০৯ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ০১:৪৯:৬ পূর্বাহ্ন


বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আখতার উল ইসলাম আর নেই
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০১-২০২৬
বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আখতার উল ইসলাম আর নেই বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আখতার উল ইসলাম


জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, দেশে ও প্রবাসের প্রিয় মুখ, সবার প্রিয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আখতার উল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি রোববার সকাল ৯টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নিজের বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মরণব্যাধি ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আগের রাত পর্যন্তও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। কথা বলেছেন জীবন নিয়ে, পরিবারের সদস্যদের দেখতে আসা এবং চলে যাবার কথা লিখেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসা কেন্দ্রের এক সেবিকা ওষুধ দিতে এগিয়ে গিয়ে বুঝতে পারেন-আখতার উল ইসলাম আর নেই ।

তিনি জানতেন তার শারীরিক অবস্থার কথা। জানতেন সময় ফুরিয়ে আসছে। গত কয়েকদিনের লেখালেখিতে বারবার ফুটে উঠছিল বেঁচে থাকার আকুতি, স্বজন-পরিজনের কাছে প্রার্থনার অনুরোধ। সেই লেখাগুলো এখন আর লেখা নয়, শেষ বিদায়ের চিঠি। শনিবার তিনি মাদার তেরেসার উক্তি লিখেছিলেন, তুমি যদি দৃশ্যমান মানুষকে ভালবাসতে না পারো, তবে অদৃশ্য ঈশ্বরকে কি করে ভালোবাসবে? আরো লিখেছিলেন-ইয়া আল্লাহ, যা কিছু আমার জন্য কল্যাণকর তা আমাকে দান করুন। আর যা কিছু আমার জন্য অকল্যাণকর তা থেকে আমাকে হেফাজত করুন, আমিন।

মরহুম আখতার উল ইসলাম ৭৪ বছর বয়সে রেখে গেছেন দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর, শেখপাড়া গ্রামের সভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আখতার উল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই একজন ছাত্রনেতা হিসেবে জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। 

আগ্নিঝরা যৌবনে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। জীবনের পথে তিনি শিক্ষকতা করেছেন, সরকারি চাকরি করেছেন, শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনসহ সমসাময়িক অনেকের সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তিনি ছিলেন লেখকও। নিজের বাড়ির পাশ দিয়ে ’বয়ে যাওয়া কুড়া নদি’ নামক গ্রন্থে লিখে গেছেন নিজের জীবনের নানা পর্যায়ের কথা। বইয়ের নামের মতোই তার জীবনও বয়ে চলেছিল- নীরবে, গভীরভাবে।

নিউইয়র্কে প্রবাসী হওয়ার পর তিনি এখানকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক জগতের অনেকের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। 

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামাজে জানাজা ৫ জানুয়ারি সোমবার জোহরের নামাজের পর নিউইয়র্ক লং আইল্যান্ড দারুল কোরআন মসজিদে (1514 E 3rd Ave, Bay Shore,0 NY 11706)। অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নিকটবর্তী মুসলিম কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। মরহুমের অনুজ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহসভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

শেখ আখতার উল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দেশে বিদেশে স্বজন-পরিজন অনুরাগী অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিউইয়র্কস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, এমসি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, লেখক সাংবাদিক এবং সাবেক ছাত্রনেতা রহমান মাহবুব, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল গনি আসাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, গ্লোবাল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মঈনুল হক চৌধুরী হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ উতবা শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন