মিশিগানের ডেমোক্রেটিক ইউএস সিনেট প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ড. আবদুল এল সায়েদ ও কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স
মিশিগানের ২০২৬ সালের ডেমোক্রেটিক ইউএস সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনে প্রগতিশীল প্রার্থী ড. আবদুল এল সায়েদ এবং কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ মুহূর্তে তীব্র লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠেয় প্রাইমারির আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, হ্যালি স্টিভেন্স সামান্য এগিয়ে থাকলেও আবদুল এল সায়েদ এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক ভোটার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, ফলে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, ভোটার উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের সংগঠনই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে আবদুল এল সায়েদ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিলেন। কিছু জরিপে তিনি হ্যালি স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলেছিলেন এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন অর্জন করেন। তবে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে হ্যালি স্টিভেন্স তার রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক, দলীয় সমর্থন এবং শক্তিশালী প্রচারণার মাধ্যমে ব্যবধান কমিয়ে এগিয়ে এসেছেন।
ড. আবদুল এল সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক। তিনি প্রগতিশীল নীতির ওপর জোর দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার প্রধান ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, শ্রমজীবী মানুষের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি এবং কর্পোরেট প্রভাব কমানো। তিনি তরুণ ভোটার, প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট, উচ্চশিক্ষিত ভোটার এবং তৃণমূল সংগঠনের মধ্যে শক্ত সমর্থন তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে হ্যালি স্টিভেন্স কংগ্রেসে তার অভিজ্ঞতা, মিশিগানের শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করার সক্ষমতাকে সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি নিজেকে একজন বাস্তববাদী ও মধ্যপন্থী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন এবং যুক্তি দিচ্ছেন যে মিশিগানের মতো সুইং স্টেটে সাধারণ নির্বাচনে জয়ের জন্য একজন অভিজ্ঞ প্রার্থী বেশি কার্যকর হতে পারেন।
হ্যালি স্টিভেন্স মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারসহ ডেমোক্রেটিক দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার সমর্থন পাচ্ছেন। দলের মধ্যপন্থী অংশ মনে করছে, স্টিভেন্স সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে বেশি কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। অন্যদিকে এল সায়েদের সমর্থকরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে হলে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং সামাজিক পরিবর্তনের মতো ইস্যুতে আরো শক্ত অবস্থান প্রয়োজন।
নিউইয়র্ক টাইমসসহ জাতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচন শুধু একটি সিনেট আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশের একটি পরীক্ষা। আবদুল এল সায়েদের পক্ষে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও কংগ্রেস সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। তার সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন, বার্নি স্যান্ডার্স ও ক্রিস ভ্যান হোলেন। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, রাশিদা তালিব, রো খান্না, প্রমিলা জয়পাল, সামার লি, ডেলিয়া রামিরেজ, ইলহান ওমর, ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্ট, লতিফাহ সাইমন, অ্যানালিলিয়া মেজিয়া, অ্যাডেলিটা গ্রিজালভা এবং বনি ওয়াটসন কোলম্যান রয়েছেন। অন্যদিকে দলের মধ্যপন্থী অংশের গুরুত্বপূর্ণ নেতা চাক শুমার হ্যালি স্টিভেন্সের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ সমর্থন দুই প্রার্থীর মধ্যে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেও তুলে ধরছে।
এ নির্বাচনে অর্থ ও সংগঠনও বড় ভূমিকা রাখছে। হ্যালি স্টিভেন্স ডেমোক্রেটিক দলের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব, বড় দাতা, আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপ্যাক)-এর শক্তিশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং সংগঠিত প্রচারণার সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে আবদুল এল সায়েদের প্রচারণা মূলত ছোট অনুদান, স্বেচ্ছাসেবক এবং তৃণমূল সমর্থকদের ওপর নির্ভর করছে। তার প্রচারণা দাবি করছে, সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে তিনি এ ব্যবধান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
ভোটারদের মধ্যেও দুই প্রার্থীর সমর্থনে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, হ্যালি স্টিভেন্স মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট, বয়স্ক ভোটার এবং ডেট্রয়েট অঞ্চলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে আবদুল এল সায়েদ তরুণ ভোটার, প্রগতিশীল কর্মী, উচ্চশিক্ষিত ভোটার এবং পরিবর্তনপন্থী ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অংশগ্রহণ, তরুণ ভোটারদের ভোটদানের হার, শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভোটারদের পছন্দ এবং দুই প্রচারণার মাঠপর্যায়ের সংগঠন।
৪ আগস্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির বিজয়ী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। মিশিগানের এ সিনেট আসন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান জরিপের চিত্র অনুযায়ী, হ্যালি স্টিভেন্স সামান্য ফেভারিট হলেও আবদুল এল সায়েদের তৃণমূল সমর্থন ও প্রগতিশীল ভোটারদের উচ্ছ্বাস তাকে প্রতিযোগিতায় রেখেছে। শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবেন, তা নির্ভর করবে কে তার সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় নিয়ে আসতে পারেন তার ওপর।