২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০২:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন


বিশ্ব ফুটবলে লজ্জা
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৪-২০২৩
বিশ্ব ফুটবলে লজ্জা আবু নাঈম সোহাগ


বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বিতর্কিত সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে দুর্নীতির দায়ে দুই বছরের জন্য সাসপেন্ড এবং একই সঙ্গে আর্থিক জরিমানা করেছে ফুটবলের আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিফা। এমনিতেই অদক্ষতা, অপেশাদারিত্ব এবং খামখেয়ালির কারণে বাংলাদেশে গ্রামগঞ্জে এখনো অনেক জনপ্রিয় ফুটবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন তলানিতে। তার পর ফিফার এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে, ভীষণ লজ্জায়ও ফেলে দিয়েছে। বিএফএফের ব্যর্থতা, অব্যবস্থা আর দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘসময় ধরেই স্থানীয় পত্রপত্রিকায় নিয়মিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়ে আসছে। কিন্তু সরকারি মহলে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় দীর্ঘ একযুগেও ব্যর্থ বিএফএফ বর্তমান পরিষদ ক্ষমতায় বহাল আছে কাউকে কোনো তোয়াক্কা না করেই। এখন ফিফা যখন তাদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রমাণসহ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, এখন দেখার বিষয় কি করবে সরকার? কারণ এটা যে শুধু ফুটবলের লজ্জা তা নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। 

নিঃসন্দেহে এই কাজ বাফুফে সভাপতির অগোচরে হয়নি। কিছু কর্মকর্তার যোগসাজোগ অবশ্যই আছে এবং ছিল। বাফুফে সভাপতি একসময়ের কিংবদন্তি ফুটবলার কাজী সালাহউদ্দিন দায় এড়াতে পারেন না। কিছুদিন থেকেই একটি প্রসঙ্গে বাফুফে তোপের মুখে আছে। চরম ব্যর্থতার মুখে বাংলাদেশের প্রান্তিক এলাকার মেধাবী মেয়েদের দক্ষতায় বাংলাদেশ সাফ অঞ্চলে দাপুটে ফুটবল খেলে শিরোপা জয় করেছিল। দেশে ফেরার পর বিজয়ী দলকে ঐতিহাসিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। কৃষ্ণা, সাবিনা, রূপনাদের অনেকেই সাধারণ ঘরের মেয়ে। প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকে বিজয়ী বীরঙ্গনা মেয়েদের নানাভাবে পুরস্কৃত করেন। তবে বিএফএফ এবং বিসিবি কর্তৃক ঘোষিত পুরস্কার তাদের হাতে সময় মতো পৌঁছায় নাই। অবস্থা এতোটাই তলানিতে উপনীত হয়েছে যে, বিগত কিছুদিন যাবৎ বিএফএফ ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের সামান্য মাসিক বেতনও বকেয়া ছিল। এ মাসেই বাংলাদেশ মহিলা দল আগামী অলিম্পিক বাছাই পর্বে খেলার জন্য মায়ানমার যাওয়ার কথা। হঠাৎই একদিন বিএফএফ সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জানলেন, অর্থের অভাবে দলটিকে মায়ানমার পাঠানো যাবে না। সবাই স্তম্ভিত। সম্ভাবনাময় যে দলটি চমৎকার ফুটবল খেলে সাফ চ্যাম্পিয়ন হলো সামান্য কিছু টাকার জন্য ওরা অলিম্পিকের মতো সম্মানজনক প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে যেতে পারবে না? আরো বিতর্ক সৃষ্টি করলো বিএফএফ সভাপতি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়। প্রসঙ্গ ক্রমে বাংলাদেশের ক্রীড়া অনুরাগী প্রধানমন্ত্রীর কথা ওঠায় সালাহউদ্দিন জানালেন প্রধানমন্ত্রী ফুটবল নিয়ে নিয়মিত কথা বলেন। কিন্তু অন্যদের মতো (বিশেষ করে ইঙ্গিত করলেন বিসিবি সভাপতিকে) তিনি বারবার প্রধানমন্ত্রীর কথা বলতে চান না। 

বিসিবি সভাপতি কম যান না।  তিনিও তার নিত্য মিডিয়া কথনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। বিষয়টি মিডিয়ায় ঝড় তোলে। ইতিমধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিদেশ থেকে দেশে ফায়ার তহবিল স্বল্পতার অজুহাত তুলে মহিলা ফুটবল দলকে বিদেশে না পাঠানোর বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকেও বিএফএফকে তিরস্কার করা হয়। এমনকি খোদ বিএফএফ সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি সালাম মুর্শিদী যিনি একই সঙ্গে বিএফএফ ফিন্যান্স কমিটির প্রধান তিনি গোটা বিষয়টি তার গোচরে হয়নি বলে জানান। তাহলে বিএফএফ চালাচ্ছে কারা? কি যোগ্যতায় আবু নাঈম সোহাগের মতো একজন একযুগ ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছে? 

এমনি যখন পরিস্থিতি তখন ফিফা দুর্নীতির দায়ে বিএফএফ সাধারণ সম্পাদককে অর্থদ-সহ সাসপেন্ড করলো। আমি মনে করি না এখন বর্তমান বিএফএফ সভাপতিসহ গোটা পরিষদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার আছে। আমি মনে করি, সরকারের এই বিষয়ে কিছু করার আছে। ফিফা, এএফসির সঙ্গে কথা বলে বিএফএফ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন করে যোগ্য ব্যাক্তিদের বিএফএফে নির্বাচিত করে ধ্বংস প্রায় অথচ সম্ভাবনাময় ফুটবলকে বাঁচানো উচিত।

শেয়ার করুন