০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৪:২৬:১২ অপরাহ্ন


সুপ্রিম কোর্টের রায় নির্ধারণ করবে ২ হাজার ডলারের স্টিমুলাস চেকের ভাগ্য
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০২-২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের রায় নির্ধারণ করবে ২ হাজার ডলারের স্টিমুলাস চেকের ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্ট


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৬ সালের ২ হাজার ডলারের টারিফ ডিভিডেন্ড চেক বিতরণের পরিকল্পনা এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্পের জারি করা শুল্ক (টারিফ) আদেশগুলো বৈধ কি না যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ওপর এই বিতরণ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে। গত ১৭ জানুয়ারি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন ন্যাটো দেশগুলোর প্রতি যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না পায়, তাহলে তাদের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পাবে। এর আগে তিনি ঘোষণা দেন, যে কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট তার শুল্ক আদেশের বিরুদ্ধে রায় দিলে তা বিপুল আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেন, যদি কোনো কারণে সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দেয়, আমাদের শত শত বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হবে। আমরা ট্রিলিয়ন ডলারের কথাও বলছি। এটা এমন এক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে যা আমাদের দেশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

গত নভেম্বরে ট্রাম্প প্রথমবার ঘোষণা দেন, মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই শুল্ক থেকে প্রাপ্ত অর্থের অংশ দিয়ে ২ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড চেক দেওয়া হবে। তবে একই মাসে কস্টকো ও অন্যান্য আমেরিকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের দাবি, যদি সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক বাতিল করে, তাহলে তারা পরিশোধিত অর্থ ফেরত চাইবে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, টারিফ থেকে যে অর্থ আসছে, তা এতটাই বড় যে আমি ২ হাজার ডলার দিতে পারব। সম্ভবত বছরের শেষের দিকে। সুপ্রিম কোর্ট খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত দিতে পারে যে, শুল্ক বৈধ কি না এবং তার সঙ্গে আমদানিকারকরা শুল্ক ফেরত কীভাবে পাবেন তা পরিষ্কার করবে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, সরকার ইতিমধ্যেই ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক আদায় করেছে। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট শুল্কের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিভিডেন্ড চেক দেওয়া হলে তার ব্যয় এক বছরের শুল্ক আয়ের চেয়ে বেশি হতে পারে,কিছু হিসাব অনুযায়ী ৬০০ বিলিয়নের বেশি। ট্রাম্পের পরিকল্পনা হলো, শুল্ক থেকে আসা অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের করদাতাদের মধ্যে রিবেট চেক বিতরণ করা। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে সিনেটর জশ হাওলি আমেরিকান ওয়ার্কার রিবেট অ্যাক্ট অব ২০২৫ বিলটি প্রবর্তন করেছিলেন, যা ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে চেক বিতরণের কথা বলেছে। তবে এটি এখনো কংগ্রেসে পাস হয়নি।

নভেম্বরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের ব্যক্তিদের জন্য চেক বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা মধ্যম আয়ের মানুষদের হাজার হাজার ডলার চেক দেব। বাকি শুল্ক ব্যবহার করা হবে আমাদের সরকারি ঋণ কমানোর জন্য। ট্রাম্পের মন্তব্য অনুযায়ী, উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা এ ডিভিডেন্ড থেকে বাদ পড়বেন। এর ফলে শুধু মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষরা এ সুবিধা পাবেন। অতীতে মহামারির সময় দেওয়া স্টিমুলাস চেকের মতো, একক ব্যক্তি বছরে ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করলে পূর্ণ সুবিধা পেয়েছিলেন, এবং দম্পতির জন্য সীমা ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে কম অর্থ পেতেন। সর্বশেষ বিশ্লেষণে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ এ চেক বিতরণ হবে কি না তা সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং কংগ্রেসের অনুমোদনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে।

শেয়ার করুন