১৪ জুন ২০১২, শুক্রবার, ০৫:৩০:৫৪ অপরাহ্ন


অ্যারিজোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৭-২০২৩
অ্যারিজোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত স্ত্রীর সাথে আবুল হাশেম


যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীদের উপর হামলা এবং গুলির ঘটনা যেন কমছেই না। দিন দিন যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সপ্তাহে মেসৌরিতে এক গ্যাস স্টেশনে কাজ করার সময় কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন আয়াজ আহমেদ। এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে দুর্বৃত্তের গুলিতে মোহাম্মদ আবুল হাশিম (৪২) নামের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় ২৩ জুলাই রোববার সকালে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের পাশে কাসাগ্রান্দে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল হাশিম কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বাকশিমুল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের জুলফিকার আহমেদের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করতেন। তবে কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়, সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানা যায়নি। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হলেন।

অ্যারিজোনার বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা ও ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুব রেজা রহিম বলেন, কাসাগ্রান্দে সিটির সানল্যান্ড জিন রোড এবং ওয়েস্ট কংকোর্ডিয়া ড্রাইভে অবস্থিত ‘সানলাইট মার্কেটে’ রোববার সকাল সোয়া সাতটায় বন্দুকধারীর গুলিতে ঘটনাস্থলেই কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আবুল হাশিম নিহত হন। হাশিম হত্যার ঘটনায় দেশটির পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই মো. রুহুল আমিন বলেন, ছয় বছর বয়সী এক ছেলে ও দুই বছর বয়সী কন্যাসহ স্ত্রী ও মা-বাবাকে নিয়ে বসতি গড়েছিলেন আবুল হাশিম। ৭ ভাইবোনের সবাই একই শহরে বসবাস করেন।

পিনাল কাউন্টি পুলিশ জানায়, সংবাদ পেয়ে ঐ স্টোরে পৌঁছার পর মেঝেতে নিথর দেহ পড়েছিলে আবুল হাশিমের লাশ। গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করা হয়েছে। ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে ঘাতক হিসেবে সন্দেহভাজন এক কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্তকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আবুল হাশিম ছিলেন ঐ গ্রোসারি স্টোরের মালিক। কম্যুনিটি লিডার মাহবুব রেজা রহিম আরো জানান, আবুল হাশিমের মর্মান্তিক এই মৃত্যুর সংবাদে শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে গোটা কম্যুনিটি এবং সেই সাথে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

জানা গেছে, নামাজে জানাজা ২৬ জুলাই স্থানীয় একটি মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে এবং শেষে যুক্তরাষ্ট্রেই তাঁকে মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হবে।

শেয়ার করুন