২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১০:২৯:২৮ অপরাহ্ন


যৌন অপরাধে হাসান খানের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৪-২০২৬
যৌন অপরাধে হাসান খানের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ পাকিস্তানি-আমেরিকান হাসান খান


ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস গত ২৩ এপ্রিল এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপে নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের এক দণ্ডিত পাকিস্তানি-আমেরিকান চিকিৎসকের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক হাসান শেরজিল খান বর্তমানে একটি ১১ বছর বয়সী শিশুকে যৌনভাবে শোষণের মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

মামলাটি দায়ের করেছেন নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জে ক্লেটন। জাস্টিসে জানিয়েছে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে চলমান বৃহৎ একটি উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রাকৃতিকীকৃত নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল করা। চিকিৎসক হাসান খান ২০১৬ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০১৩ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান বলে অভিযোগ, তবে বিচার বিভাগের দাবি তিনি নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন করেছিলেন।

ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেন, ন্যাচারালাইজেশন বা মার্কিন নাগরিকত্ব কোনো যৌন অপরাধীকে তার ভয়াবহ অপরাধের দায় থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, যদি কেউ আবেদন করার সময় গুরুতর অপরাধ গোপন করে, তাহলে সরকার তার মিথ্যা উন্মোচন করবে এবং অবৈধভাবে অর্জিত নাগরিকত্ব বাতিল করবে।

বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসান খান ২০১২ সালের আগস্টে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। এর মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ওই কিশোরীকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে যৌনভাবে প্রলুব্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২০১৬ সালে তিনি দোষ স্বীকার করে ১৭ বছরের কারাদণ্ড পান। আদালতে ভুক্তভোগী জানান, এই নির্যাতনের কারণে তিনি গভীর মানসিক সমস্যায় ভুগেছেন, বিষণ্নতা, খাদ্যজনিত অসুস্থতা, আত্মক্ষতির প্রবণতা এবং পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

বিচার বিভাগের অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসান খান নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন করেন এবং সৎ চরিত্র প্রমাণের শর্ত পূরণ করেননি। আইন অনুযায়ী, এমন গুরুতর নৈতিক অপরাধ নাগরিকত্ব পাওয়ার অযোগ্যতা তৈরি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গত জুনে একটি অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় যৌন অপরাধসহ ১০টি গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নীতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে শত শত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র ম্যাথিউ ট্র‍্যাগেসার বলেন, আমরা নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় প্রতারণা করা অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে জবাবদিহির আওতায় আনছি। তিনি আরো দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের সময় এক বছরে যত মামলা হয়েছে, তা পূর্ববর্তী প্রশাসনের পুরো চার বছরের চেয়ে বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মামলা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব নীতিতে নতুন করে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে জড়িত প্রাকৃতিকীকৃত নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ আরো জোরদার করা হচ্ছে।

বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতই নির্ধারণ করবে হাসান খানের নাগরিকত্ব বাতিল হবে কিনা। এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব আইন ও অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন