বাংলাদেশের নগর, শহর, গ্রাম, বন্দরে কাল ধর্ম, বর্ণ, শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সব স্তরের নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করেছে বাংলা নববর্ষ।
রমনার বটমূল থেকে সূচিত বর্ষ বরণ উৎসব, চারুকলা ইনস্টিটিউট আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রা, রবীন্দ্র স্মরণীর আয়োজন, সুরের মেলা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের আয়োজন, বৈশাখীমেলায় সারাদিন রাজধানী ঢাকা মেতে ছিল আনন্দের ফল্গুধারায়। চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, যশোর, রংপুর, কুষ্টিয়া এমনকি প্রান্তিক শহরগুলোতেও বৈশাখী আয়োজনে মেতেছে দেশবাসী। দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার বাঙালি অধ্যুষিত নগরীগুলোতেও পালিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব।
স্মরণে থাকতে পারে বিগত ১৮ মাস যাবৎ অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে চড়ে একটি উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী বাঙালির ইতিহাস আর ঐতিহ্য মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে ছিল। ছায়ানট, উদীচীসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে চালিয়েছিল মব সন্ত্রাস। এবারের প্রাণপ্রাচুর্যে উদ্ভাসিত আয়োজন সে দেশবিরোধী, সমাজবিরোধী মৌলবাদী গোষ্ঠীর জন্য চপোট আঘাত বলে মনে করি।
আশা করি, বিএনপি সরকার এখান থেকে ইঙ্গিত পেয়ে যাবে দেয়ালে পিঠ থেকে গেলে বাংলাদেশের বাঙালিরা রাজপথে দেশের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে জেগে উঠতে কুণ্ঠিত হয় না।
আমি অনুরোধ করবো, তারুণ্যের এ জোয়ার সঠিক পথে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় কাজে লাগানোর। তরুণ, কিশোর, যুবকদের অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশ উন্নয়নের কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। পাড়া-মহল্লায় মশক নিধন, মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ, গ্রামগঞ্জে স্বল্পশিক্ষিত নাগরিকদের আধুনিক বিজ্ঞানের দীক্ষা প্রদানে তরুণ সমাজকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হলে দেশ-জাতির বিশাল উপকার হবে, জানি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে অনেক সুপ্ত প্রতিভা।
যাদের অনুসদ্ধান করে উন্মুক্ত পরিবেশে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে জাতি সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে উঠবে। নববর্ষ ঘিরে আগামী দিনে দেশব্যাপী গ্রামীণ খেলাধুলার ব্যাপক আয়োজনের অনুরোধ করছি। আমি নিশ্চিত জনগণ ব্যাপকভাবে সারা দেবে।
এবারের বর্ষবরণ উৎসব প্রমাণ করলো বাংলাদেশে ধ্বংসাত্মক দেশবিরোধী সংস্কৃতিবিরোধী উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর কোনো অবস্থান নেই।