১০ আগস্ট ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বত্র জিহাদি নির্বাচিত হতে দেখছি’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘জিহাদি’ মন্তব্যকে ঘিরে মুসলিম আমেরিকান ও মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ আরো তীব্র করে ১০ আগস্ট ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা সর্বত্র জিহাদি নির্বাচিত হতে দেখছি। একই বক্তব্যে তিনি কমিউনিজম ও জিহাদিজম-এর কথাও উল্লেখ করেন। তবে কাদের তিনি ‘জিহাদি’ বলছেন, তা নির্দিষ্ট করেননি এবং দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণও দেননি।
ডেমোক্র্যাটদের কমিউনিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করার পর এবার জিহাদি শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য নতুন মাত্রা পেয়েছে। তিনি জানান, এক বন্ধু তাকে এই শব্দটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী বা নির্বাচিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বা জিহাদি কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে সোমালিয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, যাদের তিনি জিহাদি হিসেবে উল্লেখ করছেন, তাদের কেউ কেউ সোমালিয়ার মতো দেশ থেকে এসেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের প্রসঙ্গ সামনে আসে। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরে মার্কিন নাগরিক হন। ট্রাম্প অতীতেও তাকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন।
মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল সায়েদও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছেন। গত সপ্তাহে লাস ভেগাসের এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এল সায়েদকে ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। মুসলিম প্রার্থী এল সায়েদ ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা করে আসছেন।
এল সায়েদ ডেমোক্রেটিক সিনেট মনোনয়ন পাওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের একটি ছবির পাশে এল সায়েদ ও তার স্ত্রী সারাহ জুকাকুর ছবি পোস্ট করেন। ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, দুই ভিন্ন আমেরিকা।
সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে এল সায়েদ বলেন, দুটি ছবি আমেরিকার দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। তার মতে, একটি ক্ষমতাবান ও ধনী ব্যক্তিদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে, অন্যটি পরিবার, ভালোবাসা এবং সবার জন্য সুযোগ তৈরির আমেরিকার ধারণাকে তুলে ধরে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান সময়ে দলের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন এল সায়েদ।
মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাষাও ততো কঠোর হচ্ছে। বিশেষ করে মুসলিম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে জিহাদি শব্দের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের বক্তব্য মুসলিম আমেরিকান ও মুসলিম রাজনৈতিক প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।