২৫ মে ২০২৬, সোমবার, ০৪:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রকাশ করে সুন্দরবন নিয়ে উদ্বেগ সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ চান বিশেষজ্ঞরা ক্যানাডার কুইন্স বিশ্বাবিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিষয়ক অনুষ্ঠান পালিত অভিবাসীকে গুলির ঘটনায় আইস এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা ওপেন হার্ট সার্জারি ছাড়াই মিনিমালি ইনভেসিভ হার্ট বাইপাস বাংলাদেশী মা-ছেলেকে খুন : জেমসের বিচার শুরু মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্নে সান ডিয়েগোর মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় নিহত ৫ নিউ ইয়র্কে ইমিগ্রেশন কোর্টে আইস গ্রেফতার কার্যক্রমে ফেডারেল বিচারকের নিষেধাজ্ঞা গ্রিনকার্ডধারীদের যাচাই-বাছাই ও বহিষ্কার পবিত্র ঈদুল আজহা ২৭ মে : ঈদের জামাত কখন কোথায়


নিউইয়র্কে ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০৩-২০২৬
নিউইয়র্কে ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে


নিউইয়র্ক সিটিতে দারিদ্র্য পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরের প্রতি চারজনের একজন এখন দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। রবিন হুড ফাউন্ডেশন এবং কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির যৌথভাবে প্রকাশিত “পভার্টি ট্র্যাকার” প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ফেডারেল সহায়তা কর্মসূচিতে কাটছাঁট হলে এই সংকট আরও গভীর হয়ে বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ২২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেছে। এর মধ্যে ১৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু রয়েছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।

এছাড়া, শহরের প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষকে নিম্ন আয়ের হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষদের সঙ্গে এদের যুক্ত করলে দেখা যায়, মোট জনসংখ্যার ৫৯ শতাংশ-অর্থাৎ প্রায় ৫০ লাখ মানুষ-নিম্ন আয় বা দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছে। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনের তিনজন দারিদ্র্যসীমার ২০০ শতাংশের নিচে বসবাস করছে, যা তাদের যেকোনো সময় দারিদ্র্যের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রাখছে।

যদিও গত দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে মূল্যস্ফীতির প্রভাবের কারণে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। জাতিগত বৈষম্যও এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এশীয় এবং লাতিনো জনগোষ্ঠীর মানুষ শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে দারিদ্র‍্যরে শিকার। কৃষ্ণাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীদের মধ্যে দারিদ্র‍্যরে হার ২৭ শতাংশ, যা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। শিশুদের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৬৯ শতাংশ শিশু-সংখ্যায় প্রায় ১১ লাখ-নিম্ন আয় বা দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে বসবাস করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরটি এখন দুটি দারিদ্র্য সংকটের মুখে-একটি বর্তমান, অন্যটি আসন্ন। কারণ, স্ন্যাপসহ গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সম্ভাব্য কাটছাঁট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কাটছাঁটের ফলে ২০২৮ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ৭০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে।

রবিন হুড ফাউন্ডেশনের সিইও রিচার্ড বুয়েরি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি দারিদ্র্যের এক বিপজ্জনক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ভাড়া, শিশুসেবা এবং খাদ্যের ক্রমবর্ধমান খরচ ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। এখন যদি ফেডারেল সহায়তা কমে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

প্রতিবেদনটি জানায়, ২০২৪ সালে খাদ্য ও আবাসনের মতো মৌলিক চাহিদার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে টানা তৃতীয় বছরের মতো দারিদ্র্য রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহরের অর্ধেক মানুষ অন্তত এক ধরনের আর্থিক বা সামাজিক বঞ্চনার সম্মুখীন হয়েছে।

তবে স্ন্যাপ, মেডিকেইড এবং চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের মতো সরকারি সহায়তা কর্মসূচি ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে দারিদ্র‍্যসীমার ওপরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতি মাসে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ SNAP-এর মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পায়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, স্ন্যাপ সুবিধাভোগীদের অধিকাংশই কর্মরত। কিন্তু কম মজুরি, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে তারা এখনও আর্থিক সংকটে রয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ সুবিধাভোগী কোনো না কোনো ধরনের কষ্টের সম্মুখীন হন, এবং ৬২ শতাংশ পরিবার প্রায়ই খাদ্য সংকটে ভোগে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রস্তাবিত নতুন ফেডারেল আইন কার্যকর হলে স্ন্যাপ সুবিধা কমে যেতে পারে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ পরিস্থিতিতে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও সিটি প্রশাসনকে খাদ্য সহায়তা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশু ভাতা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নিউইয়র্ক সিটির দারিদ্র্য পরিস্থিতি একটি বড় মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক সহায়তা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন