ইউএস কংগ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির আর্থিক সংকট ক্রমেই গভীর হওয়ায় দীর্ঘদিনের করবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। অবসরভাতা বড় ধরনের কমানো ঠেকাতে বেতনভিত্তিক করের সীমা বাড়ানো বা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব এখন রিপাবলিকান দলেও আলোচনায় এসেছে। সিনেটর বার্নি মোরেনো ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। বর্তমানে ২০২৬ সালে একজন কর্মীর বার্ষিক ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত আয়ের ওপর ৬ দশমিক ২ শতাংশ সোশ্যাল সিকিউরিটি কর আরোপ করা হয়; একই হারে নিয়োগকর্তাকেও কর দিতে হয়। সীমা তুলে দিলে উচ্চ আয়ের কর্মীদের পুরো আয়ের ওপর এই কর দিতে হবে।
হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন্স কমিটির চেয়ারম্যান টম কোলও বলেছেন, সোশ্যাল সিকিউরিটি টিকিয়ে রাখতে করের হার ও করযোগ্য আয়ের সীমা এই দুটিই আলোচনার টেবিলে থাকা উচিত। তার মতে, অবসরভাতা কমানোর রাজনৈতিক চাপ আরও বড় হতে পারে যদি কংগ্রেস সময়মতো দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে না পৌঁছায়।সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের ২০২৬ সালের ট্রাস্টি রিপোর্ট অনুযায়ী, অবসর ও সারভাইভার্স ইনস্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ ২০৩২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে শেষ হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তখন বর্তমান আইনে নির্ধারিত পূর্ণ সুবিধার মাত্র ৭৮ শতাংশ চলমান আয় দিয়ে পরিশোধ করা সম্ভব হবে। দুই ট্রাস্ট ফান্ড একত্রে হিসাব করলে রিজার্ভ ২০৩৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে শেষ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে এবং তখন নির্ধারিত সুবিধার প্রায় ৮৩ শতাংশ দেওয়া সম্ভব হবে।
২০২৫ সালের শেষে সোশ্যাল সিকিউরিটির সম্মিলিত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ ছিল প্রায় ২,৫৬০,০০০ মিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৬০,০০০ মিলিয়ন ডলার কম। একই বছরে কর্মসূচিটির মোট আয় ছিল প্রায় ১,৪৫০,০০০ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে বেতনভিত্তিক কর থেকে এসেছে প্রায় ১,৩২০,০০০ মিলিয়ন ডলার। সুবিধা ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১,৬১০,০০০ মিলিয়ন ডলার।
সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের হিসাবে, ২০২৬ সাল থেকেই কর্মসূচিটির বার্ষিক ব্যয় বার্ষিক আয়ের চেয়ে বেশি হবে এবং বর্তমান আইন অপরিবর্তিত থাকলে আগামী ৭৫ বছরের পুরো সময়জুড়েই এই ব্যবধান বজায় থাকবে। ২০২৫ সালের শেষে প্রায় ৭ কোটি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা গ্রহণ করছিলেন এবং প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ কর্মী সোশ্যাল সিকিউরিটি-আচ্ছাদিত আয়ের ওপর কর দিয়েছেন। বেতনভিত্তিক করের সীমা পুরোপুরি তুলে দিলে সোশ্যাল সিকিউরিটির দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি পূরণ হতে পারে। যদিও এতে বেশি আয় করা ব্যক্তিদের জন্য করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সমালোচকদের আশঙ্কা, শুধু কর বাড়ালে কর্মীদের দেওয়া কর এবং ভবিষ্যতে পাওয়া সুবিধার ঐতিহাসিক সম্পর্ক দুর্বল হতে পারে।
আরেকটি প্রস্তাবে ধনী পরিবারের বিনিয়োগ আয়কে সোশ্যাল সিকিউরিটি করের আওতায় আনা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বিদ্যমান একটি কর-সুবিধা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সালের প্রধান অ্যাকচুয়ারি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ ধরনের একটি প্রস্তাব অন্তত ৭৫ বছর সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থাকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হতে পারে।
তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। করবিরোধী সংগঠন আমেরিকান্স ফর ট্যাক্স রিফর্মের প্রতিষ্ঠাতা গ্রোভার নরকুইস্ট কর বাড়ানোর বিরোধিতা করে ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মনে করছেন, শুধু সুবিধা কমানো বা অবসরের বয়স বাড়িয়ে সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
এর আগে ১৯৮৩ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ও হাউস স্পিকার টিপ ও’নিলের নেতৃত্বে দ্বিদলীয় সমঝোতার মাধ্যমে বেতনভিত্তিক কর বাড়ানো এবং অবসরের বয়স ধীরে ধীরে বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ২০০৫ সালে লিন্ডসে গ্রাহামও বেতনভিত্তিক করের সীমা বাড়ানো ও কিছু সুবিধা কমানোর পক্ষে ছিলেন। ২০১০ সালের বাউলস-সিম্পসন কমিশনেও কয়েকজন রিপাবলিকান বেতনভিত্তিক করের সীমা বাড়ানো, অবসরের বয়স ৬৯ বছরে উন্নীত করা এবং উচ্চ আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা কমানোর প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন। তবে এসব প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে পূর্ণাঙ্গ ভোটে যায়নি।
বর্তমান সংকটের মধ্যে কয়েকজন আইনপ্রণেতা দ্বিদলীয় কমিশন বা পরামর্শক বোর্ড গঠনের কথাও বলছেন। প্রস্তাবিত সমাধানের মধ্যে কর বাড়ানো, সরকারি ব্যয় কমানো, অবসরের বয়স বাড়ানো এবং উচ্চ আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা সীমিত করার মতো বিষয় রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ারের সুবিধা কমানোর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন, এসব কর্মসূচির অর্থ কমানো হবে না। তবে প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। সোশ্যাল সিকিউরিটির ২০২৬ সালের সরকারি হিসাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে এটি শুধু ভবিষ্যতের সমস্যা নয় বরং বর্তমান আয় ও ব্যয়ের মধ্যেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ট্রাস্ট ফান্ড রক্ষা করতে কংগ্রেসকে কর বাড়ানো, সুবিধা কমানো, অবসরের বয়স পরিবর্তন অথবা এসব পদক্ষেপের সমন্বয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২০২৭ সালে নিউইয়র্কে মেডিকেয়ার পার্ট ডির খরচ বাড়বে
প্রেসক্রিপশন ড্রাগ পরিকল্পনার প্রিমিয়াম স্থিতিশীল রাখতে চালু করা বিশেষ ফেডারেল কর্মসূচি ২০২৬ সালের শেষে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস। এর ফলেনিউইয়র্কের প্রায় ১৩ লাখ মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর প্রেসক্রিপশন ওষুধের প্রিমিয়াম ২০২৭ সালে বাড়বে। এর ফলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন প্রতি মাসে একজনের প্রিমিয়াম কত বাড়বে? এখনো নিউইয়র্কের প্রত্যেক সদস্যের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক ঘোষণা করা হয়নি। কারণ পার্ট ডির প্রিমিয়াম পরিকল্পনাভেদে আলাদা। ২০২৬ সালের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পরিকল্পনাগুলোর জন্য বেস বেনিফিশিয়ারি প্রিমিয়ামে মাস প্রতি ১০ ডলার ফেডারেল হ্রাস ছিল; ২০২৭ সালে সেই বিশেষ সহায়তা থাকবে না। তাই ১০ ডলারকে কারও নিশ্চিত প্রিমিয়াম বৃদ্ধি হিসেবে ধরা যাবে না চূড়ান্ত বৃদ্ধি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার ২০২৭ সালের নতুন প্রিমিয়ামের ওপর।
নিউইয়র্কের জন্য আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ারের দ্বিতীয় দফায় মূল্য-আলোচনায় নির্বাচিত ১৫টি প্রেসক্রিপশন ওষুধের নতুন সর্বোচ্চ ন্যায্য মূল্য কার্যকর হবে। এর ফলে এসব ওষুধ ব্যবহারকারী কিছু নিউইয়র্কবাসীর ওষুধের নিজস্ব খরচ কমতে পারে।এদিকে পার্ট ডির বিপর্যয়কর ব্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছালে রোগীর নিজস্ব অংশের খরচ শূন্য রাখার কাঠামো ২০২৭ সালেও বহাল থাকবে। একই সঙ্গে কভারেজ গ্যাপ বা তথাকথিত ডোনাট হোল পর্যায় আর থাকছে না।
অর্থাৎ নিউইয়র্কের মেডিকেয়ার সদস্যদের জন্য ২০২৭ সালে একই সঙ্গে দুই ধরনের প্রভাব দেখা যেতে পারে কিছু পার্ট ডি পরিকল্পনায় প্রিমিয়াম বাড়ার সম্ভাবনা এবং মূল্য-আলোচনায় থাকা নির্দিষ্ট ওষুধের ক্ষেত্রে খরচ কমার সুযোগ। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাসিক প্রিমিয়াম ঠিক কত ডলার বাড়বে, তা ২০২৭ সালের পরিকল্পনাগুলোর চূড়ান্ত প্রিমিয়াম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।