০৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৭:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন


মার্চ মাসে গণপিটুনিতে ১৯ জন নিহত
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৪-২০২৬
মার্চ মাসে গণপিটুনিতে ১৯ জন নিহত


মার্চ মাসে দেশে অন্তত ৩৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৯ জন নিহত ও ৩১ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। গণপিটুনির শিকার ১৩ জনকে আহতাবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন মার্চ, ২০২৬- এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। এমএসএফ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। 

এতে বলা হয় যে, গণমাধ্যমসূত্রে পাওয়া এমএসএফ’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী মার্চ মাসে ধারাবাহিকতায় গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসে হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে ঘটেই চলেছে। যা জনমনে নিরাপত্তা বোধের বিষয়টি নিরাপত্তাহীনতার জায়গাটি প্রশ্নাতীতভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়াও ধর্ষণ এবং ধর্ষণ চেষ্টার হার বেড়ে যাওয়ায় ধর্ষণে অভিযুক্তদের ধরে গণপিটুনি দেয়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের পাওয়া মাত্র গণপিটুনি দিয়ে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর নিকট সোপর্দ করার লক্ষ্যণীয় প্রভাব থাকায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। 

অন্যদিকে পরিসংখ্যানে আরও বলা হয় গণপিটুনিতে নিহতের মধ্যে ৩ জন ছিনতাইয়ের অভিযোগে, ৫ জন চুরির অভিযোগে, ৬ জন বাকবিতন্ডার জেরে, ২ জন ডাকাতির অভিযোগে, ১ জনকে কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ২ জনকে জমির সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগে হত্যা করা হয়। অপরদিকে ৮ জন চুরির অভিযোগে, ১ জন ছিনতাইয়ের অভিযোগে, ১ জনকে ভুয়া সাংবাদিকের অভিযোগে, ৩ জনকে বাকবিতন্ডার জেরে, ৬ জন কে ধর্ষনের অভিযোগে, ১ জনকে রাজনৈতিক কারণে এছাড়া লেনদেনের জেরে, কটূক্তি, প্রতারণা, এ ধরনের অপরাধজনিত কারণে ১২ জনকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

উল্লেখ্য কথিত চুরির অভিযোগে সমাজপতিরা দোষী সাব্যস্ত করে সালিশে মব সৃষ্টি করে মারধর করায় পিরোজপুরে একজন অটোরিকশাচালক ও জামালপুরে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। 

এমএসএফ মনে করে, গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাস করে হত্যা করা অবশ্যই ফৌজদারী অপরাধ যা বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে গণপিটুনির সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

এদিকে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সহিংসতার বেশিরভাগ ঘটনায় সরকারি দল বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তারের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, যা জনমনে আতংক তৈরি করছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৬ টি ঘটনায় সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪০৪ জন ব্যক্তি। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে নারীসহ ১৪ জন নিহত এবং ৩৯০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ১০ জন, জামায়াতের ২ জন, ১ জন নারী এবং ১ জনের রাজনৈতিক পরিচয় সঠিকভাবে জানা যায়নি। 

সহিংসতার ৫৬ টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ৩১টি, বিএনপি- আওয়ামী লীগ ৯টি, বিএনপি-জামাত সংঘর্ষের ৮টি, বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষের ২টি, জামাতের অন্তর্দ্বন্দ্বে ১টি ঘটেছে। সহিংসতার ৫৬ টি ঘটনার মধ্যে ৫ টি ঘটনায় ভাংচুর হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

দুস্কৃতিকারীদের হামলায় নিহত ও অপমৃত্যু 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী মার্চ মাসে দুষ্কৃতিকারি কর্তৃক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপর হামলার ১২ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ জন। এছাড়াও ১ জনের অপমৃত্যু ও ১ জন ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নিহত হয়েছেন। দুষ্কৃতিকারি কর্তৃক নিহত ৩ জনের মধ্যে ২ জন বিএনপির এবং ১ জন লীগের কর্মী বা সমর্থক। আর অপমৃত্যু ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নিহত সকলেই বিএনপির।

শেয়ার করুন