০৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৯:৪৭:২৫ অপরাহ্ন


খুনি রোলবার্ট জোয়াকিন গ্রেফতার
ফোর্ট মায়ার্সে হাতুড়ি দিয়ে বাংলাদেশি নীলুফারকে নৃশংসভাবে খুন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৪-২০২৬
ফোর্ট মায়ার্সে হাতুড়ি দিয়ে বাংলাদেশি নীলুফারকে নৃশংসভাবে খুন নীলুফার ইয়াসমিনের লাশ দাফন


যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্সে এক দুর্বৃত্তের নির্মম হাতুড়ির পিটুনিতে প্রবাসী এক বাংলাদেশি নারী নীলুফার ইয়াসমিন (৪২) নিহত হয়েছেন। তিনি স্থানীয় ডিঅ্যান্ডডি কনভেনিয়েন্স স্টোরে কাজ করছিলেন। গত ২ এপ্রিল সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে রুটিন শিফটে দোকান খোলার পরই হামলা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত রোলবার্ট জোয়াকিন (৪০) হাতে হাতুড়ি নিয়ে দোকানের কাছে আসে এবং লক করা দরজায় আঘাত করতে থাকে। প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে তিনি বাইরে পার্ক করা একটি গাড়ির জানালা ভাঙতে শুরু করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী বারবার গাড়ির জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজিত হলে নীলুফার বাইরে বেরিয়ে আসে এবং হামলাকারীর সঙ্গে মুখোমুখি হন। তখনই তাকে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং হামলাকারী তাকে আরো কয়েকবার আঘাত করার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর মাথার আঘাতের কারণে নীলুফার ঘটনাস্থলেই মারা যান।

হামলার সময় একজন স্প্যানিশ ভাষাভাষী সহকর্মী দোকানের ভেতরে ছিলেন এবং পরে দোকানের মালিককে ঘটনার বিবরণ দেন। পুলিশের দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় হামলার খবর পাওয়ার পর আশপাশের এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হয় এবং কয়েকটি স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউন করা হয়। পরে পুলিশ রোলবার্ট জোয়াকিনকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক মাইল দূরে গ্রেফতার করে। তিনি লি কাউন্টি জেলে বন্দী রয়েছেন এবং হত্যাসহ সম্পত্তি ক্ষতি করার অভিযোগে চার্জ করা হয়েছে। পুলিশ এখনো হামলার মোটিভ প্রকাশ করেনি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

নীলুফার ইয়াসমিন বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার কুশাখালী ইউনিয়ন, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অধিবাসী ছিলেন। তিনি স্বামী থেকে বিচ্ছেদের পর দুই কন্যা শিশুর সঙ্গে ফোর্ট মায়ার্সে বসবাস করছিলেন। তার কন্যা দুজনই বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নীলুফার সম্প্রতি মিয়ামি থেকে ফোর্ট মায়ার্সে এসেছেন এবং প্রায় ছয় মাস ধরে ওই কনভেনিয়েন্স স্টোরে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং গ্রাহকদের কাছে একজন পরিচিত, আন্তরিক ও পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। অন্যদিকে নিহতের ভাই সালাহউদ্দিন মানিক, কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইয়ের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায় বিচারের দাবি তুলেছেন। স্বামী থেকে বিচ্ছেদের পর তিনি দুই কন্যাকে নিয়ে ফোর্ট মায়ার্সে বসবাস করছিলেন। তার কন্যারা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। নীলুফার সম্প্রতি মিয়ামি থেকে ফোর্ট মায়ার্সে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং ছয় মাস ধরে ডিঅ্যান্ডডি কনভেনিয়েন্স স্টোরে কাজ করছিলেন। তিনি কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন মানিকের বোন। স্থানীয়রা তাকে পরিচিত, আন্তরিক ও পরিশ্রমী হিসেবে মনে করেন।

ঘটনার কয়েকদিন আগে খুনি রোলবার্ট জোয়াকিন একই দোকানে এসে এটিএম থেকে টাকা তুলতে চেষ্টা করেছিলেন এবং ভুল পিন দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে নীলুফারকে মৌখিকভাবে গালিগালাজ করেন। কর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করেন। হামলার দিন সকালে তিনি আবার দোকানে এসে নীলুফারকে খুঁজতে থাকেন এবং পরে হামলা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী প্রথমে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করেন এবং পরে নীলুফারকে আক্রমণ করেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনরা এ নির্মমতার বিরুদ্ধে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। পুলিশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখছে। এ হত্যাকা- স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও প্রবাসী সমাজকে শোকাহত করেছে। স্থানীয়রা পুলিশের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়ার আশা করছেন।

এ হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও কমিউনিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং পুলিশের দাবি, পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মোটিভ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। নীলুফারের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি শোকাহত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে।

এদিকে নীলুফার ইয়াসমীনের নাসাজে জানাজা মায়ামীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজে জানাজা শেষে তাকে সেখানেই মুসলিম গোরস্তানে দাফন করা হয়।

শেয়ার করুন