ইউনাইটেড ইসলামিক সেন্টার অব অ্যারিজোনা
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় এসেছে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্লেনডেল শহরের একটি মসজিদে হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কেয়ারের অ্যারিজোনা শাখা গ্লেনডেল শহরের একটি মসজিদে পাঠানো ওই চিঠির ঘটনায় তা ঘৃণাজনিত অপরাধ (হেট ক্রাইম) হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থার প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, গ্লেনডেল শহরের ইউনাইটেড ইসলামিক সেন্টার অব অ্যারিজোনা-এ পাঠানো ওই চিঠিতে লেখা ছিল, আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যাও। চিঠির সঙ্গে শূকরের মাংস (বেকন) রাখা হয়েছিল, যা মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
কেয়ার অ্যারিজোনার নির্বাহী পরিচালক আজ্জা আবু সেইফ বলেন, এ ইসলামবিদ্বেষী ও হুমকিমূলক কর্মকা- অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে ভয়ভীতি প্রদর্শনের স্পষ্ট চেষ্টা। তিনি আরো বলেন, আমরা স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য এবং ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, যেন ঘটনাটি সম্ভাব্য হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করা হয় এবং মসজিদ ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।কেয়ার অ্যারিজোনা জননেতা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ঘৃণামূলক কর্মকান্ডে বিরুদ্ধে সরব হন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত সপ্তাহে ফিনিক্স শহরের একটি মসজিদে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ঘটনাকে স্বাগত জানায় কেয়ার অ্যারিজোনা। এছাড়া টেম্পে শহরে মুসলিম শিক্ষার্থীদের স্থাপন করা রমজানের প্রতীকী অর্ধচন্দ্র প্রদর্শনী ভাঙচুরের ঘটনায়ও সংস্থাটি হেট ক্রাইম তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
কেয়ার অ্যারিজোনা অ্যারিজোনায় প্রস্তাবিত এসবি ১০১৮ বিলের বিরোধিতা করেছে, যা তথাকথিত শরিয়া আইন নিষিদ্ধ করার কথা বলে। সংস্থার মতে, এই বিলটি অসাংবিধানিক এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। সংস্থাটি আরো দাবি করেছে, সারা দেশে অ্যান্টি-শরিয়া বিলগুলোর পুনরুত্থান ইসলামভীতি (ইসলামোফোবিয়া) উসকে দেওয়ার একটি সমন্বিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। কেয়ারের সাম্প্রতিক নাগরিক অধিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিমবিরোধী বৈষম্য ও ঘৃণার অভিযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশব্যাপী একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় সহনশীলতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।