১৪ জুলাই ২০১২, রবিবার, ১০:২৭:৫০ পূর্বাহ্ন


আওয়ামী লীগ আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাকে ছেলে খেলা মনে
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৪-২০২২
আওয়ামী লীগ আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাকে ছেলে খেলা মনে


দেশ’কে হাবিব 

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবং তাদের সরকার আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাকে ছেলে খেলা মনে করে। এটা ছেলে খেলা না। পৃথিবীর বহু দেশ এমন নিষেধাজ্ঞার আওয়তায় পরে ধবংস হয়ে গেছে। শ্রীলংকা মায়ানমারের কি অবস্থা তা দেখেন। বাংলাদেশের যে কি অবস্থা অবস্থা হতে পারে তা এরা এখন বুঝতে পারছে না। 

দেশের বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে আপনি মনে করেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে হাবিবুর রহমান হাবিব একথা বলেন। হাবিবুর রহমান হাবিব '৯০-এ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের অগ্রনায়ক। এছাড়া তিনি বর্তমানে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। 

হাবিবুর রহমান হাবিব 


এ সময় হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনা করার মত কোনো পরিস্থিতি খুঁজে পাচ্ছি না। দেশে একটা দু:শাসন চলছে। এটাকে রাজনীতির পরিভাষায় কি বলবো তা বুঝি না। একটি গণতান্ত্রিক বিরোধী দল কথা বলতে পারবে না। সভা সমাবেশ করতে পারবে না। জনগণের সমস্যা সমাধানে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি নিথে পুলিশে বাধা পাবে-তা কি করে মেনে নেয়া যায়? পরিস্থিতি এমন যে একটা সামরিক শাসনের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি দেশে বিরাজ করছে। 

আপনি বলবেন যে বিএনপি’র শাসনামল এর চেয়ে ভালো ছিল?

হাবিবুর রহমান বলেন,বিএনপি’র শাসনামল পরিপূর্ণ ভালো ছিল তা আমি বলবো না। সেসময়ে অনেক অনিয়ম হয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যালরে বাহিরে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছিল। সেমসময়েও আওয়ামী পরিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। কিন্তু এখনকার মতো অবস্থাতো ঐ সময়ে করা হয়নি। এখনতো একেবারে অবরুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। এই যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে-তা নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে সরকার। রাজধানীসহ সারা দেশে আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে ক্ষান্তই হয়নি সরকার। অনেক জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এমন কি এধরণের মামালায় বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার বিধান থাকলেও তাকে তা দেয়া হচ্ছে না। তাছাড়া তার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে সরকার। যে সর জায়গায় প্রতিবাদ সমাবেশ করতে চেয়েছি তাতে বাধা দিয়েছে বা অনুমতি দেয়নি। বিএনপি’র সময়তো এতো বিধি-নিষেধ ছিলো না। 

দেখেন আজকে ২০০৪ সাথে একুশে আগস্ট গেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপিকে জড়ানো হচ্ছে। এটার ব্যাপারে বিএনপি কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। তবে বিএনপি’র উপরে পড়া এমন অভিযোগ তারা অস্বীকারও করতে পারছে না। অথচ তারা এধরণের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না। কিন্তু বিএনপি তো মুক্তাগনে আওয়ামী লীগকে সমাবেশ করতে দিয়েছিল। মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। তাদের তো সমাবেশ করতে বাধা দেয়নি বিএনপি। তারা যদি সেদিন মুক্তাংগনে সমাবেশ করতো তাহলে গেনেড হামলা কারি জঙ্গীরা কিন্তু এমন সুযোগ পেতো না। পার্টি কার্যালয়ের সামনে হামলাকারিরা যে যে সুযোগ পেয়েছে মুক্তাংগনে হলেতো তেমনটা পেতো না। কিন্তু সেদিন কোনো আওয়ামী লীগ সেসময় ক্ষমতাসীন সরকারের দেয়া স্থান মুক্তাংগনে সমাবেশ করলো না? সেখানে তো প্রশাসন তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলো। কিন্তু প্রশ্ন হলো কে তাদেরকে সেদিন পার্টি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে বললো? প্রশ্ন উঠেছে যে জংগীরা হামলার আগে ঐস্থানে রেকি করেছিলো। তারাই কিভাবে ধরে নেয় যে আওয়ামী লীগ মুক্তাংগনে সমাবেশ না করে তাদের পার্টি অফিসের সামনেই করবে? কে তাদেরকে এমন সংবাদ কসফার্ম করে? নিশ্চয়ই গভীর একটা যড়যন্ত্র আওয়ামী লীগকে সে জায়গায় নিয়ে গেছিল। এটা আওয়ামী লীগকেই খুজে বের করা দরকার। তাছাড়া এঘটনার বিচার বিএনপি আমলে হয়নি। চার্জশিটও দেয়া হয়নি বিএনপি’র আমলে। অথচ জর্জ মিয়া নাটকর সাজানোর কথা বলা হচ্ছে। এটা কিন্তু এ জর্জ মিয়ার নাটকতো বিএনপি গ্রহণ করেনি। কেননা প্রশাসন সেদিনও এ জর্জ মিয়া নাটক সাজিয়েছিল। চার্জশিট যদি জর্জ মিয়ার নামে দেয়া হতো তাহলে বিএনপিকে দোষারোপ করা যেতো। যেমন আমার বিরুদ্ধে টক শো শেষে ফেরার পথে মামলা দেয়া হয়। গাড়ি ভাংচুর হামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রসাশন মামলা করে আমার বিরুদ্ধে। সেদিন একাজ করেছিল প্রশাসন। সেদিন জর্জ মিয়া নাটক বিশ্বাস করেনি বলেই পরবর্তী সময়ে মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। আসলে কথা হলো যে এরকম সময়েও বিএনপি আওয়ামী লীগকে সমাবেশ করতে দিয়েছিল। বিএনপি’র সাথে তুলনা করা হয় কিভাবে? বিএনপিতো ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করেই ক্ষমতায় এসেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার বিধান করার দাবি নিয়ে আন্দোলনতো আওয়ামী লীগ করেছিল। কিন্তু তারা তা বাতিল করে দিয়েছে। এখন তারা সারা দেশে প্রায় চল্লিশ হাজার ভোট কেন্দ্রের প্রায় ত্রিশ হাজার কেন্দ্রেই রাতের বেলায় ছিল ছাপ্পড় মেনে নির্বাচন করে ফেলছে। এপর্যন্ত পৃুথিবীতে কোনো জাতীয়  নির্বাচনে এতো বেশি প্রার্থী আহত হয়নি যা ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে হয়েছে। এই যে আমরা এলাকায় নির্বাচনে কিভাবে আহত করা হয়েছে। আমি যে কিভাবে বেচে আছি তা অবাক বিষ্ময়। 

প্রশ্ন হচ্ছে আপনার ভাষায় দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা থেকে উদ্বার পেতে আপনার মতামত কি?

এখন এমন পরিস্থিতিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলরন করেই এসরকারের পতন ঘটাতে হবে। আমি মনে করি এলড়াই কেবল বিএনপি’র একা না। সব দলে মত জনগনেরই। তবে আমি মনে করি না যে এমন আন্দোলনে সব্বাইকে এক মঞ্চে আসতে হবে। যার যার জায়গা থেকেই যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় করে নেবে।

আপনি কি মনে বিএনপি’র অতীত কর্মকান্ডের কারণে আপনাদের কথায় জনগণ বা অন্যসব রাজনৈতিক দল আন্দোলনে অংশ নেবে?

এটা কি বলেন? আমাদের কথামত কেনো হবে? প্রত্যেকের নিজের প্রয়োজনে দরকার। কোথাও কি এমন হয়েছে যে ভোট দিতে শুধু বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বাধা দেয়া হচ্ছে? অন্যদের অবাধে ভোট দিতে দেয়া হচ্ছে? একটা হাটে সবাই যায়। যার যা প্রয়োজনেই যায়। হাট বারে ইতো তো যেতে হবে। অন্য হাট বারে কি তা হবে? এরকমই একদিনেই সব করতে হবে। একদফার আন্দোলনই যুগপৎভাবে করতে হবে। বিএনপি’র প্রতি ভালোবাসা বা তাকে মেনে নিয়েই আসতে হবে তা কিন্তু না। বিএনপি বড়ো দল সত্য কথা। তবে সব দল মিলেই যদি একটা যৌক্তিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায় তাহলেই আগামীতে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে দেশবাসি সফল হবে বলে আমি আশাবাদি। 

প্রশ্ন হচ্ছে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করছেন। কিন্তু এসব আন্দোলনে জনগণ কি খুব একটা সায় দিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে আপনাদের কথায় ? তেমন হলেতো আপনাদের আন্দোলনকে সফলই বলা যেতো? তা তো হয়নি। এটার কারণ কি এমন যে আপনাদের শাসনামলে জনগন যা দেখেছে তাতে এখন তারা ভরসা পাচ্ছে না। 

হাবিবুর রহমান বলেন,বিএনপি’র বিএনপি’র প্রতি যদি অনীহা থাকতো,তাহলেতো ২০০৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছে তাতে বিএনপি’র ভোটতো তেমন কমেনি। পরাজয়ে ভোটের ব্যবধানতো তেমন হয়নি। যদিও আমার মনে হয় ২০০৮ সালে শতকরা ১০ভাগ ভোট আগেই কেটে রাখা হয়েছিল। এ প্রথম নির্বাচনে আধা ঘন্টা গ্যাপ দেয়া হয়। ঐ সময় দেখা গেছে ভোট গ্রহন শেষে আধা ঘন্টা কোনো কেন্দ্রে ঢুকতে পারিনি। ঐসময়ে শতকরা ১০ভাগ নৌকা মার্কায় দিয়ে দেয়া হয়। এসময় যার যার ভোট সে দিতে পেরেছিল। কিন্ত ঐ যে দশভাগ ভোট আগেই কাস্ট করে ফেলা হয় সেব্যাপারে আমরা তদন্ত করতে পারেনি। খোজ নিয়ে দেখেন তৃলমুলের ভোট সেসময়ে বিএনপি ঠিকই পেয়েছিল। বিএনপি’র কর্মকান্ডে যদি মানুষ অতিষ্ট হতো তাহলেতো ২০১৩ সালে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছিল। এককভাবে জয়লাভ করেছিল বিএনপি। গাজিপুর ছিল আওয়ামী লীগের ঘাটি। সেখানে কিন্তু বিএনপি সিটি কর্পোরেশণ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলো। যদি জনগণ বিশ্বাস করতো বিএনপিই আওয়ামী লীগের সমাবেশে গেনেড হামলা করেছিল, দুর্নীতি করেছে তাহলেতো সব মিলে এদলকে বয়কট করতো। কিন্তু তাতো করেনি। সুতরাং ২০০৮ এ-ও বিএনপিকে বয়কট করেনি জনগণ এমনকি ২০১৮’তেও না।

আবার দেখেন ২০১৪ সালের কারচুপির মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন করার পর যে উপজেলা নির্বাচন তা তার প্রথম দুই ধাপের অধিকাংশগুলিতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি নেতৃত্বে চারদলীয় জোটেভুক্তরাই জয়লাভ করে। সোজা কথা এসরকার থেকে গণতন্ত্র উদ্বার করতে হলে একটা বৃহত্তর ঐক্যের দরকার আছে। আমরা আশা করি সে ঐকবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা সরকারের পতন ঘটাবো। 




শেয়ার করুন