২০ মে ২০২৬, বুধবার, ০৪:১২:৫২ অপরাহ্ন


অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার ঢাকা-ওয়াশিংটনের
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-০৫-২০২৬
অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার ঢাকা-ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাথে বৈঠক


প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ নানা বিষয়ে সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৮ মে সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী এস. পল কাপুর। সেখানে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন তারা। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্রমোন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা ও ওয়াশিংটন।

বৈঠকে দুই দেশ সম্পর্কের গতি ধরে রাখতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপের গুরুত্বও তুলে ধরে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্ড্রু ভেপ্রেকের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে অব্যাহত সমর্থনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে উভয় পক্ষ রোহিঙ্গাদের টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়।

সরকারি বৈঠকের বাইরে শামা ওবায়েদ ইসলাম ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল টুয়াইনিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে আইআরআই’র দীর্ঘদিনের ভূমিকা, বিশেষ করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র, যুব ক্ষমতায়ন, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। পরে আটলান্টিক কাউন্সিলে এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা এবং বাস্তবধর্মী পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্বের সমপ্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

আলোচনা শেষে আটলান্টিক কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনা বেন-ইয়েহুদার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি সাংবিধানিক গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, সংখ্যালঘু অধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী ভারসাম্যপূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ ধারণা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি। বাংলাদেশ দূতাবাস, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, আইআরআই ও আটলান্টিক কাউন্সিলের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন।

শেয়ার করুন