প্রতীকী ছবি
নিউইয়র্কে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দকৃত স্টেট তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ৮ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন পাকিস্তানিসহ মোট ৯ জন দোষ স্বীকার করেছেন। কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি লাং যৌথভাবে ঘোষণা করেছেন যে, দোষ স্বীকারের অংশ হিসেবে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালত তাদের মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার পুনঃপ্রদান বা রেস্টিটিউশন করার নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার স্টেটকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। দোষ স্বীকারকৃত আসামিরা হলেন: মাহবুব মালিক (এস্টোরিয়া, কুইন্স), তুফাইল আহমেদ (জ্যামাইকা, কুইন্স), ইউসুফ এমডি (এলমহার্স্ট, কুইন্স), মোহাম্মদ চৌধুরী বা খোকন আশরাফ (জ্যাকসন হাইটস, কুইন্স), নাদীম শেখ (নিউ হাইড পার্ক, নাসাউ), জাকির চৌধুরী (জ্যামাইকা, কুইন্স), মোহাম্মদ খান (জ্যামাইকা হিলস, কুইন্স), তানভীর মিলন (ফার্মিংডেল, নাসাউ), জুনেদ খান (সাফোক কাউন্টি)।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২০ সালের জুন থেকে আসামিরা এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট পরিচালিত প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রামে ভুয়া অনলাইন আবেদন জমা দিয়ে হাজার হাজার ডলার আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিটি লোন আবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে তহবিল ব্যবসায়ের খরচ, যেমন পেরোল, বাণিজ্যিক ভাড়া/মর্টগেজ, ইউটিলিটি এবং সরবরাহ সামগ্রী মেটাতে প্রয়োজন। কিন্তু প্রাপ্ত অর্থ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
ব্যাংক হিসাবের বিস্তৃত পর্যালোচনা দেখিয়েছে, গ্রান্ট পাওয়ার আগে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম দেখা যায়নি এবং ট্যাক্স রিটার্নেও কোনো রাজস্ব বা খরচের তথ্য নেই। নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল অফিস ২০২৪ সালের মে মাসে এ মামলার তদন্ত শুরু করে এবং কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি অফিসকে প্রেরণ করে। ২০২৫ সালের ৬ থেকে ৯ মের মধ্যে আসামিরা পৃথকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। বেশিরভাগ আসামি গ্র্যান্ড লারসেনি এবং পেটিট লারসেনি তে দোষী স্বীকার করেছেন। একজন, মাহবুব মালিক, গ্র্যান্ড লারসেনিতে দোষী স্বীকার করে তিন বছর শর্তাধীন ছাড় পান।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ বলেন, এই ৯ জন আসামি স্বীকার করেছেন যে তারা কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংগ্রামরত ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত রাজ্য তহবিল চুরি করেছেন। এই তহবিলগুলো নিউইয়র্কবাসীর জন্য একটি অপ্রত্যাশিত সংকট থেকে বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দোষী স্বীকারের অংশ হিসেবে, তারা এখন পুনঃপ্রদান করতে বাধ্য। আমি আমার অফিসের ফ্রডস ব্যুরো এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল অফিসকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন।
ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি লাং বলেন, দুর্যোগ তহবিল ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা যে কোনো সময়ই অপরাধ এবং লজ্জাজনক, বিশেষ করে একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটের সময়। আজকের দোষী স্বীকার এবং মিলিয়ন ডলারের ট্যাক্সপেয়ারের অর্থ উদ্ধার সম্ভব করার জন্য আমার অফিসের টিম, জেলা অ্যাটর্নি কাতজ এবং আমাদের আইনপ্রয়োগকারী সহযোগীদের ধন্যবাদ।
মামলার তদন্ত পরিচালনা করেছেন কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি অফিস এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অফিসের যৌথ টিম, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছেন এনওয়াইপিডি স্কোয়াডের সদস্যরা। মামলাটি পরিচালনা করেছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট জেলা অ্যাটর্নি তালিয়া ভোগেল, এবং তত্ত্বাবধানে ছিলেন হানা সি কিম ও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট জেলা অ্যাটর্নি জোসেফ টি কনলি।