১২ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৪:৪০:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকজনিত মৃত্যুহার কমলেও ফেন্টানিল এখনো প্রধান হুমকি ৩৮ মিলিয়ন মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে নেতাসহ ৮ জন গ্রেফতার নারী স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক ২ মুসলিম নারীকে হয়রানি ও হুমকি রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেটদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার’ পরামর্শ ইসরায়েলি বন্ড থেকে ৮৫ শতাংশ বিনিয়োগ প্রত্যাহার মেরিল্যান্ডের মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার থেকে এক বছরে বাদ ৫০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব আবেদনের ফি ১৩৩০ ডলার বাতিল হতে পারে ফি মওকুফ ২০৩৪ সালের পর সোশ্যাল সিকিউরিটি পেনশন সুবিধা কমার আশঙ্কা এক ফোটা রক্তেই মিলবে ৫০ ধরনের ক্যানসারের ইঙ্গিত গ্রিন কার্ডধারীকেও বহিষ্কারের ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের


মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার থেকে এক বছরে বাদ ৫০ লাখ মানুষ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৬-২০২৬
মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার থেকে এক বছরে বাদ ৫০ লাখ মানুষ মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার


যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে নতুন এক প্রতিবেদনে। স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক অ্যাডভোকেসি সংগঠন প্রটেক্ট আওয়ার কেয়ারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১২ মাসে মেডিকেইড, চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম (চিপ) এবং অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (এসিএ) বা ওবামাকেয়ারভিত্তিক স্বাস্থ্যবীমা পরিকল্পনায় নিবন্ধিত মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি কমেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পতনের পেছনে দুটি বড় কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত আইন অনুযায়ী আগামী ১০ বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার মেডিকেইড ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয়ত, অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট-এর আওতায় প্রদত্ত বর্ধিত প্রিমিয়াম ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া। ফলে লাখো আমেরিকানের স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়াম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। প্রটেক্ট আওয়ার কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক ব্র‍্যাড উডহাউস বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৫০ লাখ মানুষকে কভারেজ হারাতে দেখছি। পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুনের তুলনায় মেডিকেইড ও চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম কর্মসূচিতে নিবন্ধন কমেছে প্রায় ৩৮ লাখ এবং অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট পরিকল্পনায় কমেছে আরো প্রায় ১২ লাখ। এর ফলে মোট পতনের সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি অনেকটাই পূর্বাভাসযোগ্য ছিল। গত বছরই কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) সতর্ক করেছিল যে মেডিকেইড কাটছাঁট ও অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট ভর্তুকি বাতিলের কারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবীমাহীন হয়ে পড়তে পারে।

যোগ্যতা সীমিত করা এবং একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপের এটি ছিল সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত ফলাফল। এর মূল্য দিতে হবে আমেরিকানদের জীবনহানি ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগের মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্বাস্থ্যবীমা হারানো মানুষ সাধারণত চিকিৎসা নিতে দেরি করেন বা চিকিৎসা পুরোপুরি এড়িয়ে যান। ফলে রোগ আরো জটিল আকার ধারণ করে এবং চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেডিকেইড ও চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম নিবন্ধনে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে ইন্ডিয়ানা, লুইজিয়ানা, অ্যারিজোনা, রোড আইল্যান্ড ও ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যে। অন্যদিকে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট স্বাস্থ্যবীমা পরিকল্পনায় নর্থ ক্যারোলিনা, ওহাইও, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ইন্ডিয়ানা এবং ডেলাওয়্যারে সবচেয়ে বেশি মানুষ কভারেজ হারিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে কারণ মেডিকেইডের নতুন কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত শর্ত অধিকাংশ স্টেটে আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নেব্রাস্কা ইতোমধ্যে মে মাসে এ নিয়ম চালু করেছে এবং মন্টানাও শিগগির তা অনুসরণ করবে।

ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মিরান্ডা ইয়াভার বলেন, নতুন নিয়মের কারণে বহু নিম্ন আয়ের মানুষ এবং বৈধ অভিবাসী পরিবার স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে সরে যেতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংখ্যা কেবল শুরু। সামনে কভারেজ হারানোর ঘটনা আরো দ্রুত বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যবীমা হারানো মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, হাসপাতালগুলোতে অবৈতনিক চিকিৎসা ব্যয়ও তত বাড়বে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের বড় অংশ করদাতাদের ওপরই বর্তাবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের চলমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে আরো গভীর করতে পারে।

শেয়ার করুন