২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিবোমা হামলা : গ্রেফতার ভিনসেন্ট ল্যাং নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সায়েদ নিউইয়র্কে ২.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি, পর্যটন ও ব্যবসায় বড় সাফল্য টেক্সাসে মুসলিম শিক্ষাবিদের মামলা গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসিএলইউর প্রতিবেদনে গ্রিনকার্ড মূল্যায়নে মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্প ও আবাসন সহায়তা বিবেচনায় নেবে ট্রাম্প প্রশাসন


সোশ্যাল সিকিউরিটির আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দ্বিদলীয় বিল সিনেটে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৭-২০২৬
সোশ্যাল সিকিউরিটির আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দ্বিদলীয় বিল সিনেটে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসন


যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭০ মিলিয়ন মানুষের অবসরকালীন আয়ের অন্যতম প্রধান ভরসা সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দ্বিদলীয় একটি বিল উত্থাপন করেছেন একদল সিনেটর। গত ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে উত্থাপিত এ প্রস্তাবের নাম প্রটেক্টিং রিটায়ারমেন্ট অপরচুনিটিজ অ্যান্ড মেইনটেইনিং ইনকাম সিকিউরিটি ফর এভরিওয়ান অ্যাক্ট, সংক্ষেপে প্রমিজ অ্যাক্ট।বিলটির লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য একটি দ্বিদলীয় সমাধানের পথ তৈরি করা। তবে বিলটি নিজে কোনো কর বৃদ্ধি, সুবিধা কমানো বা অবসর সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে না। বরং এটি একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংস্কারের পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

বিল অনুযায়ী, সাত সদস্যের দ্বিদলীয় সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড জনসাধারণের মতামত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে এমন একটি আইন প্রস্তাব তৈরি করবে, যার লক্ষ্য হবে আগামী অন্তত ৫০ বছর সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্ট ফান্ডকে আর্থিকভাবে টেকসই রাখা।বিলটি এমন সময় আনা হয়েছে, যখন গত মাসে প্রকাশিত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্টিজের বার্ষিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, কর্মসূচির রিটায়ারমেন্ট ট্রাস্ট ফান্ড ২০৩২ সালের মধ্যেই অর্থসংকটে পড়তে পারে। কংগ্রেস সময়মতো কোনো পদক্ষেপ না নিলে তহবিলের রিজার্ভ শেষ হয়ে যেতে পারে এবং সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা গড়ে ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রায় ৭ কোটি আমেরিকান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

প্রমিজ অ্যাক্টের আওতায় অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নতুন আইন প্রস্তাব তৈরি করা হবে। পরে সেটি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো বিলটি নিয়ে শুনানি করতে এবং প্রয়োজনে সংশোধনের সুযোগ পাবে। আইন হিসেবে পাস হতে হলে সিনেটে তিন-পঞ্চমাংশ সদস্যের সমর্থন এবং প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট প্রয়োজন হবে। বিলটির অন্যতম উদ্যোক্তা ইলিনয়ের ডেমোক্র‍্যাট সিনেটর ডিক ডারবিন বলেন, কংগ্রেস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ সংকট সম্পর্কে জানলেও রাজনৈতিকভাবে কঠিন হওয়ায় কার্যকর সমাধানে পৌঁছতে পারেনি। তিনি বলেন, যতো দেরি হবে, ভবিষ্যতে এ সমস্যা সমাধান করা ততো কঠিন হয়ে উঠবে।

প্রমিজ অ্যাক্টের সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্র‍্যাট, রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র দলের সিনেটররা। সহ-উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিক ডারবিন (ডেমোক্র‍্যাট-ইলিনয়), বিল ক্যাসিডি (রিপাবলিকান-লুইজিয়ানা), টিম কেইন (ডেমোক্র‍্যাট-ভার্জিনিয়া), থম টিলিস (রিপাবলিকান-নর্থ ক্যারোলিনা), ক্রিস কুনস (ডেমোক্র‍্যাট-ডেলাওয়্যার), অ্যালান আর্মস্ট্রং (রিপাবলিকান-ওকলাহোমা), জন কর্নিন (রিপাবলিকান-টেক্সাস) এবং অ্যাঙ্গাস কিং (স্বতন্ত্র-মেইন)।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যার বার্ধক্য বৃদ্ধি, অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং কর্মজীবী মানুষের কাছ থেকে আদায় হওয়া পেরোল ট্যাক্সের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলের ওপর চাপ বাড়ছে। কর্মসূচির ব্যয় আয়ের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সময়মতো সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে কর বৃদ্ধি, সুবিধা কমানো অথবা উভয় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।সোশ্যাল সিকিউরিটির আর্থিক সংকট সমাধানে অতীতেও কংগ্রেসে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সেগুলোর কোনোটি আইন হিসেবে পাস হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি। প্রমিজ অ্যাক্ট সে অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি দ্বিদলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি করার চেষ্টা করছে। গত জুনে আর্থিক নীতিবিষয়ক গবেষণা সংস্থা কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট এক বিশ্লেষণে জানায়, সোশ্যাল সিকিউরিটির ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ শেষ হয়ে গেলে সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা কয়েকশ ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

শেয়ার করুন