০৩ জুন ২০২৬, বুধবার, ১১:১৬:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাত্র এক ডোজেই কমতে পারে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত খারাপ কোলেস্টেরল নিউ ইয়র্কের ফোনমুক্ত স্কুলে কমেছে বুলিং আরবি ভাষা ও শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারো বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ভিসা : দুইবারের বেশি দূতাবাসে যেতে হবে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ : তারেক রহমানের ‘না’ সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের


নিউ ইয়র্কে স্ন্যাপ সংকট এড়াতে ২ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে সহায়তা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
নিউ ইয়র্কে স্ন্যাপ সংকট এড়াতে ২ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে সহায়তা স্ন্যাপ


নিউ ইয়র্ক সিটিতে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (স্ন্যাপ) ঘিরে নতুন ফেডারেল কর্মনীতি কার্যকর হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে পড়লেও সিটি প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগে ইতিমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার নিউ ইয়র্কবাসী তাদের সুবিধা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। গত সোমবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়, নতুন ফেডারেল যোগ্যতা শর্ত কার্যকর হওয়ার পর সিটি প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর সমন্বিতভাবে কাজ করে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকিতে থাকা মানুষের স্ন্যাপ সুবিধা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ৪০ হাজার মানুষ খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন ফেডারেল আইন এইচআর-১-এর অধীনে অনেক আগের ছাড় বাতিল করা হয়েছে, বিশেষ করে গৃহহীন ব্যক্তি, সাবেক সামরিক সদস্য এবং ফস্টার কেয়ার থেকে বের হওয়া তরুণদের জন্য স্বয়ংক্রিয় ছাড় আর কার্যকর নেই। এতে অনেক নিম্ন আয়ের মানুষকে নতুন করে কাজের ঘণ্টা বা প্রশিক্ষণ প্রমাণ করতে হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে। অর্থাৎ নিউ ইয়র্ক সিটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কোনো না কোনোভাবে স্ন্যাপ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

মেয়র মামদানি বলেন, খাদ্য সহায়তার কাজের শর্ত মানুষকে চাকরি দেয় না, বরং ক্ষুধা তৈরি করে। যারা ইতিমধ্যে কষ্টে আছে তাদের শাস্তি দেওয়া সমাধান নয়। তিনি আরো বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটি কোনো বাসিন্দাকে খাদ্য সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেবে না এবং প্রয়োজনীয় সব সংস্থান ব্যবহার করা হবে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, স্ন্যাপ সুবিধাভোগীদের মধ্যে অধিকাংশই ইতিমধ্যে কাজ করছেন। পরিসংখ্যান বলছে, একক প্রাপ্তবয়স্ক সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৮২ শতাংশ আয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং শিশু থাকা পরিবারের ৯১ শতাংশ পরিবারে কর্মসংস্থান রয়েছে।

সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল সার্ভিসেস (ডিএসএস), হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস, হোমলেস সার্ভিসেস বিভাগ, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক (সিইউএনওয়াই) এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন দফতর একযোগে কাজ করে ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের শনাক্ত, নথিপত্র যাচাই এবং যোগ্যতা প্রমাণে সহায়তা করছে।

সিটি কর্মকর্তারা জানান, দরজায় দরজায় প্রচারণা, ফোন কল, টেক্সট মেসেজ এবং কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে ব্যাপক আউটরিচ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে শতাধিক কমিউনিটি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে এবং হাজারো মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছানো হয়েছে।

ডিএসএস কমিশনার এরিন ডালটন বলেন, এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে যে বিভিন্ন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করলে সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করা সম্ভব। তিনি জানান, নাগরিকদের যেকোনো সমস্যা হলে ৭১৮ স্ন্যাপ নাউ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৩ হাজার ৫০০ নিউ ইয়র্কবাসী এখনো তাৎক্ষণিকভাবে স্ন্যাপ সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক এবং পুরুষদের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরা ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এবং মোট ঝুঁকিতে থাকা মানুষের প্রায় ৬০ শতাংশ পুরুষ।

সিটি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী অনেককে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ঘণ্টা কাজ বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রমাণ দিতে হবে। তা না করলে ধাপে ধাপে সুবিধা কমে যেতে পারে। সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, এ সংকট মোকাবিলায় প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং আগামী মাসগুলোতে আরো বিস্তৃত আউটরিচ কর্মসূচি চালানো হবে, যাতে কেউ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।স্ন্যাপ সুবিধাভোগীরা যদি নিশ্চিত না হন যে তারা কাজের শর্তের আওতায় পড়েন কি না, অথবা শর্ত পূরণে সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে তারা ৭১৮ ৭৬২ ৭৬৬৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। নিউ ইয়র্কবাসীরা তথ্য জানার জন্য অ্যাকসেস এইচআরএ অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন অথবা এনওয়াইসি ডট গভ সø্যাশ অ্যাকসেস এইচআরএ ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।

শেয়ার করুন