৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শাহানা হানিফ ও চি ওসে ডেমোক্রে‍টিক সোশালিস্টসের সিটি কাউন্সিল ব্লকে যোগের জন্য আবেদন নিউইয়র্কে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে হোচুলের নতুন আইন প্রস্তাব নিউইয়র্কে বন্দুক সহিংসতা রেকর্ড সর্বনিম্নে, গুলি ছোড়ার ঘটনা কমেছে ৬১ শতাংশ নিউইয়র্কে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বেচ্ছামৃত্যুর আইন চূড়ান্ত তিন নীতি পরিবর্তনে বয়স্কদের হেলথ কেয়ারে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে মহানবীর হিজরতের গল্প শোনালেন মামদানি চাঁদ দেখাসাপেক্ষ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান তুষার পরিষ্কার না করায় বাড়ির মালিকদের জরিমানা সীমান্ত নজরদারি ছাড়িয়ে নাগরিক পর্যবেক্ষণে ডিএইচএসের এআই প্রযুক্তি অভিবাসীদের সুরক্ষায় নির্বাহী আদেশে সই মামদানির


মেডিকেয়ার-মেডিকেইডে ১২০ মিলিয়ন প্রতারণায় ২ ব্যক্তি গ্রেফতার
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০২-২০২৬
মেডিকেয়ার-মেডিকেইডে ১২০ মিলিয়ন প্রতারণায় ২ ব্যক্তি গ্রেফতার মেডিকেয়ার-মেডিকেইড


নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড জালিয়াতির একটি বিশাল চক্রের পর্দা ফাঁস হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তার নামে পরিচালিত ফার্মেসি ও অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারকে ব্যবহার করে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক দুর্নীতির একটি বড় চিত্র সামনে এসেছে।

ফেডারেল অভিযোগপত্র অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার বাসিন্দা ইনউ কিম, যিনি টনি কিম বা লং জিন নামেও পরিচিত, এবং ড্যানিয়েল লি, যিনি ড্যানিয়েল ইয়াং বা ডংহি ইয়াং নামেও পরিচিত, এই জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। ইনউ কিম একটি ফার্মেসি ও দুটি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের মালিক ছিলেন, আর ড্যানিয়েল লি হ্যাপি লাইফ অ্যাডাল্ট ডে কেয়ারের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এ দুজন অবৈধ ঘুষ ও কিকব্যাকের মাধ্যমে বয়স্ক নাগরিকদের প্রলুব্ধ করে এমন সব পরিষেবার জন্য বিল আদায় করেছেন, যেগুলো কখনোই প্রদান করা হয়নি বা চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় ছিল না।

ফেডারেল কৌঁসুলিদের দাবি ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এই দুই ব্যক্তি মেডিকেইড গ্রহীতা ও মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের নগদ অর্থ এবং সুপারমার্কেটের গিফট কার্ড দিয়ে ঘুষ দেন, যাতে তারা কিমের মালিকানাধীন ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশন ওষুধ সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে, মেডিকেইড গ্রহীতাদের নগদ কিকব্যাক দিয়ে রয়্যাল ও হ্যাপি লাইফ অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারে ভর্তি হতে উৎসাহিত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই অবৈধ লেনদেন নিয়ে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে একাধিক টেক্সট বার্তা আদান–প্রদান করেছেন। এক বার্তায় কিম এক সহষড়যন্ত্রকারীকে লেখেন, দয়া করে কোরিয়ান সদস্যদের আগে ১০ হাজার ডলার দিয়ে দিন। অন্যদিকে ড্যানিয়েল লি লেখেন, আমি পেমেন্ট দিয়েছি এবং রোগীর জন্য খামটি টনি কিমের কাছে রেখে এসেছি। এসব বার্তা অবৈধ কিকব্যাক কার্যক্রমের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, অভিযুক্তরা অনেক সময় রয়্যাল ও হ্যাপি লাইফ সেন্টারের অনুমোদিত ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি সংখ্যক রোগীর জন্য ডে কেয়ার পরিষেবার বিল জমা দিয়েছেন। কিকব্যাক ও ঘুষ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ জোগাড় করতে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতেন। তদন্তে দেখা গেছে, এই প্রতারণার ফলে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে, যা মূলত অপ্রয়োজনীয়, অনাদায়ী বা অবৈধভাবে প্ররোচিত পরিষেবার বিপরীতে দাবি করা হয়েছিল।

ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, এ অভিযুক্তরা বয়স্কদের নগদ অর্থের লোভ দেখিয়ে ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ১২০ মিলিয়ন ডলার চুরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমাদের দফতর ফেডারেল কর্মসূচি সুরক্ষা এবং প্রতারকদের বিচারের আওতায় আনতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেলের (এইচএইচএস-ওআইজি) ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল স্কট জে. ল্যাম্পার্ট বলেন, ফার্মেসি ও সামাজিক অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারগুলোর উদ্দেশ্য হলো বয়স্কদের সেবা ও সহায়তা প্রদান করা, করদাতাদের অর্থ লুট করা নয়। এই ধরনের প্রতারণা আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা র্নষ্ট করে।

ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর ক্রিমিনাল ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক গ্রেগরি হিব বলেন, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডের মতো কর্মসূচিতে প্রতারণা সরাসরি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষের ক্ষতি করে। এফবিআই আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে মিলে এ ধরনের অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে কাজ চালিয়ে যাবে।

আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন নিউইয়র্কের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ হ্যারি টি. চ্যাভিস জুনিয়র জানান, অভিযুক্তরা একটি অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের আড়ালে ঘুষ, কিকব্যাক ও প্রতারণার জটিল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। তার ভাষায়, এই দশকব্যাপী প্রতারণায় ইনউ কিম ও ড্যানিয়েল লি মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড ব্যবস্থাকে ১২ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে ফেলেছেন।

নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাক্টিং মেডিকেইড ইন্সপেক্টর ফ্র‍্যাঙ্ক টি. ওয়ালশ জুনিয়র বলেন, মেডিকেইড প্রতারণা শুধু করদাতাদের অর্থ অপচয় করে না, এটি উপকারভোগীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। এই যৌথ উদ্যোগ প্রমাণ করে যে নিউইয়র্ক রাজ্য এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ইনউ কিম ও ড্যানিয়েল লির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে।

এই মামলার তদন্ত করছে এইচএইচএস-ওআইজি, এফবিআই, আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন এবং নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব দ্য স্টেট কম্পট্রোলার। বিচার বিভাগের ফ্রড সেকশনের ট্রায়াল অ্যাটর্নি প্যাট্রিক জে. ক্যাম্পবেল মামলাটি পরিচালনা করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের চলমান ‘হেলথ কেয়ার ফ্রড স্ট্রাইক ফোর্স’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই মামলা করা হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ছয় হাজারের বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যাদের মাধ্যমে ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে বিল করা অর্থের পরিমাণ ৪৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

শেয়ার করুন