২০ মে ২০২৬, বুধবার, ০৩:৩৭:২১ অপরাহ্ন


ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হচ্ছে ইউনূস সরকারের অপশাসনের কলঙ্ক
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-০৫-২০২৬
ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হচ্ছে ইউনূস সরকারের অপশাসনের কলঙ্ক অন্তর্বর্তী সরকারের বৈঠক


বাংলাদেশের অনেক মানুষই চেয়েছিলেন, দলীয় সরকারের চেয়ে ইউনূস সরকারটা বরং কন্টিনিউ করুক! এরা নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্র কাঠামো পরিচালনা করলে দুর্নীতি হবে না। রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে দ্রুত। তাছাড়া ইউনূসের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী। বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে উন্নতির দিকে। চাওয়াটা এমনই ছিল। কিন্তু দেশের একটি দলের লোকজনকে প্রধান্য দেওয়া ও নিরপেক্ষর নামে স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর লোকজনকে যখন বিভিন্ন স্থানে স্বৈরাচারের দোসর অ্যাখ্যা দিয়ে পূর্বের সরকারের দলীয় বা দক্ষ যেটাই হোক, তাদের সরিয়ে সেখানে বসানো হয়, এতে মানুষ ধীরে ধীরে বিরক্ত হতে থাকে। ফুটে উঠতে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের আসল রূপ। অদক্ষতা, গোড়ামির সঙ্গে প্রশ্রয় দেওয়া হয় মব, সন্ত্রাসকে। মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত্র হয়ে ওঠে। মানুষ মুক্তি খোঁজার চেষ্টা শুরু করে। 

এর আগে ছাত্রদের নিরীহ গোছের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট অরাজক পরিস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা মেটিকুলাস পরিকল্পনায় শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বের অনির্বাচিত সরকার আগস্ট ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সাল পর্যন্ত সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসে। এ সময়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি বিহীন সরকারের অপশাসন আর দুর্নীতির কারণে জাতীয় জীবন এবং সমাজ জীবনে ব্যাপক অশুভ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

নির্বাচনে পর নতুন সরকার আসার পর তিন মাসের মাথায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক দুর্নীতি, অযোগ্যতা, অদক্ষতার ফল মানুষ ভোগ করতে শুরু করেছে। এরমধ্যে প্রয়োজনীয় সময় হামের টিকা আমদানি না করে ভয়াবহতা সৃষ্টি করেছে। শত শত বাচ্চা মারা যাচ্ছে টিকার অভাবে। অনেকটাই মহামারি সৃষ্টি হওয়ার উপক্রম। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে মানুষ এখন আদালতে একের পর রিট দায়ের করছে। এমনকি ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়েও রিট হয়েছে। বিএনপি জোট নেতৃত্বের নতুন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে সংকটাপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে পড়েছে উভয় সঙ্কটে।

হামের টিকা ক্রয়/সংগ্রহ স্থগিত রাখার কারণে সক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় ইতিমধ্যেই ৬০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একসময় বাংলাদেশ টিকা প্রদানে বিশ্বনেতা ছিল। সে দেশ কেন ১৮ মাসে টিকার সংকট এবং ভিটামিন এ প্রণোদনার অভাবে সংকটে পড়লো সেটি অবশ্যই অনুসন্ধান করে বিচার করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।

আইন আর বিধির তোয়াক্কা না করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ দেশের স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। অনেকের মতে চুক্তির বেশ কিছু ধারা দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চুক্তি বর্তমান নির্বাচিত সরকার দ্রুত সংসদে আলোচনা করে বিচার বিশ্লেষণ করে বাতিল বা সংশোধন না করা হলে বাংলাদেশ জ্বালানি, কৃষি, ওষুধশিল্প এবং বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞ মহল। পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারের কথিত দুর্নীতি আর অনাচার নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করলেও অন্তর্বর্তী সরকার একটি দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে চালু থাকা অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাতিল করে জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটকে ঘনীভূত করেছে। আনাড়ি ব্যবস্থাপনার কারণে শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষি সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক অরাজকতা সামাল দিয়ে জনজীবনে স্বস্তি আনতে হিমশিম খাচ্ছে নতুন সরকার। বিএনপি সরকার অনেকটা বাধ্য হয়েই বহাল রেখেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম পরামর্শককে গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। উপরন্তু সংসদকে অন্ধকারে রেখেই ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে জ্বালানি বিদ্যুৎ বিষয়ে স্বাক্ষর করেছে এমওইউ। অথচ জুলাই আগস্ট পরিবর্তনের পর জনপ্রত্যাশা ছিল দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। কিন্তু অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন আনাড়ি সরকারের অপশাসন এবং দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ এখন সার্বিক সংকটে।

এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ইরান আক্রমণের পর থেকে আরব দেশ এবং উপসাগরীয় দেশে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে। নতুন সংকট ভূরাাজনীতির দূষিত প্রভাবে শ্যাম রাখি না কুল রাখি দোলক দোলায় দুলছে। ২০২৬, ২০২৭ দুঃসহ সময় সামাল দিয়ে দেশের অর্থনীতি আর শিল্প বাণিজ্যে সৃষ্ট সংকট দূর করতে সরকারকে নির্মোহভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অপশাসন আর দুর্নীতির অনুসন্ধান এবং বিচার করতে হবে। মোচন করতে হবে কলঙ্ক।

শেয়ার করুন