১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:১৫:১৫ পূর্বাহ্ন


প্রফেসর ড. ইউনূসের আরেকটি সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০২-২০২৬
প্রফেসর ড. ইউনূসের আরেকটি সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস


১৭ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোট।

এদিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবসান ঘটে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ স্বৈরতন্ত্রী সরকারের অবসান ঘটে। তিন দিন পর ৮ আগস্ট দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবিধানসহ বেশ কিছু আইনগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। এ সময় দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসলেও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় গত বছরের ১৩ জুন। ওই দিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে বিএনপি ও সরকারের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা আসে। বিএনপি রমজানের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছিল। সে অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে লন্ডন বৈঠকে সমঝোতা হয়েছিল বলে পরোক্ষভাবে দাবি করে দলটি।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেন।

গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ সময় ব্যবধানে এটি স্বল্প মনে হলেও ব্যক্তিগত জীবনে সময়টি ছিল তারেক রহমানের জন্য গভীর শোকের। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনি হারান তার মমতাময়ী মা ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই মাকে হারানোর শোক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সূচনা ঘটল। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অতিথি আসনের এক কোনে বসে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেন তিনি। কারণ একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় ১৪০০ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি এই প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কাছ থেকে। আজ তারই এক সফল অধ্যায় শেষে একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে দিতে পেরে তিনি সফল এক ব্যাক্তিত্ব সেটা আবারও প্রমাণ দিলেন বিশ্বের দরবারে।

প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের গর্ব। সে স্থানে তিনি আরো একটা অ্যাওয়ার্ড লাভ করলেন। বাংলাদেশের এক ক্রান্তিলগ্নে দায়িত্ব নিয়ে মহৎ এক অধ্যায়ের সমাপ্তির মধ্যদিয়ে।

শেয়ার করুন