২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ১১:৫৫:০৯ অপরাহ্ন


কাজের সময় হামলার শিকার, কমিউনিটিতে উদ্বেগ
ব্রুকলিনে বাংলাদেশি লিভারি চালক রুহুল আমিন নাসির গুলিবিদ্ধ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৭-২০২৬
ব্রুকলিনে বাংলাদেশি লিভারি চালক রুহুল আমিন নাসির গুলিবিদ্ধ রুহুল আমিন নাসির


নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ, সদা হাস্যোজ্জ্বল, নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, বরিশাল জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পরিশ্রমী ব্যক্তি রুহুল আমিন নাসির ব্রুকলিনে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ জুলাই ভোরে ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও নিউইয়র্কের ট্যাক্সি-লিভারি চালকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় ৫০ বছর বয়সী ফর-হায়ার চালক রুহুল আমিনকে শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চালায় পুলিশ। পরে রাস্তায় কাচের টুকরো ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং আশপাশের একটি গাড়ির জানালাতেও গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়।

সূত্র অনুযায়ী, রুহুল আমিন একজন যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর তার গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল ডেলিভারি ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ওই যাত্রীর পরিবারের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে অপর চালকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার সময় রুহুল আমিন সেখানে ছিলেন এবং বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় কাছাকাছি অবস্থিত হোইটম্যান হাউসেস এলাকা থেকে আরেক ব্যক্তি সেখানে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি রুহুল আমিনের গাড়ির কাছে গিয়ে জানালায় ধাক্কা দেয় এবং পরে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রুহুল আমিনের মুখে গুলি লাগে। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী এরপর হুইটম্যান হাউসেসের দিকে পালিয়ে যায়। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং তদন্ত চলছে। রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে পরিশ্রম করে আসছেন এবং একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও বলেন, রুহুল আমিন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, রুহুল আমিন ছিলেন একজন সাধারণ পরিশ্রমী মানুষ, যিনি স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন।

ফার্নান্দো মাতেও জানান, রুহুল আমিন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং প্রায় ১৬ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে আসছেন। তিনি কুইন্সের জ্যামাইকায় বসবাস করেন।

নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এটি দ্বিতীয় চালকের ঘটনা।

সংগঠনটি বলছে, নিউইয়র্কে ট্যাক্সি ও লিভারি চালকদের নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রতিটি ট্যাক্সি ও ফর-হায়ার গাড়িতে ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে হামলার ঘটনা তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত সহায়তা পেতে পারে।

ফার্নান্দো মাতেও বলেন, চালকদের নিরাপত্তার জন্য আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এখনো এই ঘটনায় কোনো গ্রেফতারের ঘোষণা দেয়নি। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করছেন। রুহুল আমিন নাসিরের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। কমিউনিটির সদস্যরা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারেন।

শেয়ার করুন