২৫ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৪:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন


ইতিহাসের শিক্ষা সরকার চর্চা করবে : তথ্যমন্ত্রী
দেশ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৩-২০২৬
ইতিহাসের শিক্ষা সরকার চর্চা করবে : তথ্যমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন


গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার সকালে ফিরে দেখা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন আগামী দিন গণমাধ্যমে যদি আমাদের সরকারের এই প্রতিশ্রুতিকে জনগণকে জানাতে পারেন আমি খুব খুশি হবো।

তিনি বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রী হিসেবে আমি গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে চাই যে, ইতিহাসের শিক্ষা আমাদের সরকার লাগাতারভাবে চর্চা করবে। আগামী দিন গণমাধ্যমে যদি আমাদের সরকারের এই প্রতিশ্রুতিকে জনগণকে জানাতে পারেন আমি খুব খুশি হবো। কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে, ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করা এবং তা চর্চা করার মধ্যেই সঠিক সুশাসনের গতি নির্ভর করে।

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভোটার বিহীন নির্বাচনের নাটকের ঘটনা এবং বিরোধী নেতা হিসেবে কারাবাসের কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনুরোধ করব- সেই সময়ের তিন তিনটি নির্বাচনের রাজনৈতিক সামাজিক প্রেক্ষাপটকে আরো অনেক বেশি বেশি করে পোস্টমর্টেম করতে হবে। ফ্যাসিবাদী মনোজগতের মূল উপাদান কোথায় থাকে আরো ভালো করে বুঝতে হবে। আমি যত বেশি বুঝবো জানবো তত বেশি ক্ষমতাসীন দল হিসাবে বা দলের নেতাকর্মী হিসাবে আমার মনোজগতকে বা আমাদের মনোজগতকে আমরা ভাইরাস মুক্ত রাখতে পারব।

এই অধ্যায়ন এবং এই ধরনের পুস্তক, এই ধরনের প্রকাশনা এটি হচ্ছে সমাজে এন্টিভাইরাস হিসেবে কাজ করবে যাতে যেই সমস্ত রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা আমরা ক্ষমতার নাড়াচাড়া করি বা করব তারা ওই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে পারব। যদি ‘ফিরে দেখা’ গ্রন্থের সেই সময়ের ইতিহাসের সঠিক শিক্ষাগুলিকে আমরা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারি।

২৪ মার্চ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ কনফারেন্স সেন্টারে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের লেখা ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনার এই অনুষ্ঠান হয়।

গ্রন্থের লেখক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরনের কর্ম উদ্যোগের প্রশংসা করেন তথ্য মন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশের বিতর্ক সংস্কৃতিকে অনেক বেশি জনপ্রিয় করেছেন। যে সমাজ বিতর্ককে ভয় পায়, যে সমাজ বিতর্ককে নাকচ করে, সেই সমাজ একটা জলাবদ্ধতায় আটকে যায়। বিশেষ করে তরুণ বয়স থেকেই নতুন প্রজন্মকে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিতর্ক এবং বিতর্ক করার জন্য যে ক্রিটিক্যাল এঙ্গেজমেন্ট, যে ক্রিটিক্যাল অবজারভেশন আমাদের উচিত আমাদের সন্তানদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা।

কনসার্ন করার মধ্যে কিন্তু কোন কৃতিত্ব নেই- সবকিছুতে হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ এটার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মের নবীজি বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই তিনি তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ধর্ম বিশ্বাসকে নাকচ করেই কিন্তু আজকের এই ধর্মের জন্ম হয়েছে। অতএব অন্ধের মত কোন কিছুকে মেনে নেওয়ার মধ্যে কিন্তু কোন কৃতিত্ব নাই। হ্যাঁ আমি মানতে রাজি আছি। কিন্তু তার আগে তো বুঝতে হবে আমাকে এবং বোঝাবুঝির জন্য যতটুকু বিতর্ক আমার করা উচিত ততটুকু বিতর্ক করার মুক্ত চিন্তা এবং সৎ সাহস সম্পন্ন নাগরিক তৈরি করাই হবে ফিরে দেখা সময় বইয়ের লেখকদের কাজ।

মোড়ক উন্মোচনের এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বইয়ের প্রকাশক সৈয়দ আবদাল আহমদ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, উন্মুক্ত ভিসি অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান, বাংলা ভিশন টেলিভিশনের হেড অব নিউজ আবদুল হাই সিদ্দিক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী।

শেয়ার করুন