১০ জুন ২০২৬, বুধবার, ০২:০০:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাত্র এক ডোজেই কমতে পারে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত খারাপ কোলেস্টেরল নিউ ইয়র্কের ফোনমুক্ত স্কুলে কমেছে বুলিং আরবি ভাষা ও শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারো বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ভিসা : দুইবারের বেশি দূতাবাসে যেতে হবে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ : তারেক রহমানের ‘না’ সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের


প্রবীণরা রোগ শোকের চেয়ে বেশি একাকিত্বে ভোগেন
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-০৫-২০২৬
প্রবীণরা রোগ শোকের চেয়ে বেশি একাকিত্বে ভোগেন মঞ্চে অতিথিবৃন্দ


বৃদ্ধ বয়সে মানুষ যতটা রোগ শোকে পড়ে তার থেকে বেশি একাকিত্বে ভোগেন। তাই যতক্ষণ মানুষের সক্ষমতা থাকে ততক্ষণ যাতে সে কাজ করতে পারে এ বিষয়টি দেখতে হবে। একইসাথে বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে মানবিক সেবা থাকতে হবে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধাশ্রমের সাথে সংযোগ করে দিতে হবে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে আন্তঃপ্রজন্ম নীতি-নির্ধারণী বিষয়ক একটি জাতীয় কনসালটেশন সভায় এসব কথা বলেন আলোচকরা। রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কনসালটেশন সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান ও উন্নয়ন সংস্থা নারী পক্ষ এর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার। এছাড়া সভায় সম্মানীত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারী পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন হক। সভায় আন্তঃপ্রজন্ম নীতি-নির্ধারণী বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু। কনসালটেশন সভায় প্রকল্প পরিচালিত দেশের বিভিন্ন আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাবের নবীন-প্রবীণ সদস্যগণ অংশ নিয়ে আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অংশগ্রহণকারীগণ বর্তমানের আর্থ:সামাজিক চ্যালেঞ্জিং প্রেক্ষাপটে নবীন-প্রবীণের সংহতির উপর জোর তাগিদ দেন। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি—ভিত্তিক আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব গঠন করে প্রবীণদের সুরক্ষায় আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দান করেন। 

উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) জার্মান ইকনোমিক কোঅপারেশন (বিএমজেড) ও হেল্পএইজ জার্মানী এর সহযোগিতায় ‘ইমপ্রুভড ইনকাম সিকিউরিটি থ্রু স্ট্রেনদেনদ্ ইন্টারজেনারেশনাল গ্রুপস ফর ওল্ডার পিপল ইন বাংলাদেশ শিরোনামে একটি আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক প্রবীণ সুরক্ষা কার্যক্রম বান্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে- নবীন-প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির মাধ্যমে প্রবীণদের আয় নিরাপত্তার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, দুর্যোগ ও জলবায়ু প্রশমনে প্রবীণের অন্তর্ভুক্তি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া প্রবীণ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। 

এতে প্রধান অতিথি, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব প্রবীণদের সুরক্ষায় আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক কার্যক্রমের অভিনত্বের বিষয়টির প্রশংসা করেন। এ ব্যাপারে তিনি সরকারি-বেসরকারি সকল উদ্যোগকে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, আগামী জুন মাসে প্রবীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশে যে সকল মডেল রয়েছে সেকল মডেল নিয়ে আলোচনা করা হবে যাতে সরকার প্রবীণদের সহায়তা দেয়ার জন্য কোন মডেল নিয়ে কাজ করবে তা নির্ধারণ করা যায়।

এতে আবু সাঈদ খান বলেন, দেশের প্রধান সমস্যা সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন নেই। এই উপলব্ধি সরকারের থাকা দরকার। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সঙ্গে নীতি নিয়ে যারা কাজ করে তাদের সংযোগ আরো বাড়াতে হবে এবং পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রবীণদের জন্য অনেক কাজ করছেন। তবে প্রবীণদের অধিকার অর্জনে বাধ্য করার মতোই জোর করে কাজ আদায় করে নিতে হবে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, সমস্ত বছর জুড়ে স্বাস্থ্যের চাহিদা রয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন, যা রিক ইতোমধ্যেই করছে।

শিরীন হক বলেন, বৃদ্ধ বয়সে মানুষ যতটা রোগ শোকে পড়তে তার থেকে বেশি একাকিত্বে ভোগেন। তাই যতক্ষণ মানুষের সক্ষমতা থাকে ততক্ষণ যাতে সে কাজ করতে পারে এ বিষয়টি দেখতে হবে। একইসাথে বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে মানবিক সেবা থাকতে হবে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধাশ্রমের সাথে সংযোগ করে দিতে হবে।

রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খান বলেন, আমরা বর্তমানে এমন একটি আর্থ-সামাজিক কাঠামোর মধ্যে বসবাস করছি যেখানে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে কেবল একক পরিবারে রূপান্তরিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রবীণদের সংখ্যা যেহেতু আগের চেয়ে ক্রমেই বেগে চলেছে, তথাপি প্রবীণদের সুরক্ষার বিষয়টি ক্রমে কমে যাচ্ছে। দ্রুত নগরায়নের ফলে সকলেই শহরমুখী হয়ে পড়ার কারণে তাদের পাশে আপনজন কেউ আর থাকছে না। এই অবস্থায় আন্তঃপ্রজন্ম সম্প্রীতি এখন খুবই প্রয়োজন।

শেয়ার করুন