১০ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৪:০১:০১ পূর্বাহ্ন


নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি দেন জিয়াউর রহমান, শক্তিশালী করেন খালেদা জিয়া- রাষ্ট্রপতি
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৩-২০২৬
নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি দেন জিয়াউর রহমান, শক্তিশালী করেন খালেদা জিয়া- রাষ্ট্রপতি


ক্ষমতায়নের যে ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, সেটিকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী রূপ দিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে প্রথম নারী বিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া এটিকে বর্তমান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে ভিত্তিস্থাপন করেছিলেন, সেটিকে আরও শক্তিশালী ও সমযোপযোগী রূপ দেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। 


নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সচেষ্ট হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নানা পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এর সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।


মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সব আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের মহান আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন করা সম্ভব।


অনুষ্ঠানে নারী অধিকার রক্ষায় বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন মো. সাহাবুদ্দিন।


অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এ উদ্যোগ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ১৬ শতাংশ অবদান আসে গৃহস্থালির কাজ থেকে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প-সাহিত্য, কলকারখানা ও নির্মাণসহ সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান অসামান্য।


নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অতীতেও আমরা দেখেছি, সরকার আন্তরিক হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।


তিনি আরও বলেন, সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি বর্তমানে অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে।


এ সময় নারীশিক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিশ্বব্যাপী তাঁর স্বীকৃতি ও সুনামের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। নারী অধিকার রক্ষায় বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি। এ সময় নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপি সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।


এর আগে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে পুরস্কারটি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে গ্রহণ করেন তার নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।


আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অদম্য নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এবার মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে দেওয়া হয়েছে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীর পুরস্কার।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান বলেন, শত অত্যাচারেও বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অদম্য ও অবিচল। তিনি আরও বলেন, নারী এগিয়ে গেলে জাতিও এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ এমন দেশ হবে, যেখানে সব নারী নিরাপদ থাকবেন। নারী দিবস সাম্য, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারের হোক।

শেয়ার করুন