১৪ জুলাই ২০১২, রবিবার, ১০:১৬:৪৫ পূর্বাহ্ন


ইমিগ্র্যান্টের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রায়
ফেডারেল কোর্টে ইমিগ্র্যান্টদের তথ্য যাচাই’র এখতিয়ার নাকচ
মঈনুদ্দীন নাসের
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৫-২০২২
ফেডারেল কোর্টে ইমিগ্র্যান্টদের তথ্য  যাচাই’র এখতিয়ার নাকচ


ইমিগ্র্যান্টদের বহিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় প্রকৃত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করার ফেডারেল কোর্টের এখতিয়ারকে নাকচ করে দিয়েছে। যে তথ্য যাচাই হয়েছে ইমিগ্রেশন কোর্টে সে তথ্য ফেডারেল কোর্টে যাচাই করার এখতিয়ার নেই বলে গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টে ৫-৪ ভোটে রায় দিয়েছে। কোর্ট এই বিষয়ে যে কারণ দেখিয়েছে তা ইমিগ্রেশনবিষয়ক প্ল্যানে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিয়েছে, পাটেল বনাম গাবল্যান্ডের মামলায়। ভারতীয় নেটিভ পঙ্কজ কুমার পাটেল জর্জিয়ায় ড্রাইভার লাইসেন্স নেয়ার সময় ভুলবশত তার স্ট্যাটাস ‘আমেরিকান নাগরিক’ হিসেবে চেকবক্স চেক করেন; কিন্তু সে সময় তিনি আমেরিকান নাগরিক কিনা তার উত্তর দেয়া, ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়া না পাওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো প্রয়োজন ছিল না। সিটিজেন না হলেও তার ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়ার কথা। এই ভুল তিনি যখন আমেরিকায় ১৫ বছর বাস করে এবং কাজ করে গ্রিনকার্ডের আবেদন করেছেন তখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। ইমিগ্রেশন কোর্ট দেখে যে, পাটেল এই প্ল্যানে বা গ্রিনকার্ডের জন্য অনুপযুক্ত। কারণ পাটেল জর্জিয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আমেরিকান নাগরিক হিসেবে চেকবক্সে চেক করেছেন। তার অ্যাটর্নি যুক্তি দেখান যে, যে কোনো প্ল্যান বা পক্ষে রায় পাওয়ার জন্য সকল প্রশ্ন পর্যালোচনাসাপেক্ষ।

কারণ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটিউট কোনো প্ল্যান বা উপশমমূলক রায় দিতে এখতিয়ারমূলক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা নাকচ করে দেয়। জাস্টিস এমি কনি ব্যারেট সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫ জনের পক্ষে সিদ্ধান্ত লিখেন। তিনি দেখান যে, ইমিগ্রেশন স্ট্যাটিউট কোনো লোকের গ্রিনকার্ড পাওয়ার এলিজিবিলিটি বা যোগ্যতা নিয়ে পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে ফেডারেল কোর্টের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বা ফেডারেল কোর্টের হাত রুদ্ধ করে দিয়েছে। এই পাটেল ওনার্স গারল্যান্ডের মামলায় একটি তথ্যগত কারণে বিরোধ রয়েছে। তা হচ্ছে পাটেল ইচ্ছাকৃতভাবে তার ড্রাইভার লাইসেন্সে ভুল থেকে বেনিফিট নেয়ার জন্য ‘আমেরিকান নাগরিক’ হিসেবে ড্রাইভার লাইসেন্সের আবেদনে উল্লেখ করেছে কিনা, ব্যারেট লিখেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় ফেডারেল কোর্টের খুব সীমিত ভূমিকা রয়েছে।’

তিনি লিখেন, ‘লিগ্যাল ও সাংবিধানিক প্রশ্ন ছাড়া কংগ্রেস এই ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তসমূহ বাতিল করে এখতিয়ারের বশবর্তী হয়ে কোনো প্ল্যান প্রদান করার এখতিয়ার রুদ্ধ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত উপনীত হবার জন্য যে, বিষষয়টা পর্যালোচিত হয়েছে তাহলো ‘প্ল্যান ও বহিষ্কার সম্পর্কিত’ শব্দ তিনটি নিয়ে। ‘সম্পর্কিত’ শব্দের বিশ্লেষণে বলা হয় এ বিষয়ে, কোন সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত বা বহিষ্কারকে রদ করবে তা নির্ণিত হবে।

এর মধ্যে থাকবে কেউ স্ট্যাটিউট অনুসারে কোনো উপশম পাওয়ার যোগ্য কিনা তার বিবেচনা। ইমিগ্রেশন কোর্টের সাধারণত দুটি স্টেজ রয়েছে। একটি রিম্যুভাল স্টেজ, আরেকটি উপশম বা প্ল্যান পাওয়ার স্টেজ। প্রথম কোর্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইমিগ্র্যান্ট বহিষ্কার যোগ্য কিনা? কোনো লোক এই উপশম চাইতে পারে না, যতক্ষণ কোর্ট তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হয় না। অন্যদিকে প্ল্যান প্রদানের স্টেজে কোর্টকে দুটি প্রশ্নের অবশ্যই উত্তর দিতে হবে। প্রথমত. অনাগরিক কোনো উপশম বা বেনিফিট পাওয়ার যোগ্য কিনা এবং দ্বিতীয়ত: যে কোর্টের নিজস্ব এখতিয়ারে এই প্ল্যান মন্থর করা উচিত কিনা?

জাস্টিস বেরেটের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথমত আপত্তি দিয়েছেন কনজারভেটিভ জাস্টিস গরসাচ। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, তিনজন লিবারেল জাস্টিস ট্রেরার, সোটোমায়ার ও খাগান। তারা সকল স্ট্যাটিউট, অন্যান্য ইমিগ্রেশন আইন কংগ্রেসের আইন প্রণয়ন ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে সংখ্যাধিক্যের সিদ্ধান্ত ভুল। তারা বলেন, কংগ্রেস কখনই প্ল্যান বা উপশম দেয়ার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া রদ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। গরসাচ লিখেন, ‘আজকের ব্যাখ্যা জোর করে জাতিকে গেলানো হচ্ছে তা এক বৈচিত্র্যময় চিড়িয়াখানাÑ যা জাতির বৃহত্তর ইমিগ্রেশন আইনের একটি ধারায় সাব প্যারাগ্রাফের সাব সেকশনে ঢোকানো হয়েছে।’

এই ধরনের ভুল হতে পারে তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে। যেখানে ১৮ লাখ মামলার ব্যাকলগ রয়েছে, এখানে অনেক বিশাল ফেস লোডের রয়েছে অনেক কম স্টাফ। এটা এমন কোনো বিস্ময়ের নয় যে, ইমিগ্রেশন বিচারকরা ভুল করতে পারে না। এই সপ্তাহে ফেডারেল কোর্ট তথ্যগত ভুলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বদলিয়েছে। কংগ্রেস তখন ইমিগ্রেশন কোর্ট সিস্টেম পরিবর্তনে কাজ করছে। ইমিগ্রেশন কোর্টকে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বাইরে নিয়ে আসা হবে।

এর মধ্যে দিয়ে স্বাধীন ইমিগ্রেশন কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হবে। পাটেল মামলার সিদ্ধান্তের কারণে অনেক খোলাখুলি প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে। অধিকাংশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের সিদ্ধান্তের পর ফেডারেল কোর্ট ইউএসসিআইএস বা ইমিগ্রেশন বিভাগের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত কোনো গ্রিনকার্ডের আবেদন রিভিউ করতে পারবে না। এটা হবে সম্ভবত জুডিশিয়াল রিভিউ প্রভিশনের পরবর্তী মামলার বহর। কিন্তু এখন এই সময়ে পাটেলবিষয়ক সিদ্ধান্ত নিতে সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে রিম্যুভাল প্রসিডিংসের পর্যালোচনায় প্রভিশসমূহকে ‘কঠোর নির্যাতনের’ দৃষ্টিতে পাঠ করেছে, তা হাজার হাজার গ্রিনকার্ড আবেদনকারীর জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। 

জাস্টিস গরসাচ লিখেন, ‘আজ কোর্ট এটাই ধরে নিয়েছে যে, ফেডারেল আমলাতন্ত্র যে কোনো অবধারিত তথ্যগত ভুল করতে পারে, তা কোনো ব্যক্তিকে এ দেশ থেকে বিতাড়ন করতে পারে এবং এ সম্পর্কে কিছুই করা যাবে না

হারপার জরিপ:মাত্র ৩৭ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের রায় সংবিধানসম্মত

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট থেকে রো বনাম ওয়েডের গোপন রায় প্রকাশ্যে আসার পর সুপ্রিম কোর্টের ওপর সাধারণ মানুষ আস্থা হারাতে যাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে ইমিগ্রেশন নিয়ে যে রায় দিয়েছে, অর্থাৎ ইমিগ্রেশন কোর্টের তদন্তের ওপর ফেডারেল কোর্টের হাত দেয়ার অবকাশ নেই। এই রায়ও রিপাবলিকান বিচারক গরসাচ ছাড়া অন্যরা একাট্টা হয়ে আরোপ করেছেন ইমিগ্র্যান্টদের ওপর সামান্য ভুলের মাশুল।

দেখা যাক, সম্প্রতি হারপার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত জরিপের সূচক কি বলে? এক সূচকে দেখা যায়, আমেরিকায় মাত্র ৩৭ শতাংশ মানুষ মনে করে সুপ্রিম কোর্ট সিরিয়াস ও সাংবিধানিক স্বচ্ছতা দিয়ে কাজ করে। সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা নির্ধারিত বা সিদ্ধান্ত দেয়া মামলা সম্পর্কে জানে না ৪৬ শতাংশ মানুষ। ২০২১ সালে রো বনাম ওয়েড (যা গর্ভপাত বৈধ করে আইন) পাস হওয়ার পর মাত্র একটি স্টেটে গর্ভপাত আইন পাস হয়েছে। সাদা ক্যাথলিকরাই কালো ক্যাথলিকদের চেয়ে বেশি গর্ভপাতের বিরোধিতা করে, তাদের পার্সেন্টেজ হচ্ছে ২৩ শতাংশ। রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিতে কালো ক্যাথলিকরাই সাদাদের চাইতে সংখ্যাধিক্য আর তাদের পার্সেন্টেজ ১৮৯ বেশি।

কালো ক্যাথলিকদের ৩৮ শতাংশ বলে চার্চসমূহকে অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করতে হবে। ২০২০ সালের আদমশুমারিতে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের ৩.৩ শতাংশ লোককে গণনায় কম দেখানো হয়েছে। তবে হোয়াইট আমেরিকানদের (যারা হিসপ্যানিক নয়) গণনায় ১.৬ শতাংশ বেশি দেখানো হয়েছে। মেক্সিকোর চাইতে কানাডাকে বিদেশি আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে চায় ২৫ শতাংশ বেশি আমেরিকান। ২০ শতাংশ আমেরিকান মনে করে, তারা শান্তি রক্ষায় ‘ভিজিল্যান্টি’ বা অভিভাবক। আমেরিকায় জনপ্রিয় সুপারহিরো হচ্ছে ‘ব্যাটম্যান’।

আমেরিকায় ৩০ বছরের কম বয়সী যারা ইউক্রেনের সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায়, তাদের সংখ্যা ৩৬ শতাংশ। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ সে যুদ্ধে যেতে চায়। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পর টেক্সাসে ডুমস ডে বাঙ্কার ক্রয় করার সংখ্যা ১১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকায় ১২টা স্টেটে রাশিয়ান ভডকা বিক্রয় বন্ধ করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে আমদানি করা ভডকার পরিমাণ ১ শতাংশ। ২০২০ সালে আমেরিকায় মদ খেয়ে ২৬ শতাংশ লোক মারা গেছেন। 


শেয়ার করুন