০২ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন


ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীর বাড়িতে অগ্নিবোমা হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে পুলিশ ও অফবিআই
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৪-২০২৬
ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীর বাড়িতে অগ্নিবোমা হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে পুলিশ ও অফবিআই প্রো-ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী নেরদীন কিসওয়ানি


নিউ ইয়র্কে প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী নারদিন কিসওয়ানিকে হত্যার পরিকল্পনায় তার বাড়িতে অগ্নিবোমা হামলার একটি পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ পুলিশ ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের গোপন অভিযানের পর আলেকজান্ডার হাইফলার (২৬)কে নিউ জার্সির হবোকেনে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কিসওয়ানির বাড়িতে মলোটভ ককটেল বোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনা করছিলেন এবং হামলার আগে সেগুলো প্রস্তুত করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক আন্ডারকভার গোয়েন্দা কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযুক্তের ব্যবহৃত একটি গ্রুপ চ্যাটে প্রবেশ করে তার পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করে পরিকল্পনার বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, হেইফলার নিজেকে ‘জেডিএল ৬১৩ ব্রাদারহুড’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এ সংগঠনটি ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নিজেদের ‘ইহুদি যোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করে, যারা ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলে জানায়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হেইফলার কিসওয়ানির বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে সেখানে নজরদারি চালান এবং প্রায় এক ডজন অগ্নিবোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন। হামলার পর তিনি ইসরায়েলে পালিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানা গেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ২৬ বছর বয়সী আলেকজান্ডার হাইফলার–কে গ্রেফতার করা হয়েছে, যখন তিনি কিসওয়ানির বাড়িতে নিক্ষেপের জন্য মলোটভ ককটেল প্রস্তুত করছিলেন।

গত ২৬ মার্চ আন্ডারকভার গোয়েন্দার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় হেইফলারের কাছ থেকে মলোটভ ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ছিল অত্যন্ত দাহ্য অ্যালকোহল। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে মোট আটটি প্রস্তুতকৃত অগ্নিবোমা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় হেইফলারের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি ও সংরক্ষণ-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তিনি নিউ জার্সির একটি ফেডারেল আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে হাজির হয়েছেন। ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী নেরদিন কিসওয়ানি বলেন, আমার জীবনের ওপর হামলার এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ, তবে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বললে এ ধরনের হুমকি সবসময়ই থাকে। তিনি আরো জানান, এই ঘটনা তার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে বদলাবে না।

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা কোনো ধরনের সহিংস উগ্রবাদ সহ্য করবো না। কারও রাজনৈতিক মতামত বা আন্দোলনের কারণে তার ওপর হামলা হওয়া উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন কেয়ার নিউ ইয়র্কভিত্তিক ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী নারদিন কিসওয়ানি–এর বাড়িতে অগ্নিবোমা হামলার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে কেয়ার জানায়, আমরা ফিলিস্তিনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী নেরদিন কিসওয়ানির বাড়িতে অগ্নিবোমা হামলার অভিযোগকৃত পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাগত জানাই। আমাদের দেশে কোনো ব্যক্তিকে তার পরিচয়, মতামত বা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সহিংসতা বা ভয়ভীতির মুখে পড়তে হওয়া উচিত নয়।

এ উদ্বেগজনক ঘটনা প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার ও অন্যান্য সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি, হুমকি ও সহিংসতার প্রবণতা বাড়ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তির নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলে না, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের মৌলিক অধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আমরা এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সব সম্প্রদায়কে ঘৃণাজনিত সহিংসতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অব্যাহত সতর্কতা কামনা করছি। একই সঙ্গে জননেতা ও কমিউনিটি নেতাদের এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে, যা সহিংসতা ও বৈষম্য উসকে দিতে পারে।

এদিকে নেরদিন কিসওয়ানি দাবি করেছেন, কিছু প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাকে লক্ষ্য করে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছে। যদিও অভিযুক্তের সঙ্গে এসব সংগঠনের সরাসরি কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনাকে নিউ ইয়র্ক পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের একটি সফল অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সম্ভাব্য একটি বড় সহিংসতা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

শেয়ার করুন