১০ জুন ২০২৬, বুধবার, ০২:৫৭:৫০ অপরাহ্ন


খুলনা শিপইয়ার্ড প্রকল্পে গাফিলতি : তদন্তের নির্দেশ
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৬-২০২৬
খুলনা শিপইয়ার্ড প্রকল্পে গাফিলতি : তদন্তের নির্দেশ


২০১৩ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত খুলনা শিপইয়ার্ড প্রকল্পের মেয়াদ একযুগে দফায় দফায় বৃদ্ধি করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ৯ জুন মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা আসে।

খুলনা শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে একনেকে অনুমোদন পায়। তবে প্রকল্পের কাজটি শুরু হয় ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। এই সাড়ে তিন বছরের অধিক সময়ে কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে ৭০ শতাংশ। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করে লাপত্তা। সড়ক সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় ৭ আগস্ট চুক্তিও বাতিল হয়েছে। মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে খুলনা শিপইয়ার্ড প্রকল্পটি কেনো প্রকল্পের দীর্ঘ বিলম্বে তা আলোচনা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী নিদের্শনা দেন।

খুলনা শিপইয়ার্ড প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ১২ বছরেও প্রকল্পটি দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কাংখিত লক্ষ্য অর্জন হয়নি কেনো তা তদন্ত করে কারা কারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

খুলনা শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়ার পর আতাউর রহমান লিমিটেড ও মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডকে যৌথভাবে কার্যাদেশ দেয় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)( ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজই শুরু করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা।

প্রথম দফায় এক বছর ও দ্বিতীয় দফায় দুই বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যও পূরণ না হওয়ায় পরে নতুন করে তৃতীয় দফায় এক বছর, চতুর্থবার প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে তিন বছর, পঞ্চম দফায় দুই বছর, ষষ্ঠ ধাপে ছয় মাস ও সপ্তম দফায় ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের জুনে। তবে সপ্তম মেয়াদে কাজের ভৌত অগ্রগতি হয় ৭০ শতাংশ। বাকি কাজ শেষ করতে অষ্টম ধাপে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ দুই বছরের প্রকল্পের মেয়াদ গিয়ে ঠেকেছে এক যুগে। মেয়াদের পাশাপাশি প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে দফায় দফায়।

প্রকল্পটি প্রথমবার ২৮ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছিলো। দ্বিতীয়বারে বাড়ানো হয়েছে ১৩২ কোটি। এতে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় এসে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটি টাকায়। পরে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে ২৫৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

একনেকের বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন