সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের অবস্থান
গত ৯ জুন ১২ দলীয় জোটের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দেশের জনগণের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান সংকট, জ্বালানি খাতের অস্থিতিশীলতা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেন যে, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিল্প উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে আরও সংকটময় অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ১২ দলীয় জোট অবিলম্বে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের ওপর নতুন কোনো মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে না দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
আলোচনায় ভারতীয় সীমান্তে সাম্প্রতিক পুশ-ইন কার্যক্রমের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ উদ্বেগজনক। তারা সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা স্থানীয় জনগণের ভূমিকাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রশংসা জানান।
নেতৃবৃন্দ দৃঢ়ভাবে বলেন, পুশ-ইনের নামে বাংলাদেশের সীমান্ত, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো আগ্রাসী অপচেষ্টা দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই।
তারা আরও বলেন, সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সামরিক উত্তেজনার মাধ্যমে নয়; বরং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতেই হতে হবে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও মানবাধিকারের নীতির আলোকে সীমান্ত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
সভায় বক্তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। তারা মনে করেন, জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দেশের চলমান সংকটসমূহের টেকসই সমাধান সম্ভব।
১২ দলীয় জোট দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জনাব মোস্তফা জামাল হায়দার।
উপস্থিত ছিলেন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব জনাব ড. মহি উদ্দিন একরাম; বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দিন পারভেজ; ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান; বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান এম. এ. বাশার; পিএনপির চেয়ারম্যান ফিরোজ মোহাম্মদ লিটন; নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান মাস্টার এম. এ. মান্নান; ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম; ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শওকত আমীন; নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব ডা. কাজী ইমরুল কায়েস প্রমুখ।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন এবং জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দেশের জনগণের অধিকার, জাতীয় মর্যাদা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ১২ দলীয় জোটের আন্দোলন-সংগ্রাম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।