নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা ও অভিবাসন সংস্কার নীতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে এ নীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অংশ হিসেবে বৈশ্বিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভারতের বিপুলসংখ্যক দক্ষকর্মী ও শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ায় নতুন নিয়ম নিয়ে দেশটিতে উদ্বেগ বাড়লেও ওয়াশিংটন বলছে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আরো কার্যকর করার উদ্যোগ। নয়াদিল্লিতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও বলেন, ভারত থেকে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে বর্তমান সংস্কার কেবল ভারতের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেরও অধিকার আছে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী অভিবাসন নীতি নির্ধারণ করার।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর এ সময় বৈধ ভ্রমণকারী, প্রযুক্তি খাতের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় ভারত সহযোগিতা করছে, তবে বৈধ অভিবাসন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিই ভারতের প্রত্যাশা। বিশেষ করে প্রযুক্তি, গবেষণা ও ব্যবসায়িক খাতে ভারতীয়দের উপস্থিতি দুদেশের কৌশলগত সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেক্রেটারি অব স্টেটমার্কো রুবিও বলেন, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটির বেশি মানুষ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে, যা দেশটির জন্য বড় ধরনের অভিবাসন সংকট তৈরি করেছে। এই বাস্তবতা মোকাবিলায় অভিবাসন ব্যবস্থাকে ২১ শতকের উপযোগী করতে সংস্কার আনা হচ্ছে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরেই এ সংস্কার প্রয়োজন ছিল। তিনি আরো বলেন, নতুন ব্যবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু জটিলতা ও ফ্রিকশন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে শেষ পর্যন্ত এটি আরো কার্যকর, টেকসই এবং দক্ষ অভিবাসন কাঠামো গড়ে তুলবে। রুবিওর দাবি, নতুন এ ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় দক্ষকর্মীদের জন্য আরো উন্নত সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীদের বড় একটি অংশ এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রোগ্রামের আওতায় কাজ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ ভিসা কর্মসূচি নিয়ে কংগ্রেসে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু রিপাবলিকান নেতা দাবি করছেন, বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের চাকরির সুযোগ বাড়ানো উচিত। অন্যদিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বলছে, দক্ষকর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে।
সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও আরো উল্লেখ করেন, ভারতীয় কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক শুধু কৌশলগত নয়, অর্থনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনে ভারতবিরোধী বর্ণবাদী মন্তব্যের প্রসঙ্গও ওঠে। এ বিষয়ে রুবিও বলেন, প্রতিটি দেশেই কিছু বোকা মানুষ থাকে যারা অনলাইনে বা প্রকাশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য করে। যুক্তরাষ্ট্রও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষ দেশটির অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ও আমেরিকা ফার্স্ট অবস্থান আগামী মাসগুলোতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাত, শিক্ষার্থী ভিসা এবং দক্ষকর্মীদের চলাচলের ক্ষেত্রে।