১৮ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৯:২৩:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মামদানি ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক যে কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতির কৌশলে ইমিগ্রেশন সুবিধা : ১১ ভারতীয় গ্রেফতার ঢাকা কলেজের ৮৫ প্রাক্তনদের ইফতার মাহফিল মিলনমেলায় পরিণত মার্কিন প্রতিবেদনে আরএসএস ও র’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ নিউইয়র্কে ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে কংগ্রেসম্যানের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা তারেক রহমানের ম্যাজিক কর্মসূচিতে মুগ্ধ মানুষ বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ


ট্যারিফ রিবেট নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নতুন বিল
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০৩-২০২৬
ট্যারিফ রিবেট নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নতুন বিল ট্যারিফ রিবেট


যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি শুল্ক বা ট্যারিফ থেকে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ট্যারিফ রিবেট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ৯ মার্চ সোমবার কংগ্রেসে উত্থাপিত দুটি নতুন বিল পাস হলে আমেরিকান করদাতারা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২ হাজার ডলারের পরিবর্তে কয়েকশ থেকে হাজার ডলার পর্যন্ত সরাসরি অর্থ সহায়তা পেতে পারেন। চলতি বছরের শুরুতে ইউএস সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আরোপিত অধিকাংশ ট্যারিফ বাতিল করে দেওয়ায় প্রশাসন বড় অঙ্কের রাজস্ব হারায় এবং তা পূরণে নতুন করে ট্যারিফ আরোপ করে। হোয়াইট হাউসের মতে, এই ট্যারিফ নীতি ভাঙা বাণিজ্য চুক্তি পুনর্গঠন, ওষুধের দাম কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হবে। তবে ডেমোক্র‍্যাটদের এক বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব শুল্কের প্রভাবে ২০২৬ সালে গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের ওপর প্রায় ২,৫১২ ডলারের অতিরিক্ত ব্যয় চাপতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

এই প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র‍্যাট কংগ্রেসম্যান হেনরি কুয়েলার ’আমেরিকান কনজিউমার ট্যারিফ রিবেট অ্যাক্ট’ বিল উত্থাপন করেন। বিলটিতে প্রায় ২৩১.৫ বিলিয়ন ডলার সরাসরি করদাতাদের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাব রয়েছে, যা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস ও জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির হিসাব অনুযায়ী ট্যারিফের কারণে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয়ের সমপরিমাণ। কুয়েলার বলেন, ট্যারিফ মূলত পরিবারের ওপর গোপন কর হিসেবে কাজ করে, কারণ আমদানির খরচ বাড়লে তা শেষ পর্যন্ত খাদ্য, জ্বালানি, গাড়ি, নির্মাণসামগ্রীসহ দৈনন্দিন পণ্যের দামে যুক্ত হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বার্ষিক ৪ লাখ ডলারের কম আয়কারীরা এই সুবিধা পাবেন; গড়ে একক ফাইলাররা প্রায় ১,০২০ ডলার, হেড অব হাউজহোল্ড ১,৫৩০ ডলার এবং যৌথভাবে ফাইলকারীরা ২,০৪০ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন, পাশাপাশি প্রতিটি সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ১২৫ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিলটি ইতোমধ্যে হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে সিনেটে মার্টিন হাইনরিখ “ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজের জন্য ট্যারিফ রিফান্ড অ্যাক্ট” উত্থাপন করেন, যার সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন নিউ জার্সির সিনেটরকোরি বুকার ও অ্যান্ডি কিম পাশাপাশি আরও কয়েকজন ডেমোক্র‍্যাট সিনেটর। এই বিলটি মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী পরিবারকে লক্ষ্য করে তৈরি। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৯০,০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা একক ফাইলার এবং ১২০,০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা হেড অব হাউজহোল্ডরা ৬০০ ডলার করে পাবেন, আর ১৮০,০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যৌথ ফাইলাররা ১,২০০ ডলার পেতে পারেন; প্রতিটি সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৬০০ ডলার দেওয়া হবে। ফলে চার সদস্যের একটি পরিবার সর্বোচ্চ ২,৪০০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। বিলটি সিনেট ফাইন্যান্স কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও, এর আগে রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি “আমেরিকান ওয়ার্কার রিবেট অ্যাক্ট ২০২৫” নামে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেখানে ন্যূনতম ৬০০ডলার রিবেট দেওয়ার কথা বলা হয়। একইভাবে কংগ্রেসম্যান টিম বারচেট, “ট্রাম্প ট্যারিফ রিবেট অ্যাক্ট” নামে আরেকটি বিল উত্থাপন করেন, যেখানে সরাসরি নগদ অর্থ না দিয়ে করছাড় বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ কর বছরে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হতে পারে। যৌথ ফাইলারদের জন্য ৪,০০০ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি, হেড অব হাউজহোল্ডদের জন্য ৩,০০০ ডলার এবং অন্যান্য করদাতাদের জন্য ২,০০০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে পুরো বিষয়টির সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে অর্থায়ন নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ট্যারিফ রাজস্ব কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় এই অর্থ আমদানিকারকদের ফেরত যাবে নাকি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে,তা এখনো পরিষ্কার নয়। ইতোমধ্যে কিছু কোম্পানি তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, তবে সাধারণ ভোক্তারা সেই অর্থের কতটা পাবেন তা অনিশ্চিত। ফলে প্রস্তাবিত ট্যারিফ রিবেট বাস্তবায়িত হলেও তা কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো রাজনৈতিক ও আইনি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

শেয়ার করুন