট পর্ব। গ্রুপ এ থেকে পাকিস্তান ভারত অনেকটা নিশ্চিত হলেও আফগানিস্তান বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকা থেকে উন্নীত হবে দুটি দল।  শ্রীলংকার পরাজয়ে এখন সবার দৃষ্টি থাকবে বাংলাদেশ শ্রীলংকা ম্যাচে। দৃষ্টি থাকছে বাংলাদেশ , আফগানিস্তান ম্যাচ পানেও।  

নানা সমীকরণ ছিল কাল খেলা প্রথম ম্যাচের উপর। তীব্র গরম, মরুর বুকে লু হাওয়া।  দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সবুজ ঘাসের গালিচার মাঝে ঘষে ঢাকা উইকেটে টস জয় ছিল অর্ধেকটা ম্যাচ জিতে নেয়া। বোলিং বেঁচে নিতে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবীকে আদৌ বেগ পেতে হয় নি। ওদের দুই কৃতি নবীন পেসার ফারুকী ,নাভীন কিছুটা ভেজা সবুজ উইকেটের সহায়তা নিয়ে শুরুতেই চেপে ধরে লংকানদের। উদীয়মান বাহাতি পেসার ফারুকীর প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে হ্যাশ ফাঁস করতে থাকে ওরা। নাভিনের বলে নিশাকার আউট নিয়ে কিছুটা সন্দেহ ছিল। গুনাটিলাকা আর রাজাপাকসের যোগাযোগে সীমিত সময়ের জন্য লড়াই করেছিল লংকান লায়ন্সরা।


কিন্তু শুরুতেই পিচিয়েসি পড়া লংকানদের বিশ্ব মানের ত্রিমুখী স্পিন আক্রমণে দিশেহারা করে দেয় মুজিব, নবি, রাশিদ। ওদের করা ১২ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট তুলে নেয়া আফগানিস্তান মাত্র ১০৫ রানে সঙ্গে করে লংকান ইনিংস। রাজাপাকশে (৩৮) , চামিকা (৩১) , গুনাথিলাকা (১৭) ছাড়া বাকি ৮ জন দুই অংকের ঘরেই পৌঁছতে পারেনি।  আফগান আক্রমণের মূল অস্ত্র ছিল সদ্য কৈশোর পেরুনো বাম হাতি পেসার ফজল হক ফারুকী ( ৩/১১)। মুজিব ( ২/ ২৪  ) এবং নবি ( ২/ ১৪) ) ফারুকীর সফলতার ধারবাহিকতা বজায় রেখেছে। উইকেট না নিয়েও নিজের ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়েছে রাশিদ খান। আফগানদের তুখোড় ফিল্ডিং ছিল দেখার মতো।  

মামুলি এই স্কোর তারা করে আফগানদের কিন্তু অস্থিরতা দেখা যায় নি। জাজাই (৩৭) আর গুরবাজের (৪০)  ৮৩ রানের প্রথম উইকেট জুটি নিরঙ্কুশ ব্যাবধানে ম্যাচ জয়ের আভাস দিয়েছিলো। দুটি উইকেট স্বল্প ব্যাবধানে পরে গেলেও ৮ উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত আফগানিস্তান বড় দলগুলাকে সতর্ক বার্তা দিলো।

 

শেয়ার করুন