নিউইয়র্কের জ্যাকব কে জাভিৎস ফেডারেল বিল্ডিংয়ে নিউইয়র্ক-ফেডারেল প্লাজা ইমিগ্রেশন কোর্টে শুনানির পর একজন পুরুষকে ফেডারেল কর্মকর্তারা আটক করছে
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিকে ঘিরে চলমান আইনি লড়াইয়ে বড় মোড় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলাকালে জামিন শুনানি ছাড়াই আটক রাখার অনুমতি দিয়েছে। এই রায়ের ফলে হাজারো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে গড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া এ রায়ে ফেডারেল আপিল আদালত জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস থাকুক বা না থাকুক তাদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিন ছাড়াই আটক রাখা যেতে পারে। আদালত নিম্ন আদালতগুলোর একাধিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়, যেখানে অভিবাসীদের জামিন শুনানি দেওয়ার নির্দেশ ছিল।
আদালতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আইনসম্মতভাবে প্রবেশ করেননি, তারা সবাই অ্যাপ্লিক্যান্ট ফর অ্যাডমিশন। এই সংজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তিরা যদি প্রমাণ করতে না পারেন যে তারা স্পষ্টভাবে ও সন্দেহাতীতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার যোগ্য, তবে তাঁদের আটক রাখা যেতে পারে। মামলাটি মূলত এমন দুই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে, যাদের ট্রাম্প প্রশাসন এ শ্রেণিতে ফেলেছে। রায়ে আদালত ১৯৯৬ সালের ইলিগ্যাল ইমিগ্রেশন রিফর্ম অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্ট রেসপনসিবিলিটি অ্যাক্ট -এর উল্লেখ করে জানায়, এই আইন অনুযায়ী সীমান্তে আত্মসমর্পণকারী এবং পরে ধরা পড়া অনথিভুক্ত অভিবাসীদের আইনি অবস্থান সমান। আগে সীমান্তে নিজে থেকে আসা ব্যক্তিরা বাধ্যতামূলক আটকের মুখে পড়লেও বহু বছর পর গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা জামিনের সুযোগ পেতেন। এ রায় সেই ব্যবধান কার্যত তুলে দিলো।
ফিফথ সার্কিটের বিচারকরা রায়ে স্পষ্টভাবে বলেন, আমরা জেলা আদালতগুলোর আদেশ বাতিল করছি এবং বন্ড শুনানি বা মুক্তির নির্দেশ প্রত্যাহার করছি। এর ফলে এখন বহিষ্কারের মুখে থাকা অধিকাংশ অভিবাসী জামিনের সুযোগ ছাড়াই আটক থাকতে পারেন।এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার চাপ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। মিনেসোটার ইউএস অ্যাটর্নি ড্যানিয়েল রোজেন জানান, অপারেশন মেট্রো সার্জ-এর পর থেকে তার দফতর অতিরিক্ত মামলার চাপে বিপর্যস্ত। বিচারকদের সময়সীমা মানতে গিয়ে এবং আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে আইনজীবীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
ফিফথ সার্কিট কোর্টের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে গেলেও বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হলে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য উঠতে পারে। ততদিন পর্যন্ত, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বড় একটি অংশ জামিন ছাড়াই আটক থাকার ঝুঁকিতে থাকবেন।