১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ০২:২৬:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি - প্রধানমন্ত্রী ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সূচনা নিজেই শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেক্সাসে বিতর্কিত নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদনে মুসলিমদের ক্ষোভ ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তারেক-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন দুদকে তারেকের কূটনৈতিক চালে ধরাশায়ী হাসিনা মুসলিম বিদ্বেষে কিশোর আলী হত্যায় মায়ার্সকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড অক্টোবরে বাড়ছে স্ন্যাপ সুবিধা ও আয়সীমা


ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা নিয়ে হাউস সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের বিভাজন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৪-২০২৬
ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা নিয়ে হাউস সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের বিভাজন মার্কিন কংগ্রেস


ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের মধ্যে এবার বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নজিরবিহীন ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একাধিক ভোটে বিপুলসংখ্যক ডেমোক্র্যাট ও তাদের মিত্র সিনেটর ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সিনেটে সাম্প্রতিক ভোটে ৪০ জন ডেমোক্র্যাট ও মিত্র সিনেটর বুলডোজার সরবরাহ বন্ধের পক্ষে এবং ৩৬ জন বোমা সরবরাহের বিপক্ষে ভোট দেন, যদিও প্রস্তাবগুলো যথাক্রমে—৪০-৫৯ এবং ৩৬-৬৩ ভোটে ব্যর্থ হয়। একই সময়ে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ২১৩-২১৪ ভোটে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। এ ভোটগুলো দেখাচ্ছে, কংগ্রেসের উভয়কক্ষেই বৈদেশিক নীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মতবিরোধ ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

সিনেটে প্রথমে ৪০ জন ডেমোক্র্যাট ও মিত্র সিনেটর ইসরায়েলে পাঠানো মার্কিন তৈরি বুলডোজার সরবরাহ বন্ধের পক্ষে ভোট দেন। এর পরপরই ৩৬ জন সিনেটর বোমা সরবরাহের বিরুদ্ধেও ভোট দেন। যদিও এই প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি। কারণ রিপাবলিকানদের সর্বসম্মত সমর্থন ইসরায়েলের পক্ষে ছিল। তবুও এ ভোটগুলোকে কংগ্রেসে ইসরায়েলের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তার নেতৃত্বে আনা এ বিলগুলো ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে যেখানে তারা শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরোধিতা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক সহযোগিতার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ভোটের আগে অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি সমর্থনের ঘোষণা দেন, যা বিশ্লেষকদের মতে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সম্ভাব্য ডেমোক্র‍্যাট নেতাদের অবস্থান বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ভোটগুলো ডেমোক্র্যাট পার্টির বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তনের প্রবণতা আরো স্পষ্ট করেছে।

তবে সব ডেমোক্র্যাট এ প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন না। সাতজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন চাক শুমার, কির্স্টেন গিলিব্র্যান্ড এবং জন ফেটারম্যান। সিনেটর ক্রিস কুনস ভোটের আগে সহকর্মীদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে উৎসাহিত করেন। একই সময়ে প্রভাবশালী লবিং গ্রুপ এআইপ্যাক কংগ্রেস সদস্যদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে আহ্বান জানায়।

বুলডোজার সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ অভিযোগ রয়েছে যে ইসরায়েল এসব বুলডোজার পশ্চিম তীর, গাজা ও লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে ব্যবহার করেছে। প্রস্তাবের সমর্থকরা এটিকে যুদ্ধবিরোধী একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে তুলে ধরেন। সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী নীতির মতোই ইসরায়েল নীতির ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত।

এ ভোটগুলো শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে নয়, বরং আগের বাইডেন প্রশাসনের নীতির প্রতিও এক ধরনের সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, বাইডেন প্রশাসনও বিভিন্ন সমালোচনা সত্ত্বেও ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল। মানবাধিকার ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই ফলাফলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে মার্কিন রাজনীতিতে ফিলিস্তিন প্রশ্নে জনমতের প্রতিফলন বাড়ছে। ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর নির্বাহী পরিচালক মার্গারেট ডেরিউস বলেন, এ ভোট প্রমাণ করে যে মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরোধিতা করছে।

অন্যদিকে এআইপ্যাক ভোটের পর তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন তারা এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া সিনেটরদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) এই ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ক্রমবর্ধমান সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, যদিও প্রস্তাবগুলো পাস হয়নি, তবুও কংগ্রেসে এই বিষয়ে সমর্থন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি প্রস্তাব সিনেটে ৪৭-৫২ ভোটে ব্যর্থ হয়। একই ধরনের একটি প্রস্তাব হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২১৩-২১৪ ভোটে খুব অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়। এসব ভোটে দেখা যায়, অধিকাংশ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, যদিও কিছু ব্যতিক্রমও ছিল।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক এ ভোটগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মধ্যপ্রাচ্য নীতি, বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরান সংক্রান্ত বিষয়ে ধীরে ধীরে মতবিরোধ বাড়ছে। যদিও এখনো বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসেনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রবণতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন