০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৪:১২:৫৪ অপরাহ্ন


গণভোটে জয়যুক্ত হতেই হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০২-২০২৬
গণভোটে জয়যুক্ত হতেই হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রতীকী ছবি


বেশ কয়েকদিন আগে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস অনেকটা হঠাৎ করেই ভাষণ দিয়েছিলেন। সে ভাষণের সারাংশ ছিল আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে সবাইকে আহ্বান। ফলে অনুমান করা যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হওয়া ভিষণ জরুরি একটা ইস্যু। সংসদ নির্বাচন নিয়ে যতটা টেনশনে না রাজনৈতিক দলসমূহ, তার চেয়ে ঢের বেশি দুশ্চিন্তা অন্তর্বর্তী সরকারের। কারণ ভোটের মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত। আর সে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ বিগত আওয়ামী সরকারপন্থী লোকদেরও। তাছাড়া বর্তমান ইউনূস সরকারের নিরাপদ প্রস্থানের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হতেই হবে। না হলে নির্বাচিত নতুন সরকারের মনে করুন বিএনপি জোট সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে শপথ নেওয়া সত্ত্বেও অনেক সংবিধান লঙ্গনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এমনি পরিস্থিতিতে সরকার আর নেপথ্যে থাকা শক্তি গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করার জন্য ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে এটি সহজেই অনুমেয়।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সচেতন মানুষ চাইবে না বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানপন্থী কোনো শক্তি নির্বাচনে জয় লাভ করে স্বাধীনতার সব অর্জন বিসর্জন দিক। তেমনিভাবে বিজয়ী হয়ে বিএনপি জোট চাইবে না গণপরিষদে পরিণত হয়ে ক্ষমতার জোয়াল অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে রেখে দিতে। বিএনপি কিন্তু জুলাই সনদের বেশ কয়েকটি বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছে। যদি বিএনপি ঘরনার ভোটার এবং আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল ভোটার গণভোটে না ভোট দেয় তাহলেই নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত হবে না ইউনুস সরকারের।

অনুমান করতে পারেন কি অবস্থা হবে তখন? হয়তো ড. ইউনূসসহ কয়েকজন উপদেষ্টা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাবেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা এবং জুলাই আগস্ট ২০২৪ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মামলাবাজিতে লিপ্ত গোষ্ঠী পড়বে মহাবিপদে। এহেন অবস্থায় ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ, অবাধ, নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কেবল আওয়ামী লীগ বা ভারত বিরোধিতা করে পরিত্রাণ মিলবে নাÑসেটি কিন্তু ইউনুস সরকার মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু এখন যথেষ্ট সচেতন। বিশেষ করে তরুণ ভোটার বা নারী ভোটাররা সুযোগ পেলে ভোট বিপ্লব ঘটাবে। সরকার কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন করে গণভোটের ব্যবস্থা করে দারুণ ঝুঁকি নিয়েছে। নির্বাচনে দুটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জোট বাহ্যিকভাবে বাহাস করলেও ভেতরে ভেতরে কিন্তু শংকিত আছে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে। 

নির্বাচনে মহড়ায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের আদৌ কোনো সামর্থ্য ওদের নেই, সেটি অনেকটা দিনের মতো স্পষ্ট। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের নাজুক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। নির্বাচনে সূক্ষ্ম বা স্থুল কারচুপি হলে কিন্তু বাংলাদেশে অচল অবস্থা এমনকি গৃহযুদ্ধ হতে পারে। প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্য দেশকে দীর্ঘদিন মাশুল দিতে হতে পারে।

সরকারের উচিত হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে জনতার রায়ের অপেক্ষা করা।

শেয়ার করুন