নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ব্রঙ্কসে সাশ্রয়ী আবাসন সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি গত ১৩ মে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও লিজিং প্রক্রিয়া দ্রুত করতে একগুচ্ছ সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত নতুন আবাসন তৈরি এবং যোগ্য বাসিন্দাদের হাতে ফ্ল্যাট তুলে দেওয়া। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাশ্রয়ী আবাসনের লটারির আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বর্তমান ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিনে আনা হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াও আরো দ্রুত করা হবে, যাতে মানুষ কম সময়ে অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে পারেন। ব্রঙ্কসে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি বলেন, নিউ ইয়র্কে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রে আরো বিলম্ব চান। তাই শহরের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিটি প্রক্রিয়াকে আরো কার্যকর করতে আমরা কাজ করছি। বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সিটি তীব্র আবাসন সংকটের মুখোমুখি। শহরের আবাসন খালি থাকার হার মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে বাড়ছে রিয়েল এস্টেটের দাম ও মূল্যস্ফীতি, কিন্তু সেই তুলনায় নতুন আবাসনের সরবরাহ বাড়ছে না।
নতুন সংস্কারের আওতায় আবাসন নির্মাণের সময়ও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রি-সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করা, ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম পরিদর্শন দ্রুত করা এবং জরুরি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা। এছাড়া গৃহহীন নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্য স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে লিজিং প্রক্রিয়াও সহজ করা হবে। এই উদ্যোগ স্ট্রিমলাইনিং প্রসিডিউরস টু এক্সপিডাইট ইকুইটেবল ডেভেলপমেন্ট নামের একটি বিশেষ টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। মেয়র মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই এই টাস্কফোর্স গঠন করেছিলেন। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো আবাসন উন্নয়নের প্রতিটি ধাপের জটিলতা কমিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা। প্রশাসনের দাবি, নতুন সংস্কারের ফলে সব ধরনের সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের সময়সীমা গড়ে আট মাস কমে যাবে। আর যেসব প্রকল্পে জোনিং পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে সময় কমতে পারে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত।
মেয়র মামদানি বলেন, এই বিলম্ব অনিবার্য নয়। এটি ভাঙা প্রশাসনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবের ফল। নিউ ইয়র্কবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে পারে না, যখন প্রকল্পগুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে থাকে। কী থাকছে স্ট্রিমলাইনিং প্রসিডিউরস টু এক্সপিডাইট ইকুইটেবল ডেভেলপমেন্ট সংস্কারে নতুন সংস্কার পরিকল্পনা আবাসন উন্নয়নের চারটি বড় ধাপকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশগত পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা, প্রি-ডেভেলপমেন্ট ও অর্থায়ন, পারমিট ও অনুমোদন, মার্কেটিং ও লিজিং প্রক্রিয়া। প্রশাসন জানিয়েছে, জোনিং পরিবর্তন প্রয়োজন এমন প্রকল্পের প্রি-সার্টিফিকেশন সময় দুই বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাসে নামিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে নতুন নির্মাণ ও অফিস ভবনকে আবাসিকে রূপান্তরের পারমিট প্রক্রিয়াও প্রায় পাঁচ মাস দ্রুত করা হবে।
সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শহরের হাউজিং লটারি সিস্টেমে পরিবর্তন আনা। প্রশাসন বলছে, বর্তমান হাউজিং কানেক্ট ব্যবস্থা আরো সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা হবে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণ শেষ হওয়ার পর বাসিন্দাদের ফ্ল্যাটে উঠতে যে সময় লাগে, তা ২১০ দিন থেকে কমিয়ে ১০০ দিনের নিচে আনা হবে। আবেদন অনুমোদনের সময়ও অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনা লেভি বলেন, আমাদের আবাসন সংকট দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করে। আবেদন অনুমোদনের সময় ১০০ দিনের নিচে নামিয়ে আনতে পারলে পরিবারগুলো দ্রুত নতুন বাসায় উঠতে পারবে।
মেয়র মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে স্ট্রিমলাইনিং প্রসিডিউরস টু এক্সপিডাইট ইকুইটেবল ডেভেলপমেন্ট টাস্কফোর্স গঠন করেন। এ টাস্কফোর্স ১০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ, নির্মাতা, ডেভেলপার, শ্রম সংগঠন ও আবাসন অধিকারকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং ৫০০-এর বেশি সুপারিশ সংগ্রহ করে। প্রশাসন জানিয়েছে, এসব সংস্কারের জন্য নতুন কোনো আইন পাস করার প্রয়োজন হবে না এবং শহরের বিদ্যমান অনুমোদন প্রক্রিয়াও বহাল থাকবে।
শহরের হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিশনার দীনা দিনা লেভি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই প্রথম ধাপের সংস্কার কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, সাশ্রয়ী আবাসনে প্রবেশের বর্তমান প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল। আমরা প্রচুর আবাসন তৈরি করছি, কিন্তু সেগুলো দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছি না। মেয়রের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশংসা পেয়েছে। স্টিভ ফুলপ বলেন, এটি সঠিক পদক্ষেপ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মেয়র মামদানিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। এছাড়া অ্যান্ড্রু রেইন মন্তব্য করেন, দ্রুত আবাসন নির্মাণ ও বরাদ্দ খরচ কমাবে এবং মানুষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় বাসস্থানে পৌঁছে দেবে। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, এসব সংস্কার বাস্তবায়নে নতুন কোনো সিটি বা স্টেট আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না।
এই উদ্যোগকে নিউ ইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মকর্তারা। মার্ক লেভিন বলেন, আবাসন সংকট সমাধানে প্রতিটি ধাপে বাধা কমানো জরুরি। স্ট্রিমলাইনিং প্রসিডিউরস টু এক্সপিডাইট ইকুইটেবল ডেভেলপমেন্ট সংস্কার ঠিক সেটাই করছে। স্টিভেন ফুলপ মন্তব্য করেন, নিউ ইয়র্কের আবাসন সংকট মূলত সময় ও সরবরাহ দুইয়ের সংকট। স্ট্রিমলাইনিং প্রসিডিউরস টু এক্সপিডাইট ইকুইটেবল ডেভেলপমেন্ট সংস্কার এ সমস্যার কেন্দ্রে আঘাত করেছে।
অন্যদিকে জেমস হুইলান বলেন, পারমিট ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এ উদ্যোগ শহরে নতুন আবাসন নির্মাণকে উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করবে। নিউ ইয়র্কে বাড়তি ভাড়া, কম আবাসন সরবরাহ এবং ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন ভ্যাকেন্সি রেটের মধ্যে এ উদ্যোগ শহরের আবাসন সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।