খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন বিদেশে নেওয়ার মতো নেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমনটাই জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘শারীরিক অবস্থা আল্লাহর অশেষ দয়ায় যদি স্টেবল হয় তখন চিন্তা করে দেখা হবে যে তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে কি না। তবে বিদেশে নেওয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে- ভিসা, যেসব দেশে যাওয়া সম্ভব হতে পারে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা- এ ব্যাপারগুলো নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলোর কাজ মোটামুটি এগিয়ে আছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন। এ বিষয়ে গতকাল রাতে তারা একটি সভা করেছেন। কীভাবে চিকিৎসা করবেন এবং সেই চিকিৎসাটা কী ধরনের হবে, সেখানে সে বিষয়ে তারা মতামত দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে তারা বলছেন যে হয়তো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তার এখন যে অবস্থা তাকে বিদেশে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান মির্জা ফখরুল।
বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, 'শারীরিক অবস্থা আল্লাহর অশেষ দয়ায় যদি স্টেবল হয় তখন চিন্তা করে দেখা হবে যে তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে কি না। তবে বিদেশে নেওয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে- ভিসা, যেসব দেশে যাওয়া সম্ভব হতে পারে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা- এ ব্যাপারগুলো নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলোর কাজ মোটামুটি এগিয়ে আছে। অর্থাৎ যদি প্রয়োজন হয় এবং যদি দেখা যায় যে রেডি টু ফ্লাই তখন তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।'
হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং তার অসুস্থতায় সবাই উদ্বিগ্ন, উৎকন্ঠিত এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রতবোধ করছেন৷ হাসপাতালে অন্যান্য রোগী আছেন, তাদের সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সকলের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই যে আপনারা দয়া করে কেউ হাসপাতালে ভিড় করবেন না। সময় মত তার হেলথ সম্পর্কে জানানো হবে। সেটা আপনারা জানবেন। আবার অনুরোধ করছি, দয়া করে কেউ সেখানে উপস্থিত হবেন না।'
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এ বিষয়ে আমার উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ উনি নিজে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছেন। এরপরে আমার আর আসলে কিছু বলার নেই। পোস্টের ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না। কারণ আমাদের দলের প্রধান, তিনি তার পোস্ট দিয়েছেন। এর ব্যাখ্যাটা আমি ঠিক দিতে পারব না এ মুহূর্তে।'
তারেক রহমানের দেশে আসায় কোনো বাধা দেখছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি কোনো বাধা দেখি বা না দেখি এটা গুরুত্বপূর্ণ না। উনি যে পোস্টটা দিয়েছেন এটাকে আপনারা আপনাদের মত ধরে নেন। দিস ইজ পোস্ট- তার ভাষ্য এটা। আর তো কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।'