১৪ জুলাই ২০১২, রবিবার, ১১:১৬:০৫ পূর্বাহ্ন


টক অব দ্য কান্ট্রি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের উদ্দেশ্য কি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৮-২০২২
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের উদ্দেশ্য কি


রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বারবার বিতর্কমূলক কথা বলে ওই সংকট তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। বিশেষ করে ভারত সফরে যেয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যা যা প্রয়োজন সেটা করার যে অনুরোধ তিনি রেখেছেন এটাতে দেশের সর্বভৌমত্ব, নিজস্বতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ নিয়ে দেশে সমালোচনার ঝড়। আওয়ামী লীগ বিরোধীরা এটা লুফে নিয়েছেন। এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক। একটা স্বাধীন দেশের সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়ে এজাতীয় কথাবার্তা বলে দেশের সম্মান ভূলুণ্ঠিত করেছেন বলে অভিমত দিচ্ছেন। তার দল আওয়ামী লীগ তার কিছু বেফাঁস কথাবর্তার দায়িত্ব নিতে চায়না। বিষয়টা এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা বলতে বাধ্য হচ্ছেন, ড. এ কে আব্দুল মোমেন আওয়ামী লীগের কেউ নন। কিন্তু এটাতে বিতর্ক আরো বাড়ছে। তাহলে মোমেন কে? কীভাবে তিনি নৌকার টিকেট নিয়ে এমপি হলেন। মন্ত্রীই শুধু নন, রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল মন্ত্রীও। এরপরও তিনি কীভাবে আওয়ামী লীগের কেউ নন- এ প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন দলের কেউ নন। তাঁর বক্তব্য দলের কোনো বক্তব্য নয়। গত ২০ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ১৫ আগস্ট স্মরণে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

আবদুর রহমান বলেন, ‘প্রশ্ন হলো তিনি তো (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) আমাদের দলের কেউ নন। সুতরাং আমাদের দল তাঁর এই বক্তব্যে বিব্রত হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে অনুরোধ করবো তাঁকে যে তাঁর কথাবার্তায়, তাঁর দায়িত্বশীল আচরণের ভেতর দিয়ে এমন কিছু বলবেন না, যাতে কোনো দুষ্টু লোকেরা এর সুযোগ নিতে পারে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। সে ব্যাপারে তিনি সতর্ক থাকবেন।’

জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আওয়ামী লীগের কেউ নন- বলে আবদুর রহমান দাবি করলেও প্রকৃত সত্য হচ্ছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য। এ ছাড়া তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ এটা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছে। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের ভারত প্রসঙ্গে বক্তব্যের জবাবে বলেন,‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকিয়ে থাকা ও আসার জন্য ভারতকে কখনো অনুরোধ করেনি, শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এটি কারো ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ কোনো বৈরী সম্পর্ক চায় না। ভারতের সঙ্গে বৈরিতা করে দেশের ক্ষতি হয়েছে।’ একইভাবে তিনি মার্কিনিদের বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে অনুরোধ করা প্রসঙ্গেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তার নিজের বক্তব্য বলে অভিমত প্রকাশ করেন এবং ওই বক্তব্যের দায়ভার আওয়ামী লীগের নয় বলে মন্তব্য করেন। 

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ  

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের ভারত প্রসঙ্গে বক্তব্যের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, উনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কেউ নন। সুতরাং তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে বিদেশে গিয়ে দায়-দায়িত্বপ্রাপ্তও কেউ নন। গত রোববার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, কেউ যদি বিদেশে গিয়ে কারো সঙ্গে গল্প করে আসেন, তার দায়-দায়িত্ব সরকার বা দলের নয়। হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের ভিত জনগণ। জনগণের শক্তিতেই তারা বিশ্বাস করেন। এভাবে পূর্বেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য আওয়ামী লীগের মধ্যে বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। দায়িত্বশীলরাও এটাকে তার নিছক নিজস্ব বক্তব্য বলে উল্লেখ করলেও সাধারণ মানুষ এটা মানতে নারাজ। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী যখন জনগণের কোষাগারের অর্থ খরচ করে বিদেশে যাবেন। সেখানে যেয়ে যেসকল কাজ করবেন, সেটা দেশ ও জনগণের স্বার্থেই। ব্যক্তিগত বলে সেখানে কিছু থাকে এটা মানানসই নয়। তবে ইতিমধ্যে যে প্রশ্নটা উঠেছে- আসলেই ড.এ কে আব্দুল মোমেন আসলে কে? কী তার রাজনৈতিক পরিচয়। কেন তাকে অস্বীকার করা হচ্ছে। সরকারের এতো বড় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তাকে কেউ পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেনা কেন? তাহলে কীভাবে তিনি এতোদূর। তিনি কী আসলেই আওয়ামী লীগের একজন কর্মী,শুভাকাক্সক্ষী, নাকি অন্যকিছু। মানুষ এ বিষয়গুলো স্পষ্ট হতে চায়।

নিম্নে দেয়া গেল সম্প্রতি তার কিছু বক্তব্য ও সময়কাল- 

দৃশ্যপট এক: 

বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা

 ৬ এপ্রিল ২০২২-এ ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার আন্তরিক। এতে সব রাজনৈতিক দলের অংশ নেয়ার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। বিএনপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দল নির্বাচনমুখী জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা জরুরি। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ধরনা দেয়ার বিষয়টি মন্ত্রী মোমেন নিজেই গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে হোটেলে ফিরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে।

তারা নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অবাধ এবং সুষ্ঠু দেখতে চান। জবাবে আমি বলেছি, সব দল জয়েন করে, একটি দল (বিএনপি) ছাড়া। ওই পার্টি তৈরি হয়েছে মিলিটারি দ্বারা, তারা নির্বাচনে আসে না। যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ তাদের রাজনীতিতে নিয়ে আসা। তাদের ভোটে জিততে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে। সেজন্য আমরা ফেয়ার সিস্টেম করেছি। আমাদের নির্বাচন কমিশন আছে, তারা স্বাধীন। নির্বাচনের সময় সবকিছুর জন্য তাদের একজন ‘বস’ আছেন। মন্ত্রী মোমেনের এমন বক্তব্যের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেনের প্রতিক্রিয়া কি ছিল জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে ড. মোমেন বলেন, তিনি (ব্লিঙ্কেন) বলেছেন, ‘এগুলো তো ভালো।’ মন্ত্রী নিজের এলাকার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমার শহরে (পৈতৃক নিবাস সিলেটে) আমি আওয়ামী লীগের এমপি। আমার মেয়র বিএনপির। আমরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে একত্রে কাজ করি। সুতরাং নির্বাচনে তাদের (বিএনপিকে) স্বাগত জানাই। যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি আপনারা বরং তাদের আইনি পথে অর্থাৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসুন।

দৃশ্যপট দুই: 

অসত্য বলেছেন সুইজারল্যান্ডের 

রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়াট 

১১ আগস্ট সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের রাখা অর্থের বিষয়ে সুইজারল্যান্ড কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশ সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য চায়নি বলে দেশটির রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়ার্ড যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটাকে ‘অসত্য’ বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। গত বুধবার ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়ার্ড বলেন, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ রাখার বিষয়ে নির্দিষ্ট করে বাংলাদেশ সরকার কোনো তথ্য চায়নি। 

ড. মোমেন বলেন, ‘তিনি (সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়ার্ড) অসত্য কথা বলেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ফিন্যান্স সেক্রেটারি আমাকে আগে জানিয়েছিলেন, তারা তথ্য চেয়েছিলেন, তারা (সুইস ব্যাংক) উত্তর দেননি। আজকে আমি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। উনি আগে ফিন্যান্স সেক্রেটারিও ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘নো, আমরা আগে তথ্য চেয়েছি, তারা কোনো রেসপন্স করেননি। আমি বলেছি, আপনি এটি জানিয়ে দেন জনগণকে। কারণ এভাবে অসত্য কথা বলে পার পাওয়া উচিত নয়।’ এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করবে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘আমাদের গভর্নর সাহেব আগে বিবৃতি দিক। আমরা সেগুলো জানি। কিংবা অর্থ মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিক। এরপর বলবো।’ 

দৃশ্যপট তিন: 

বাংলাদেশের মানুষ 

বেহেশতে আছে  

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন গত ১২ আগস্ট সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতিবিষয়ক এক সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বৈশ্বিক মন্দায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় বাংলাদেশে অনেক কম। অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ সুখে আছেন, বেহেশতে আছেন। তবুও জিনিসপত্রের দাম যাতে আর না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখছে সরকার।

এরপর বৈশ্বিক মন্দায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বেই মন্দার ভাব আসছে; তা একাধিক কারণে। এক হলো করোনা মহামারীর কারণে, অন্যটি হলো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। যুদ্ধের ফলে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সেই কারণে সাপ্লাই চেইনে প্রভাব পড়েছে। সেটা বিশ্বের অনেক দেশেই পড়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। তিনি বলেন, গত বছর জিডিপির গ্রোথ হয়েছে ৬.৯ শতাংশ। এ সময় তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন- কোথায় মন্দা পেলেন? তিনি বলেন, এখনো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি কম। আমেরিকায় ৯-এর ওপরে, অন্যান্য দেশে আরো অনেক বেশি, তুরস্কে প্রায় ৬০ শতাংশ দাম বেড়েছে, ইংল্যান্ডে লোকজন কষ্টে আছে, পাকিস্তানে ৩৭ শতাংশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্যদেশের তুলনা করলে বাংলাদেশের মানুষ সুখে আছে, বেহেশতে আছে বলতে হবে। তবে হ্যাঁ, আমাদেরও চ্যালেঞ্জ আছে, আমরা এসব চ্যালেঞ্জ যাতে মোকাবিলা করতে পারি তাই আগেভাগেই সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

দৃশ্যপট চার:

 ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ 

হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’ 

১৮ আগস্ট চট্টগ্রামে সন্ধ্যায় জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।’

নগরের জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার দেশে কিছু দুষ্টু লোক আছে, কিছু উগ্রবাদী আছে। আমাদের দেশ সারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন না। আপনার দেশেও যেমন দুষ্ট লোক আছে, আমাদের দেশেও আছে।’ কিছুদিন আগে তাদের (ভারতের) দেশেও এক ভদ্রমহিলা (নূপুর শর্মা) কিছু কথা বলেছিলেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি কথাও বলিনি। বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে, আমরা বলিনি। এই ধরনের প্রোটেকশন আমরা আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি। সেটা আপনাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের মঙ্গলের জন্য। আমরা যদি একটু বলি, তখন উগ্রবাদীরা আরো সোচ্চার হয়ে আরো বেশি বেশি কথা বলবে। তাতে ক্ষতিটা হবে কী? আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হবে। স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় আরো বলেন, ‘ভারতকে বলেছি, আমরা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কখনো প্রশ্রয় দেবো না। এটা যদি আমরা করতে পারি, ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ের মঙ্গল। শেখ হাসিনা আছেন বলে ভারতেরও যথেষ্ট মঙ্গল হচ্ছে।’ 

দৃশ্যপট পাঁচ: 

ভারতে যেয়ে যা বলেছি বুঝেশুনেই 

বলেছি,দায়িত্ব নিয়েই বলেছি 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী উৎসবের এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি ভারতকে বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে। নিজের দেশের কতিপয় ‘দুষ্টু’ মানুষের বিরুদ্ধেও ভারতকে জানান তিনি। তার এ বক্তব্য সরল মনে বা মুখ ফসকে দেয়া হয়েছে নাকি তিনি দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন? পরের দিন শুক্রবার এমন প্রশ্নে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি জেনে বুঝেই বলেছি। আমি আমার বক্তব্য থেকে সরছি না। আমি ভুল কিছু বলিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্থিতিশীলতা চাই। আমাদের বন্ধুরাও তা চান। সে জন্য আমার যা যা বলা দরকার বলেছি। কোনো কিছু ভুল বলিনি। নাথিং রং ইট। আমি আরো বলবো। তাদের সহযোগিতা আমাদের দরকার।’ এ সময় তিনি অরো বলেন, ‘অস্থিরতা সবার জন্যই অমঙ্গল। আমি না জেনে মনগড়া কথা বলিনি। আমি আমাদের প্রতিবেশী বন্ধুদের বলবো, আমাদের পাশে থাকো। তাতে তোমাদেরও লাভ, আমাদেরও লাভ।’ তিনি বলেন, ‘এই রিজিওনে আমরা স্থিতিশীলতা চাই। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। এ জন্য তাদের সহযোগিতা চাওয়ার কথা বলেছি।’


শেয়ার করুন