২২ জুলাই ২০১২, সোমবার, ০৮:১২:৪৫ অপরাহ্ন


দেশকে ড. বদিউল আলম মজুমদার
সামনের দিনগুলি আরো ভয়াবহ
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৭-২০২৪
সামনের দিনগুলি আরো ভয়াবহ বদিউল আলম মজুমদার


সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, এক শ্রেণীর কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কিছু আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনী এবং আমাদের কিছু সংখ্যক সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের যোগসাজোশে সরকার একটা নির্বাচন করে ফেলেছে। এর মাধ্যমে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা থেকে সমাধানের পথই খুঁজে পাচ্ছি না। সামনের দিনগুলি আরো জটিল, আরো ভয়াবহ এবং জনগণের আরও ভোগান্তি বাড়বে। আমেরিকা থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ 

দেশ : বাংলদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হউক এর পাশাপাশি সেই নির্বাচন যেনো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য আপনার কণ্ঠস্বর বেশ সোচ্চার ছিল। এখন জানতে চাচ্ছি বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে আপনার অনুভূতি বা মতামত কি? কি দেখছেন? কি বুঝলেন?

ড. বদিউল আলম মজুমদার: দেশে তো একতরফা নির্বাচন করে ফেলেছে। একটা দেশে এভাবে একতরফা নির্বাচন কোনো নির্বাচনই না। নির্বাচনে যদি প্রতিযোগিতা না থাকে, বিরোধী দল না থাকে, তাহলে তো ওটা কোনো নির্বাচনই নয়। আমাদের দেশে একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যম সরকার গঠিত হয়েছে। এটাকে তো গণপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার বলা যাবেই না। বললে তা ভুল হবে। সরকার জনগণের সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়নি। যার ফলে সরকারের মধ্যে কোনো স্বচ্ছতা বা দায়বদ্ধতা নেই। এক শ্রেণীর কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কিছু আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনী এবং আমাদের কিছু সংখ্যক সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের যোগসাজোশে সরকার একটা নির্বাচন করে ফেলেছে। এতে করে একটা দায়বদ্ধহীন সরকার প্রতিষ্ঠা করেছি। এমন যদি হতো সরকার গঠনের জন্য পাঁচ বছর পরপর জনগণের কাছে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করতে হতো তাহলে তো জনগণের কল্যাণে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হতো। এর মাধ্যমে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা থেকে সমাধানের পথই খুঁজে পাচ্ছি না। 

দেশ : এমন পরিস্থিতিতে আপনি সামনের দিনগুলিকে কিভাবে দেখছেন?

ড. বদিউল আলম মজুমদার: সামনের দিনগুলি আরো জটিল, আরো ভয়াবহ এবং জনগণের আরও ভোগান্তি বাড়বে। 

দেশ : দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হউক এমন আশা করে অনেক তৎপর ছিলেন। এখন কি আশাবাদী দেশে আপনি যেটি চেয়েছিলেন তার বাস্তবায়ন হবে। 

ড. বদিউল আলম মজুমদার : আমি আশাবিাদি। আমি আশাবাদি যে তাদের বোধোদয় হবে। আর আমাদের মধ্যে যালা অংশীজন আছে তাদের মধ্যে চেতনাবোধ জাগবে। কারণ এই দেশটা বহু রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন করা হয়েছে। বহু ব্যক্তির আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন করা হয়েছে। রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি, মানুষের ভোগান্তি ও তাদের জিম্মি করা-এই জন্য বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি। এই জন্য তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে প্রাণ দেয়নি। তবে আমি আশা করি তাদের বোধোদয় হবে। যে করণীয় আছে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

দেশ : আচ্ছা দেশে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে এবং হচ্ছেও। এই যে কোটাবিরোধীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে যাচ্ছে শাহবাগ কিন্তু সেভাবে দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক বা আপনার মতে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে জনগণ এককাতারে আসছে না কেনো?

ড. বদিউল আলম মজুমদার : আমাদের এখানে যা হয় তা হলো বাকস্বাধীনতা নেই। নেই প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা। কিংবা আন্দোলন করা স্বাধীনতা বহুভাবে খর্ব করা হয়েছে বিভিন্নভাবে আইন কানুনের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি পক্ষপাতদুষ্ট আইনশৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের বাড়াবাড়ির কারণে। তাই চাইলেও জনগণের পক্ষে এর বিরোধিতা বা প্রতিবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশ : তাহলে কি বলবেন এখানে ভয়ের সংস্কৃতি বিরাজ করছে?

ড. বদিউল আলম মজুমদার : অবশ্যই এখানে ভয়ের সংস্কৃতি বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন