৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:১৩:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শাহানা হানিফ ও চি ওসে ডেমোক্রে‍টিক সোশালিস্টসের সিটি কাউন্সিল ব্লকে যোগের জন্য আবেদন নিউইয়র্কে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে হোচুলের নতুন আইন প্রস্তাব নিউইয়র্কে বন্দুক সহিংসতা রেকর্ড সর্বনিম্নে, গুলি ছোড়ার ঘটনা কমেছে ৬১ শতাংশ নিউইয়র্কে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বেচ্ছামৃত্যুর আইন চূড়ান্ত তিন নীতি পরিবর্তনে বয়স্কদের হেলথ কেয়ারে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে মহানবীর হিজরতের গল্প শোনালেন মামদানি চাঁদ দেখাসাপেক্ষ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান তুষার পরিষ্কার না করায় বাড়ির মালিকদের জরিমানা সীমান্ত নজরদারি ছাড়িয়ে নাগরিক পর্যবেক্ষণে ডিএইচএসের এআই প্রযুক্তি অভিবাসীদের সুরক্ষায় নির্বাহী আদেশে সই মামদানির


নিউইয়র্কে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে হোচুলের নতুন আইন প্রস্তাব
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০২-২০২৬
নিউইয়র্কে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে হোচুলের নতুন আইন প্রস্তাব গভর্নর ক্যাথলিন হোচুল তার ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ তুলে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৯ ফেব্রুয়ারি একটি গোলটেবিল বৈঠক করেন।


নিউইয়র্কে অভিবাসন প্রয়োগ নিয়ে ফেডারেল কর্তৃত্বের সীমা টানতে গভর্নর হোচুলের প্রস্তাবিত লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্টের পক্ষে সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি আইনটির পক্ষে ক্রমবর্ধমান সমর্থনের কথা তুলে ধরতে গভর্নর হোচুল স্টেটজুড়ে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি, কাউন্টি শেরিফ, পুলিশ প্রধান ও কাউন্টি নির্বাহীদের নিয়ে একটি রাউন্ডটেবিল বৈঠক করেন।এই প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে নিউইয়র্কে বিদ্যমান সব ২৮৭(জি) চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। এসব চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর হয়ে বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়। আইনটি স্পষ্টভাবে বলছে, স্টেট ও স্থানীয় পুলিশ ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবে না এবং করদাতাদের অর্থ বা জনবল ব্যবহার করে গণহারে আইস অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করা যাবে না।

গভর্নর হোচুল বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনীর সম্পদ কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের কাছে তা পরিষ্কার। সেটি আমাদের নিজস্ব কমিউনিটিতে অপরাধ দমনে। জননিরাপত্তার নামে আইসের ক্ষমতার অপব্যবহার নিউইয়র্ক কখনোই মেনে নেবে না। তিনি আরো জানান, এই আইন স্থানীয় পুলিশকে বিপজ্জনক অপরাধীদের ধরতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত করবে না। গভর্নর হোচুল আরো বলেন, জননিরাপত্তার নামে আইসের ক্ষমতার অপব্যবহার নিউইয়র্ক সহ্য করবে না।

গত দুই সপ্তাহে স্টেটের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরো অনেক শীর্ষ আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধি এই আইনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। বর্তমানে সমর্থকদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এরিক গঞ্জালেজ, ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র‍্যাগ, কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ, এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ, সাফোক কাউন্টি শেরিফ এরোল টুলন জুনিয়রসহ রাজ্যের বিভিন্ন কাউন্টি ও শহরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বর্তমানে নিউইয়র্কে ১৪টি আইনশৃঙ্খলা সংস্থা বিভিন্ন ধরনের ২৮৭(জি) চুক্তির আওতায় কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ১০টি কাউন্টি শেরিফ অফিস, একটি কাউন্টি পুলিশ বিভাগ ও তিনটি পৌর পুলিশ বিভাগ। আইনটি পাস হলে এসব সব চুক্তিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

এই উদ্যোগটি গভর্নর হোচুলের স্টেট অব দ্য স্টেট এজেন্ডার অংশ, যার লক্ষ্য ফেডারেল অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ থেকে নিউইয়র্কবাসীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা। একই সঙ্গে তিনি এমন আইন প্রস্তাব করছেন, যাতে ফেডারেল কর্মকর্তারা যদি কারো সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেন, তাহলে নিউইয়র্কের বাসিন্দারা রাজ্য আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ পান। এছাড়া গভর্নর সংবেদনশীল স্থান যেমন স্কুল, হাসপাতাল, উপাসনালয় ও ব্যক্তিগত বাড়ি-এ কোনো বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া বেসামরিক অভিবাসন অভিযান চালানো নিষিদ্ধ করতে চান। তার মতে, মানুষ যেন নির্ভয়ে স্কুলে যেতে পারে, চিকিৎসা নিতে পারে, ধর্ম পালন করতে পারে এবং নিজের ঘরে শান্তিতে থাকতে পারে। সেটিই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। আইনের সমর্থকরা বলছেন, লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট নিউইয়র্কে জননিরাপত্তা জোরদার করবে, কমিউনিটির সঙ্গে পুলিশের আস্থা বজায় রাখবে এবং অভিবাসন ইস্যুতে ফেডারেল ও রাজ্য ক্ষমতার মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেবে।

গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরো বহু শীর্ষ কর্মকর্তা এই আইনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। বর্তমানে মোট ২৯ জন জেলা অ্যাটর্নি, কাউন্টি নির্বাহী, শেরিফ, পুলিশ প্রধান ও মেয়র এ উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আলবানি কাউন্টি নির্বাহী ড্যান ম্যাককয়, অ্যালবানি কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি লি কিন্ডলন, অ্যালবানি কাউন্টি শেরিফ ক্রেইগ অ্যাপল, অ্যালবানি পুলিশ প্রধান ব্রেন্ডন কক্স, ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এরিক গঞ্জালেজ, ব্রুম কাউন্টি নির্বাহী জেসন গার্নার, কলাম্বিয়া কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ক্রিস লিবারাতি-কন্যান্ট, এরি কাউন্টি নির্বাহী মার্ক পোলনকার্জ, কিংস্টন ডেপুটি পুলিশ প্রধান রিকি নেগ্রন, ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র‍্যাগ, মনরো কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ব্রায়ান গ্রিন, মাউন্ট ভার্নন পুলিশ প্রধান মার্সেল অলিফিয়ার্স, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ, অননডাগা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি উইলিয়াম ‘বিল’ ফিটজপ্যাট্রিক, অননডাগা কাউন্টি শেরিফ টোবিয়াস শেলি, কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ, রিচমন্ড কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইকেল ম্যাকমাহন, রচেস্টার পুলিশ প্রধান ডেভিড স্মিথ, রচেস্টার মেয়র মালিক ডি. ইভান্স, সাফোক কাউন্টি শেরিফ এরোল টুলন জুনিয়র, সিরাকিউজ পুলিশ প্রধান মার্ক রুসিন, টম্পকিন্স কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাট ভ্যান হাউটেন, আলস্টার কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যানি এনেজি, আলস্টার কাউন্টি শেরিফ হুয়ান ফিগুয়েরোয়া, ইউটিকা পুলিশ প্রধান মার্ক উইলিয়ামস, ইউটিকা ডেপুটি পুলিশ প্রধান এড নুনান, ওয়াশিংটন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জে. অ্যান্থনি ‘টনি’ জর্ডান এবং ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি নির্বাহী কেন জেনকিন্স।

বর্তমানে নিউইয়র্কে ১৪টি আইনশৃঙ্খলা সংস্থা বিভিন্ন ধরনের ২৮৭(জি) চুক্তির আওতায় কাজ করছে-এর মধ্যে ১০টি কাউন্টি শেরিফ অফিস, একটি কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এবং তিনটি পৌর পুলিশ বিভাগ রয়েছে। আইনটি পাস হলে এসব চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

এই প্রস্তাবটি গভর্নর হোচুলের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য ফেডারেল অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ থেকে নিউইয়র্কবাসীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা। এর মধ্যে রয়েছে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য আদালতে মামলা করার সুযোগ সৃষ্টি এবং স্কুল, হাসপাতাল, উপাসনালয় ও ব্যক্তিগত বাড়ির মতো সংবেদনশীল স্থানে বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া বেসামরিক অভিবাসন অভিযান নিষিদ্ধ করা।লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট নিউইয়র্কে জননিরাপত্তা জোরদার করবে, কমিউনিটির সঙ্গে পুলিশের আস্থা অটুট রাখবে এবং অভিবাসন প্রয়োগে ফেডারেল ও রাজ্য ক্ষমতার মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করবে।

শেয়ার করুন