১২ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৪:৪১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকজনিত মৃত্যুহার কমলেও ফেন্টানিল এখনো প্রধান হুমকি ৩৮ মিলিয়ন মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে নেতাসহ ৮ জন গ্রেফতার নারী স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক ২ মুসলিম নারীকে হয়রানি ও হুমকি রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেটদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার’ পরামর্শ ইসরায়েলি বন্ড থেকে ৮৫ শতাংশ বিনিয়োগ প্রত্যাহার মেরিল্যান্ডের মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার থেকে এক বছরে বাদ ৫০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব আবেদনের ফি ১৩৩০ ডলার বাতিল হতে পারে ফি মওকুফ ২০৩৪ সালের পর সোশ্যাল সিকিউরিটি পেনশন সুবিধা কমার আশঙ্কা এক ফোটা রক্তেই মিলবে ৫০ ধরনের ক্যানসারের ইঙ্গিত গ্রিন কার্ডধারীকেও বহিষ্কারের ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের


রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেটদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার’ পরামর্শ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৬-২০২৬
রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেটদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার’ পরামর্শ টেক্সাস রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেট সামার হালাবিকে (বাঁ-দিকে) উপস্থিত এক ডেলিগেট যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং (ডানে) মুসলিম ডেলিগেটদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন কিছু উগ্র ডেলিগেট


টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির (জিওপি) ২০২৬ সালের স্টেট কনভেনশনে অংশ নিতে গিয়ে বৈষম্য ও ইসলামবিদ্বেষের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন মুসলিম প্রতিনিধি। তাদের মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ হুসেইন, যিনি কনভেনশনে অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি দাবি করেন, একজন খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতা তাকে ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে অথবা দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। হিউস্টনের জর্জ আর. ব্রাউন কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত তিনদিনের এ সম্মেলনে রিপাবলিকান নেতারা দলীয় ঐক্য এবং শরিয়া আইন প্রতিরোধকে অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। তবে মুসলিম অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, শরিয়াবিরোধী প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ইসলামবিদ্বেষে রূপ নেয়। মিশরীয় বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ হুসেইন বলেন, যখন তারা শরিয়া-মুক্ত টেক্সাস-এর কথা বলে, তখন প্রকৃতপক্ষে তারা মুসলিম-মুক্ত টেক্সাস-এর কথাই বোঝায়। কেউ টেক্সাসে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার দাবি করছে না।

সম্মেলনের একটি জুডিও-খ্রিস্টান মূল্যবোধ বিষয়ক আলোচনায় বক্তারা দাবি করেন, মুসলিমরা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য নিজেদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে। সাবেক সাউদার্ন ব্যাপটিস্ট পাস্টর ও রাজনৈতিক সংগঠন ‘রিকভার আমেরিকার’ সভাপতি ড. রিক স্কারবরো বলেন, মুসলিমরা ক্ষমতা পেলে খ্রিস্টানদের জন্য বিপদ তৈরি করবে।

এ সময় উপস্থিত মোহাম্মদ হুসেইন বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, মুসলিমদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা টেক্সান, আমরা আমেরিকান। আমাদের সম্পর্কে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে যাতে আমরা কিছু বললেও তা বিশ্বাস করা না হয়। পরে আলোচনার শেষে স্কারবরো ও হুসেইনের মধ্যে কথোপকথন হয়। হুসেইনের দাবি, তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি কি চান আমি চলে যাই? উত্তরে স্কারবরো বলেন, হ্যাঁ। পরে এক সাক্ষাৎকারে স্কারবরো স্পষ্ট করেন যে তিনি হুসেইনকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথাই বলেছিলেন। এই ঘটনার পর আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হুসেইন। পরে স্কারবরো তার কাছে গিয়ে প্রার্থনার প্রস্তাব দেন এবং পরবর্তীতে মন্তব্য করেন যে তিনি হয়তো হুসেইনকে অতিরিক্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে মুসলিম প্রতিনিধি সামার হালাবি ও তার স্বামী আমজাদ মুহতাসেবও কনভেনশনে হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। হালাবি বলেন, একজন অংশগ্রহণকারী তাকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন। ঘটনাটির পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তবে কনভেনশনে সবাই একই অবস্থান নেননি। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মানো ডি-আয়ালা সতর্ক করে বলেন, দল যদি অখ্রিস্টান রক্ষণশীলদের দূরে ঠেলে দেয়, তাহলে রিপাবলিকান পার্টির সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, আমরা যদি দলকে বড় করতে চাই, তাহলে আরো মানুষকে এ ছাতার নিচে আনতে হবে। ঘটনার পর মোহাম্মদ হুসেইন বলেন, তিনি এখনো নিজেকে রক্ষণশীল মূল্যবোধের সমর্থক মনে করেন, তবে কনভেনশনের অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। তার ভাষায়, আমি জানতে চেয়েছিলাম রিপাবলিকান পার্টিতে আমার জন্য কোনো জায়গা আছে কি না। কিন্তু যা দেখলাম, তাতে মনে হয়েছে অনেকের কাছে মুসলিমদের জন্য কোনো স্থান নেই। এখন নভেম্বরের নির্বাচনে আমি সেই প্রার্থীকে ভোট দেব, যিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পক্ষে দাঁড়াবেন।

এ ঘটনা টেক্সাসের রাজনীতিতে ধর্মীয় সহনশীলতা, মুসলিম আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ভোটারদের একটি অংশ সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের কারণে রক্ষণশীল রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হলেও সাম্প্রতিক ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

শেয়ার করুন