লালদিয়া বন্দর
অনির্বাচিত ও অসংবিধানিক সরকার কোন ক্ষমতায় বিদেশী সংস্থাকে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দিলো? গত ১৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতা থেকে অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। কাকতলীয় বিষয় হলো দণ্ডাদেশ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সরাসরি দেখানোর সময়ে একদল বুলডোজার দিয়ে ধানমন্ডি ৩২নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্ববাসীকে দেখানো হলো পুলিশ, সেনা সদস্যরা দুষ্কৃতিকারীদের কিভাবে নিবৃত করে। দেশ জুড়ে যখন সবাই এই দুটি দৃশ্য দেখছিলো তখন নিভৃতে সরকার বাংলাদেশের দুটি বন্দর পরিচালনার জন্য বিদেশী সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি সম্পাদন করে। সরকার রীতিমতো জোরজবরদস্তি করে এসব চুক্তি করছে। দেশের মানুষ, বিশেষজ্ঞ- কারও কথা না শুনে, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা না করে ভয় দেখিয়ে একের পর এক চুক্তি করছে সরকার।
দেশের এক ক্রান্তি লগ্নে বিশেষ বিবেচনায় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ হলো একটু সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তর এগিয়ে নেওয়া। এ জন্য যে ধরনের সংস্কার দরকার, সেই সংস্কার নিশ্চিত করা। আর কয়েক মাস পর নির্বাচন। নির্বাচন ভালোমতো করার জন্য যা যা করা দরকার, সেটি করার জন্য মনোযোগ দেওয়া। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করা। পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা। অথচ এসব দিকে সরকারের মনোযোগ বা সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না।
আমরা জানি একটা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার এ রকম অস্থায়ী সরকারের থাকে না। এসবের জন্য নির্বাচিত সরকার দরকার হয়। শুধু নির্বাচিত সরকারও দেশবাসীকে অন্ধকারে অন্ধকারে রেখে চুক্তি করতে করতে পারে না। নির্বাচিত সরকার এ ধরনের চুক্তি করলে সেগুলো সংসদে তুলতে হবে, সেখানে তর্ক-বিতর্ক হবে, দেশের মানুষ জানবে।
পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বিশেষ আইন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেই বাতিল করেছে। অথচ সেই সরকার এখন অসৎ উদ্দেশে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করলো। এই ধরনের চুক্তি একবার সম্পাদিত হলে বাতিল করা দুরূহ হয়ে পড়ে। সরকার এই কাজটি করার কোন নৈতিক অধিকার রাখে না, এর পেছনে দুরভিসন্ধি আছে সেটি সহজেই অনুমেয়।
বলছি না বন্দরগুলো ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশী দক্ষ প্রতিষ্ঠান যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকার নিয়োগ দিতে পারে। কিন্তু হয়ত প্রভুদের স্বার্থ রক্ষায় কাজটি তড়িঘড়ি করে করেছে সরকার।